ছাব্বিশের ভোটবঙ্গ নয়া জোট সমীকরণের বড়সড় ইঙ্গিত। বিধান ভবনের সঙ্গে আলিমুদ্দিনের জোট-জটের মাঝে বুধবার রাতে সল্টলেকের এক বিলাসবহুল হোটেলে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim) ও জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) রাজনৈতিক সাক্ষাৎ, বৈঠক ঘিরে এই চর্চাই শুরু হয়েছে। তবে কি আইএসএফের হাত ছেড়ে এবার বাবরি মসজিদের নামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে একজোট করার চেষ্টায় মরিয়া হুমায়ুনের দলের সঙ্গেই জোট বাঁধবে সিপিএম? তাই যদি হয়, তাহলে বামেদের চিরাচরিত ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক পরিচয় মুছে যেতে বসবে না? এই প্রশ্ন তুলে সেলিম-হুমায়ুনের বৈঠকের কড়া সমালোচনা করলেন প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রর ছেলে তথা প্রদেশ কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের নেতা রোহন মিত্র। ফেসবুক পোস্টে তাঁর সমালোচনা, ‘MLA হওয়ার জন্য এতটাই মরিয়া হতে হয় যে ভাগীরথীতে হিন্দুদের লাশ ফেলে দেওয়ার কথা বলা এক রাজনৈতিক দেউলিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসতে হয়?’

আরও পড়ুন:
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার সূত্রপাত বুধবার রাত থেকে। এদিন সন্ধ্যায় জোট নিয়ে কলকাতার একটি হোটেলে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। ‘সাম্প্রদায়িক’ হুমায়ুনের সঙ্গে সেলিমের একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠকে জোট সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে বলেই একাধিক সূত্রের দাবি। আর যত জট এই ‘জোট’ শব্দটি ঘিরেই, বঙ্গ রাজনীতিতে যার গুরুত্ব অপরিসীম। কখনও জোটের সুফল পেয়েছে নির্দিষ্ট কোনও দল, অপর দলের ঝুলি শূন্যই থেকে গিয়েছে। তবু বারবার মরীচিকার মতো জোটের পথেই হেঁটে চলেছে সিপিএম, কংগ্রেসের মতো জনভিত্তি হারিয়ে ফেলা দলগুলি। এমনকী নিজেদের মধ্যে এনিয়ে বিস্তর মতান্তর, মনান্তর কাটিয়েও জোটবদ্ধ করে নির্বাচনী লড়াই করেছে তারা।
ফেসবুক পোস্টে রোহন লিখেছেন – ‘MLA হওয়ার জন্য এতটাই মরিয়া হতে হয় যে ভাগীরথীতে হিন্দুদের লাশ ফেলে দেওয়ার কথা বলা এক রাজনৈতিক দেউলিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসতে হয়? বিষয় – জোট ও আসন সমঝোতা। বাংলার রাজনীতি থেকে কি ধর্মনিরপেক্ষ শব্দটাই তুলে দেওয়া হল?’
তবে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে এই জোট নিয়ে বেশ জট তৈরি হয়েছে। স্ব স্ব স্বার্থরক্ষায় একে অপরকে জমি ছাড়তে নারাজ তারা। একুশের বিধানসভা ভোটে জোটে লড়েছিল সিপিএম, কংগ্রেস এবং তখনকার সদ্যোজাত দল আইএসএফ। তাতে একমাত্র লাভবান হয় আইএসএফ। ভাঙড় থেকে তাদের প্রতিনিধি নওশাদ সিদ্দিকি বিধায়ক হন। সিপিএম, কংগ্রেসের ঝুলি ছিল শূন্য। পরবর্তী নির্বাচনে অবশ্য আইএসএফকে নিয়ে আর তেমন আগ্রহ দেখায়নি বাকি দুই দল। এমনকী আসন্ন নির্বাচন নিয়েও নওশাদের দলকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
এই আবহেই সাম্প্রদায়িক নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে রাজ্য সিপিএমের শীর্ষ নেতা সেলিমের বৈঠক অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আর তা নিয়েই সমালোচনা একসময়ের জোট শরিক প্রদেশ কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্রর। ফেসবুক পোস্টে রোহন লিখেছেন – ‘MLA হওয়ার জন্য এতটাই মরিয়া হতে হয় যে ভাগীরথীতে হিন্দুদের লাশ ফেলে দেওয়ার কথা বলা এক রাজনৈতিক দেউলিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বসতে হয়? বিষয় – জোট ও আসন সমঝোতা। বাংলার রাজনীতি থেকে কি ধর্মনিরপেক্ষ শব্দটাই তুলে দেওয়া হল?’ আসলে বছর খানেক আগে তৃণমূলে থাকাকালীন হুমায়ুনের মন্তব্য ছিল, ”হিন্দুদের কেটে ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেব।” সেই মন্তব্যই সেলিমকে মনে করিয়ে রোহন মিত্রর এহেন সমালোচনা। যদিও এই বৈঠককে স্রেফ সাক্ষাৎ বলে এড়িয়েছেন মহম্মদ সেলিম। অন্যদিকে হুমায়ুন জানিয়েছেন, ‘বৈঠক সদর্থক।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নতুন তৃণমূল আত্মপ্রকাশের পরদিনই সন্দীপনের বাড়িতে বিক্ষোভ, কাটমানি-তোলাবাজিতে সরব বিজেপি
-
আরজিকর কাণ্ড এবার বড়পর্দায়, পরিচালনায় শঙ্কুদেব পণ্ডা, ‘অভিশপ্ত’ আগস্টেই শুরু শুটিং
-
বিশ্বজয়ের ৩ মাসের মধ্যে অধিনায়কত্ব যাচ্ছে সূর্যকুমারের, নেতৃত্বের দৌড়ে আপাতত ৩
-
দিল্লির পর বিহার, বিধ্বংসী আগুন হাসপাতালে, ঝলসে মৃত অন্তত ৪
-
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার হুমায়ুনের, অধীর, নওশাদের উদাহরণ তুলে আদালতে যাচ্ছেন এজেইউপি নেতা
নিবেদিত


