Advertisement
Advertisement
Suvendu Adhikari

মৃত্যুমুখ থেকে ফেরা ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী, আবেগাপ্লুত মা, কী প্রত্যাশা বাবা শিশির অধিকারীর?

সকালে ব্রিগেডে শপথের পর দিনভর বেশ কিছু সরকারি কাজকর্ম সেরেছেন শুভেন্দু, বিকেলের পর ফিরবেন কাঁথির বাড়িতে।

রঞ্জন মহাপাত্র
রঞ্জন মহাপাত্র

শেষ আপডেট: মে ৯, ২০২৬, ১৭:৫৩

link
রঞ্জন মহাপাত্র
রঞ্জন মহাপাত্র

শেষ আপডেট: মে ৯, ২০২৬, ১৭:৫৩

options
link
মৃত্যুমুখ থেকে ফেরা ছেলে আজ মুখ্যমন্ত্রী, আবেগাপ্লুত মা, কী প্রত্যাশা বাবা শিশির অধিকারীর? zoom
বাড়ির ছেলে মুখ্যমন্ত্রী, আবেগপ্রবণ শুভেন্দু অধিকারীর মা গায়ত্রীদেবী, বাবা শিশিরবাবু
Advertisement

ছোটবেলা থেকে শান্তশিষ্ট, চুপচাপ, মায়ের কাছে দু-একটা বায়নাক্কা থাকলেও না মিটলে কোনও নালিশ ছিল না। একেবারে সুবোধ বালক বলতে যা বোঝায়, তেমনই ছিলেন আজকের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই ছেলে কলেজ জীবনে রাজনীতির টানে ঘরদোর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তারপর থেকেই শুরু হয়েছিল দীর্ঘ সংগ্রাম। কলেজের জিএস, পৌরসভার কাউন্সিলর হয়ে বিধায়ক, সাংসদ – সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি পদে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে আজ তিনি বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। এমন সুদিনে ছেলেকে নিয়ে আবেগে ভাসলেন মা গায়ত্রী অধিকারী (Gayetri Adhikari)। তাঁর মনে পড়ে যাচ্ছে ছোট শুভেন্দুর বায়না, ঘরের এককোণে মুখ গুঁজে নিজের কাজ করার দিনগুলো। মনে পড়ে যাচ্ছে, কতবার ছেলের উপর নেমেছিল মৃত্যুর খাঁড়া! সেখান থেকে বেঁচে ফিরে আজ ছেলে বাংলার কুর্সিতে। বাবা, প্রবীণ রাজনীতিক শিশির অধিকারীও আজ বেশ আবেগপ্রবণ। তবে ছেলেকে তিনি মনে করিয়ে দিলেন কর্তব্যের কথাও।

মা গায়ত্রীদেবী জানাচ্ছেন, ‘‘ছোটবেলা থেকেই চুপচাপ থাকত, নিজের মতো থাকত। কলেজ যাওয়ার পর থেকে রাজনীতিতে পা রাখে। বাবার থেকেই অবশ্য এটা পেয়েছিল। বাড়িতে বাবা আর ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করত। রাজনীতির জন্য কোথায় না কোথায় গেছে! যেখানে কেউ যায় না, সেখানে ও একাই চলে গেছে। ওর বাবাও তাই করত। কতবার ওকে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। তিন, চারবার আঘাত করেছে। সেসব থেকে ও বেঁচে ফিরেছে।”

**Alt Tag:**
Gayetri Adhikari gets emotional after Suvendu Adhikari becomes West Bengal Chief Minister.
বাংলায় শপথবাক্য পাঠ শুভেন্দু অধিকারীর। ৯ মে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। নিজস্ব চিত্র

কাঁথির ‘শান্তিকুঞ্জ’ আগাগোড়া এক রাজনৈতিক বাড়ি। শিশির অধিকারীর মতো প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদের কাছে বাড়ির ছেলেদের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। মা গায়ত্রীদেবী জানাচ্ছেন, ‘‘ছোটবেলা থেকেই চুপচাপ থাকত, নিজের মতো থাকত। কলেজ যাওয়ার পর থেকে রাজনীতিতে পা রাখে। বাবার থেকেই অবশ্য এটা পেয়েছিল। বাড়িতে বাবা আর ভাইদের সঙ্গে আলোচনা করত। রাজনীতির জন্য কোথায় না কোথায় গেছে! যেখানে কেউ যায় না, সেখানে ও একাই চলে গেছে। ওর বাবাও তাই করত। কতবার ওকে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। তিন, চারবার আঘাত করেছে। সেসব থেকে ও বেঁচে ফিরেছে।” এসবের পাশাপাশি শুভেন্দুর বাগান-বিলাসের কথাও শোনালেন মা। বললেন, ‘‘বিকেল হলেই ও শাবল, বালতি নিয়ে চলে যেত বাড়ির সামনের বাগানে। লাউ, কুমড়ো, বেগুন, লঙ্কাগাছ লাগিয়েছে। ছাদের বাগানে কত বড় বড় স্থলপদ্ম হয়েছে। সবই ওর যত্নে।”

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী হওয়া ছেলের এখন অনেক কাজ। কোন কাজ আগে করা দরকার বলে মনে করছেন গায়ত্রী অধিকারী? এই প্রশ্নের উত্তরে জানালেন, নারীসুরক্ষায় নজর দেওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। গায়ত্রীদেবীর কথায়, ‘‘অভয়ার ঘটনাটার আবার ফাইল খুলে বের করতে হবে আসল দোষী কারা। এসব কাজ ও করবে। আসলে ও কী কাজ করবে, সেটা ওর মনেই আছে। বাড়ি এসে কথাবার্তা হলে অবশ্য জানতে পারব।”

নতুন মুখ্যমন্ত্রীর বাবা শিশির অধিকারী মনে করছেন, ছেলে যোগ্য জায়গাতেই পৌঁছেছে। তবে এখন তাঁর অনেক কাজ, সেকথা মনে করিয়ে দিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘অজয়দার (প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়) চোখের জল পড়েছিল এখানে, সেটা আমি ভুলতে পারি না। তাঁকে ডেকে অপমান করা হয়েছিল। আজ এতদিন পর পান্তাভাত খাওয়া জেলার ছেলে আজ জয়লাভ করেছে। সুশাসন দিতে, সোনার বাংলা গড়ে তুলতে অনেক ধৈর্য, সময় লাগবে। ও (শুভেন্দু) সেই কাজ করতে পারবে। বাংলায় যা এতদিন ধরে চলছিল, তার অবসান ঘটবে। আশা করব, চাষি, মৎস্যজীবী পরিবারগুলোর উন্নতি হবে।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.