BREAKING NEWS

১ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

খুনিদের শাস্তি চেয়ে ছেলের মূর্তিতে মালা দেন মা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 17, 2016 8:53 am|    Updated: July 17, 2016 8:53 am

An Images

বাবুল হক:  ছাপোষা বাড়ির উঠোনেই স্কুলের পোশাক পরা এক কিশোরের মূর্তি৷ প্রতিদিন সে মূর্তিকে সন্তানস্নেহে স্নান করিয়ে, মালা পরিয়ে দেন সন্ধ্যারানিদেবী৷ আর সামনে দাঁড়িয়ে কী যেন প্রার্থনা করেন৷ ঠাকুর-দেবতা নয়, কেন এই কিশোরের মূর্তির প্রতি এত টান তাঁর? আসলে এ মূর্তি যে তাঁরই সন্তানের৷ সাড়ে চার বছর আগে দুষ্কৃতীদের হাতে যাকে খুন হতে হয়েছে৷ খুনেরা এখন জামিন পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যেই৷ ছেলের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে সন্তানহারা মায়ের তাই একটাই প্রার্থনা, ওদের শাস্তি হোক৷

মালদহের কালিয়াচক থানার রামনগর৷ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা৷ ২০১১ সালের ১ নভেম্বর এই গ্রামেই দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বিশ্বজিৎ মণ্ডল (১৫)৷ পুজোর প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে গ্রামেরই এক শিক্ষক অরুণ মণ্ডলের সঙ্গে প্রতিবেশী এক কৃষক অমূল্য মণ্ডলের বচসা হয়৷ তার জেরেই অমূল্যবাবুর টিউশনি-ফেরত ছেলে বিশ্বজিত্কে দুষ্কৃতীরা প্রকাশ্যেই কুপিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ৷ ছাত্র খুনের ঘটনার প্রতিবাদে সেই সময় সীমান্ত গ্রামের বাসিন্দারা মালদহ শহরে জেলাশাসকের বাংলোর সামনে অনশনেও বসেছিলেন৷ মোট ১২ জন অভিযুক্তর মধ্যে গ্রেফতার হয় ১১ জন৷ একজন এখনও ফেরার রয়েছে৷ প্রায় সাড়ে চার বছর পর মামলার শুনানি শুরু হয়েছে মালদহ আদালতে৷ চলছে সাক্ষ্যদান পর্ব৷ জামিন পেয়ে বাইরে রয়েছে ১১ জন অভিযুক্তই৷ আর এহেন পরিস্থিতিতে ফের প্রাণভয়ে কার্যত গৃহবন্দি নিহত ছাত্রের পরিবার৷ বাবা অমূল্য মণ্ডলের কথায়, “ইদানীং দুষ্কৃতীরা বাড়ির সামনে রাতে বোমা ফাটাচ্ছে৷ গোটা পরিবারের সবাইকে খুনের হুমকি দিচ্ছে৷ ওরা বলছে, মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না৷ খুনের মামলাটি প্রত্যাহার করতে হবে৷ নইলে আমাদেরকে ওরা খুন করে ফেলবে৷” আতঙ্কে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না তাঁরা৷ সন্ধ্যারানিদেবী বলেন, “দুষ্কৃতীরা গ্রাম পাহারা দিচ্ছে, আমরা যাতে আদালতে যেতে না পারি৷ পুলিশকে জানিয়েছি৷ কিন্তু গোলাপগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ কিছুই করছে না৷”

পুত্রশোকে আজও নীরবে কাঁদেন সন্ধ্যারানি মণ্ডল৷ তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে বিশ্বজিৎ আজ আর নেই৷ আকুন্দবাড়িয়া এস সি হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র বিশ্বজিৎ মণ্ডলের কোনও দোষ ছিল না৷ তার বাবার সঙ্গে দুষ্কৃতীদের বচসার জেরে প্রাণ দিতে হয়েছে স্কুল পড়ুয়াকে৷ পরিবার ও পড়শিরা মিলে চার বছর আগেই একটি পূর্ণাঙ্গ মূর্তি তৈরি করেন বিশ্বজিতের৷ সেটি বসানো হয় বাড়ির উঠোনেই৷ স্কুল ছাত্রের মূর্তি কোথাও বসানোর নজির এযাবৎ নেই৷ এ যেন ব্যতিক্রম রামনগর৷

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement