পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নাকি রাজনৈতিক মতাদর্শে আপসহীনতা? দুয়ের মধ্যে এখনও দ্বিতীয়টিতেই অনড় বারাকপুরের প্রবীণ সিপিএম নেতা, প্রাক্তন সাংসদ তড়িৎবরণ তোপদার। একডাকে এখনও যাঁকে চেনেন বারাকপুরবাসী। জানেন তাঁর লৌহকঠিন আদর্শের কথা। ছাব্বিশের ভোটে (West Bengal Assembly Election) এলাকার বিজেপি প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানিয়েও দলের আদর্শ থেকে একচুলও সরলেন না অশীতিপর প্রাক্তন সাংসদ। সাফ জানালেন, গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী কৌস্তভের (কৌস্তভ বাগচী) সঙ্গে ‘ঘরের ছেলে’র মতোই সম্পর্ক। তাঁকে বড় হওয়ার আশীর্বাদ করেছেন। কিন্তু এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির জেতার জন্য আশীর্বাদ করবেন না। কারণ, সেখানে সিপিএম প্রার্থী তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁকেই জেতাতে চান। এসব শুনে অবশ্য কৌস্তভ মোটেই হতাশ নন। তিনি জানালেন, জেঠুর কাছে ভাইপো আশীর্বাদ নিতে এসেছে। এর মধ্যে সবসময় রাজনীতি দেখার দরকার নেই।
তড়িৎ তোপদার সাফ বললেন, ”ওকে (কৌস্তভ বাগচী) জেতার আশীর্বাদ করব কেন? এখানে তো আমার প্রার্থী আছে। রাজনৈতিক মতাদর্শগত দিক থেকে আমি তো আমার প্রার্থীর পাশেই থাকব।”
আরও পড়ুন:
বারাকপুরের প্রায় অবিসংবাদী বামপন্থী নেতা তড়িৎবরণ তোপদার। বহুবার সাংসদ হয়েছেন। বয়সের ভারে রাজনীতি থেকে দূরে সরলেও জনপ্রিয়তায় তেমন ভাটা পড়েনি। আর তাই তো প্রতি নির্বাচনের আগে ‘গুরু’ তড়িৎ তোপদারের শরণ নিতে দেখা যায় রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে সব প্রার্থী ছুটে যান তাঁর কাছে আশীর্বাদ নিতে। দোর্দণ্ডপ্রতাপ অর্জুন সিং থেকে সিপিএমের সেলিব্রিটি প্রার্থী দেবদূত ঘোষ – তড়িৎ তোপদারের পা ছুঁয়ে প্রণাম না করলে প্রচারকাজ যেন সুসম্পন্ন হয় না। ছাব্বিশের ভোটে বারাকপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ছেন তরুণ নেতা কৌস্তভ বাগচী (Koustav Bagchi)। তিনিও সোমবার গিয়েছিলেন তড়িৎ’জেঠু’র কাছে আশীর্বাদ নিতে। কিন্তু প্রত্যাশামতো আশীর্বাদ কি পেলেন?

এ নিয়ে তড়িৎবরণ তোপদারের স্পষ্ট কথা, ”ও ঘরের ছেলের মতো। অনেকদিন ধরে আমার বাড়িতে আসে, আমিও কৌস্তভের বাড়ি যাই। ও এসেছিল আমার কাছে। আশীর্বাদ করে বলেছি যে অনেক বড় হোক। ওকালতিতে উন্নতি করুক, দলে উন্নতি করুক। কিন্তু ভোটে জেতার আশীর্বাদ তো করতে পারব না।” কারণ হিসেবে বর্ষীয়ান নেতা কোনও লুকোছাপা না করেই সাফ বললেন, ”ওকে জেতার আশীর্বাদ করব কেন? এখানে তো আমার প্রার্থী আছে। রাজনৈতিক মতাদর্শগত দিক থেকে আমি তো আমার প্রার্থীর পাশেই থাকব।”
কৌস্তভ (Koustav Bagchi) ঢোঁক গিলে বলছেন, ”আমি ওঁকে ছোটবেলা থেকে জেঠু বলে ডাকি। দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক। জেঠুর কাছে ভাইপো এসেছে আশীর্বাদ নিতে। এর মধ্যে সবসময় রাজনীতি খুঁজে লাভ নেই। রাজনৈতিক মতাদর্শ তো থাকবেই। উনি ‘নো ভোট টু তৃণমূল’ বলছেন, আমরাও তাই বলছি। এই জায়গায় আমরা এক।আমরা তো চাই, এই মিলমিশ, আদানপ্রদানটুকু থাক।” তাই বারাকপুরে এখন প্রশ্নটা সরাসরি – লড়াই আলাদা, কিন্তু লক্ষ্য কি এক? তৃণমূল বিরোধিতায় কি নিঃশব্দে কাছাকাছি আসছে রাম-বাম?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘আমরা আসছি’, ভারত সফরের আগে সোশাল মিডিয়ায় বিশেষ বার্তা ব্রাজিল দলের
-
প্রোমোটারের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ! কনস্টেবলকে হাতেনাতে ধরল দুর্নীতি দমন শাখা
-
বাংলার পর অসমের মামলাতেও জামিন, ১৩ বছর পর বিরাট স্বস্তিতে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন
-
পুকুরে ভেসেই কাটছিল জীবন! অনন্ত আম্বানির হস্তক্ষেপে মুম্বইয়ে চিকিৎসা পাচ্ছে মুর্শিদাবাদের সেই ইকবাল
-
এবার রাজ্য ও জাতীয় টেবিল টেনিস দলকে স্পনসর করবে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর! বড়সড় ইঙ্গিত মন্ত্রীর
নিবেদিত


