BREAKING NEWS

১৭  আষাঢ়  ১৪২৯  শনিবার ২ জুলাই ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

দাউদের পাক-ঠিকানায় ভারতের নজর ৩০ বছর ধরে

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 25, 2016 1:53 pm|    Updated: August 25, 2016 1:53 pm

UN virtually confirms six addresses of Dawood Ibrahim

তপন বকসি: রাষ্ট্রসংঘের কাছে জমা দেওয়া দাউদ ইব্রাহিমের পাকিস্তানের মোট ন’টি ঠিকানার তিনটিকে ভুল বলেছিল আন্তর্জাতিক সংস্থা৷ তার মধ্যে ইসলামবাদের মারগাল্লা রোডের ঠিকানা পাক রাষ্ট্রদূত মালিয়া লোধির বলে প্রমাণিত হয়েছে৷ করাচির ক্লিফটন আর ডিফেন্স হাউসিং অঞ্চলের ঠিকানা দু’টিও দাউদের নয় বলে জানিয়েছিল রাষ্ট্রসংঘ৷ এর মধ্যে মারগাল্লা রোডের বাড়িটির ঠিকানা পাক রাষ্ট্রদূতের বলে মেনে নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অফিসাররা৷ বাকি ঠিকানাগুলিকে তাঁরা ভুল হিসাবে মেনে নিচ্ছেন না৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অফিসারদের মতে, পাকিস্তানে দাউদ মাঝেমাঝেই ঠিকানা বদলায় নিজের নিরাপত্তার জন্য৷ বাকি দু’টি ঠিকানা আগে দাউদেরই ছিল৷ পরে সেগুলিতে অন্যরা থাকতে আসেন৷

ভারতেরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, দিল্লি ও মুম্বই পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অফিসাররা ‘র’, সিবিআই, এনআইএ-র অফিসাররা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে দাউদের অস্তিত্বের উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে চলেছেন৷ এই নজরদারি ’৯৩ সালের মুম্বইয়ের ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের পর থেকে চলে আসছে আরও জোরদার ভাবে৷ মুম্বই পুলিশের গোয়েন্দা দফতরের রেকর্ড থেকেই জানা যাচ্ছে, ১৯৯৯ সালে একজন মহিলা শিশু ম্যাসাজ থেরাপিস্ট পাকিস্তানে থেকে দাউদের নির্দেশমতো সেখানে রওনা দিয়েছিলেন৷

ফিরে আসার পর ধরা হয়েছিল সেই শিশু ম্যাসাজ থেরাপিস্টকে৷ পুলিশি জেরায় সেই মহিলা ম্যাসিওর স্বীকার করেছিলেন তিনি করাচিতে ক্লিফটনে মঈন প্যালেসে দাউদের বাড়িতে চার মাস ছিলেন৷ দাউদের পরিবারে এক নবজাতকের থেরাপির জন্য ডাক পড়েছিল তাঁর৷ তাঁর মুখ থেকেই শোনা যায়, পাকিস্তানের ক্লিফটনের বাংলোটি কমপক্ষে দু’ডজন সশস্ত্র রক্ষী ও পাকিস্তানের অবসর নেওয়া আর্মি আফিসাররা ঘিরে থাকতেন সব সময়৷ পুলিশি জেরায় সেই মহিলা স্বীকার করেছিলেন যে, মুম্বই থেকে দাউদের বোন হাসিনা পার্কার (এখন বেঁচে নেই) তাঁকে পাকিস্তানের দাউদের কাছে পাঠিয়েছিলেন৷

ওই মহিলা ছাড়াও মুম্বই পুলিশের জেরার মুখে পাকিস্তানে দাউদের ড্রাইভার হিসাবে কাজ করা করিমুল্লা খান, ’৯৩-এর ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের অন্যতম অভিযুক্ত ফিরোজ আবদুল রশিদ ওরফে হামজা ২০০৮ সালে মুম্বই পুলিশের গোয়েন্দা দফতরকে দাউদের পাকিস্তানের অনেকগুলি ঠিকানা বা বসবাসের বিশদ বিবরণ দেন৷ এতদিন দাউদের রাষ্ট্রসংঘের কাছে জমা থাকা নথিতে দাউদের জন্মস্থান ছিল ‘বোম্বাই’৷ এখন তা বদলে হয়েছে মহারাষ্ট্রের খেড় জেলার ‘রত্নাগিরি’৷ মাফিয়া ডনের সঙ্গীদের নামের তালিকায় যোগ হয়েছে শেখ ফারুকি, বড়া শেঠ, বড়া ভাই, ইকবাল ভাই, মুচ্ছড় ও হাজি সাহেবের নাম৷ ১৯৮৬ সালের পর থেকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নজরদারিতে দাউদের ঠিকানা ও পরিবর্তিত ঠিকানার হদিশ রয়েছে সব সময়৷ গত তিন দশকে একাধিক বার বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, কসমেটিক সার্জারি করে দাউদ নিজের চেহারা বদলে ফেলেছে৷ সম্প্রতি রটেছিল একটি বড় দুঘর্টনার জেরে দাউদের দুটি পায়েই মারাত্মক গ্যাংগ্রিন হয়৷ তার দুটি পা’ই কেটে বাদ দিতে হতে পারে৷ যদিও অনুগামী ছোটা শাকিল নেটে বিবৃতি দেয়, “ভাইয়ের এরকম কোনও কিছু হয়নি৷ গোটাটাই ভারতীয় গোয়েন্দাদের রটনা৷”

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে