ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ঝাপটা, বিতর্ক যে ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারেনি, গত সোমবার শ্যামপুরে পদ্ম ফুটিয়েই সেকথা বুঝিয়ে দিয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। জেতা আসন খড়গপুর কেন্দ্র হাতছাড়া হলেও ছাব্বিশের নির্বাচনী ফলপ্রকাশের দিন ‘মামাবাড়ির পিচ’ থেকে ঝকঝকে মার্কশিট হাতে বেরন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। আর বঙ্গে গৈরিক সূর্যোদয় হতেই লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের দুনিয়া থেকে দীর্ঘকাল দূরে থাকা ‘মাচো মস্তানা’ এবার চব্বিশের লোকসভার ঘাটালের প্রতিদ্বন্দ্বী দেবকে পালটা জবাব ছুড়লেন।
এই বিষয়ে আরও খবর
“যে আমার কেরিয়ার শেষ করার প্রার্থনা করেছিল কিন্তু বাংলার মানুষ আমাকে আবার আশীর্বাদ দিয়ে আমাকে ফিরিয়ে এনেছে। তারা দেখিয়ে দেখিয়েছে, দেবের থেকেও শক্তিশালী বাংলার জনতা জনার্দন।…”

বছর দুয়েক আগে চব্বিশ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেব বলেছিলেন, “আমি না দাঁড়ালে হিরণ চাপমুক্ত হত। ঘাটালের মানুষ ঠিক করে নিয়েছে কাকে ভোট দেবে। হিরণের সিনেমার কেরিয়ার শেষ। এখন টিকে আছে হেডলাইন রাজনীতির জন্য।…” এবার রাজ্যে দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পদ্ম ফুটতেই বছর দুয়েক আগের ‘অপমানের বদলা’ নিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। শ্যামপুরের বিধায়কের মন্তব্য, “দেব বলেছিল- ‘ফিল্ম কেরিয়ার শেষ। ঘাটালে হেরে যাওয়ার পর হিরণের রাজনৈতিক কেরিয়ারও শেষ হয়ে যাবে।’ যে আমার কেরিয়ার শেষ করার প্রার্থনা করেছিল কিন্তু বাংলার মানুষ আমাকে আবার আশীর্বাদ দিয়ে আমাকে ফিরিয়ে এনেছে। তারা দেখিয়ে দেখিয়েছে, দেবের থেকেও শক্তিশালী বাংলার জনতা জনার্দন। যারা আমাকে শ্যামপুর থেকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে আমার রাজনৈতিক কেরিয়ারকে এই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। আমি সবসময়ে বলি, ব্যক্তির থেকে মানুষ বড়। দেব যত বড়ই সুপারস্টার হোক না কেন, দেবের থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের শক্তি অনেক বেশি। সেটা মানুষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রমাণ করে দিলেন।” এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি!

হিরণের আক্ষেপ কুড়ি সালে বিজেপিতে যোগদানের পর থেকে ইন্ডাস্ট্রির কোনও পরিচালক-প্রযোজক তো দূরঅস্ত, কোনও সহশিল্পীরাও তাঁর খোঁজ নেননি। তবে ছাব্বিশের পালাবদলের পর কি সেসব সমীকরণে কোনও পরিবর্তন দেখলেন তাঁদের মধ্যে? হিরণ বলছেন, “যে প্রযোজক-পরিচালকরা গত ৫ বছর আমার খবরও নেননি, সহশিল্পীরা, যাঁরা শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে জয়গান গাইতেন, জেতার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরাই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আমাকে। তাঁরা ফোন-মেসেজ করে জানিয়েছেন, আমরা আসতে চাই। তোমার সঙ্গে নতুন করে কাজ করতে চাই। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই ভালো থাকবেন।”
প্রসঙ্গত, শনিবার ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিধায়ক হিরণ। তবে উল্লেখ্য, বিজেপি নেতা-অভিনেতার মনোনয়নপত্রে ‘স্ত্রী’ হিসেবে অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের নাম থাকলেও শপথগ্রহণে ডাক পাননি তিনি। বরং বিধায়কের ‘নতুন স্ত্রী’ রিতিকা গিরিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে খবর! এদিন সকালে ব্রিগেডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময়েই গাড়িতে বসে আমন্ত্রণপত্র হাতে ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি।

এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
একাধিক পরকীয়া, রুশ বিজ্ঞানীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক! এপস্টেইন কাণ্ডে স্বীকারোক্তি বিল গেটসের
-
বনশালির ছবির সেটে মর্মান্তিক মৃত্যু, এফআইআরের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি
-
আট বছর আগে সিপিএম সমর্থক দম্পতিকে পুড়িয়ে মেরেছিল তৃণমূল? শুভেন্দুর নির্দেশের পরেই আটক ১০ অভিযুক্ত
-
রক্তেই লুকিয়ে বিপদের ইঙ্গিত! কোন ব্লাড গ্রুপে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
-
জমি দখলে ইডির রাডারে শান্তনু ঘনিষ্ঠ একাধিক পুলিশকর্তা, তলব সোনা পাপ্পুর পরিবারের সদস্যদের
নিবেদিত






