Advertisement
Advertisement
Bengal Election 2026

পেশাই অগ্রাধিকার, মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখা শেষ করেই প্রচারে শিক্ষক-প্রার্থীরা

রামজীবন মান্ডি, সুদীপ্ত গুপ্ত, সাবলু বর্মনরা নিজেদের জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী। কে কোন শিবিরের প্রার্থী জানেন?

Advertisement
পৌষালী কুণ্ডু
পৌষালী কুণ্ডু

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১৬:০৫

link
পৌষালী কুণ্ডু
পৌষালী কুণ্ডু

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১৬:০৫

options
link
পেশাই অগ্রাধিকার, মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখা শেষ করেই প্রচারে শিক্ষক-প্রার্থীরা zoom
মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের খাতা দেখা সেরেই প্রচারে নেমেছেন শিক্ষক-প্রার্থীরা।

ক্লাসরুম থেকে সাময়িক বিরতি। ভোটের (Bengal Election 2026) লড়াইয়ে নেমে জোরকদমে চলছে প্রচার। এবার বিধানসভা নির্বাচনে শিক্ষক-সংখ্যা নেহাত কম নয়। কেউ মাধ্যমিকের খাতা দেখা জমা করে তারপর রাজনৈতিক প্রচারে নেমেছেন। কেউ ক্লাসের সামেটিভ পরীক্ষার সিলেবাস শেষ করে তবেই ভোটের জন্য স্কুল থেকে ছুটি নিয়েছেন। তাঁরা সকলে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, পেশা অগ্রাধিকার, তারপর নেশার টানে রাজনীতি করা।

পশ্চিম মেদিনীপুরের রথীপুর বরদা বাণীপীঠের শিক্ষক রামজীবন মান্ডি তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে লড়ছেন। ৫৩ বছর বয়সি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক এলাকায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের অ্যাথলেটিক-ফুটবলার হিসাবেও দারুণ জনপ্রিয়। অ্যাথলিটের পোশাকে দৌড়তে দৌড়তে প্রচারের ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কলকাতা ফুটবল লিগে সেকেন্ড ডিভিশনে খেলার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে ‘মান্ডি স্যার’ বললেন, ‘‘দেশের ছোট-বড় সমস্ত ম্যারাথনে বয়স্কদের বিভাগে এখনও নিয়মিত অংশগ্রহণ করি। আমাদের আদিবাসী অধুষ্যিত এলাকার সাঁওতালি ছেলেমেয়েরা খেলাধূলোয় যাতে আরও সাফল্য পায় তার জন্য স্টেডিয়াম করার ইচ্ছা আছে। ভোটে জিতে ক্লাবগুলোকে নিয়ে বসে ক্রীড়া পরিকাঠামো আরও উন্নত করব।”

Advertisement
কেশিয়াড়ির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রামজীবন মান্ডি।

বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী সুদীপ্ত গুপ্ত ইছলাবাদ হাই স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক। ফার্স্ট সামেটিভ সিলেবাস শেষ করার দায়িত্ব ছিল, তাই প্রার্থী হওয়ার পরেও স্কুলে গিয়েছেন। সোমবার মনোনয়ন জমা দেবেন। আপাতত ভোটপ্রক্রিয়া চলা অবধি ছুটি নিয়েছেন। সুদীপ্তবাবু বলছেন, ‘‘ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তা আমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি থাকে। স্কুলের সময়ের পরে রাজনীতি করি। মাধ্যমিকের খাতা দেখা হয়ে গিয়েছে। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির ফার্স্ট সামেটিভের খাতা দেখার দায়িত্ব স্কুল থেকে যা দেবে, তা পালন করব। প্রচারের ফাঁকে বাড়ি থেকে খাতা দেখে পাঠিয়ে দেব।” শিক্ষকতা ছাড়াও সামাজিক কাজকর্ম ও মানুষের জন্য কাজ করার সুবাদে এলাকায় পরিচিত। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন, ব্যাঙ্ক-সহ নানা সরকারি কর্মীদের সংগঠনের কর্মসূচিতে যুক্ত থাকায় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছের লোক তিনি।

মাথাভাঙার তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মন কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক।

কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক সাবলু বর্মন ভোটে লড়ছেন। তিনি মাথাভাঙার তৃণমূল প্রার্থী। আগে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন ৪৩ বছর বয়সি এই তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, “রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত তবে কলেজে ক্লাস নিয়ে তবেই দলের কাজ করি।” জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ আশাবাদী কেশিয়াড়ির রামজীবনবাবু জানালেন, সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যোগস্থাপন হলেও কখনও স্কুলে পড়ানোয় ফাঁকি দেননি। গত তিন বছর ধরে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জেলায় জয়েন্ট কনভেনরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের হেড এক্সামিনার হওয়ায় ভোট ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই উচ্চমাধ্যমিকের খাতা দেখে সংসদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.