Advertisement
Advertisement
West Bengal Assembly Election

মতুয়া ভোটে এসআইআর কোপ! নদিয়ায় এবার ঘাসফুল না পদ্ম? ফ্যাক্টর হবে তামান্নার মৃত্যু?

দ্বিতীয় দফায় ভোট রয়েছে নদিয়ার জেলার একাধিক আসনে। এবার এই জেলার মানুষ কোন ফুলে আস্থা রাখবে?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো
সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ২১:১৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো
সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ২১:১৩

options
link
মতুয়া ভোটে এসআইআর কোপ! নদিয়ায় এবার ঘাসফুল না পদ্ম? ফ্যাক্টর হবে তামান্নার মৃত্যু? zoom
এবার নদিয়া জেলার মানুষ কোন ফুলে আস্থা রাখবে?

একদিকে পলাশীর প্রান্তর, আর একদিকে মহাপ্রভুর জন্মস্থান। একসময় যেখানে সেনবংশের রাজত্ব ছিল, সেই জেলায় আজ নজর দুই ফুলেরই। ঘাসফুল আর পদ্মে আড়াআড়ি ভাগ হয়েছে বামেদের পুরনো ঘাঁটি। তবে ভোটের (West Bengal Assembly Election) ঠিক আগে নদিয়ার রাজনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে একটাই ঘটনা। এসআইআর। সংখ্যার বিচারে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়া জেলার নাম মুর্শিদাবাদ হলেও শতাংশের বিচারে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে নদিয়ায়। যা রীতিমতো ঘুম উড়িয়েছে ওপার বাংলা থেকে আসা মতুয়াদের। স্থানীয়দের কথায়, একবার কাঁটাতার পেরিয়ে এসেছি। আবার কোথায় যেতে হবে জানি না! কেউ কেউ আবার এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি বিজেপিকেই দুষছেন। এই প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় দফায় ভোট রয়েছে নদিয়ার জেলার একাধিক আসনে। এবার এই জেলার মানুষ কোন ফুলে আস্থা রাখবে?

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আপাতদৃষ্টিতে রাজ্য রাজনীতিতে নদিয়ার তাৎপর্য খুব বেশি না হলেও এবার এসআইআরের অঙ্ক কী প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। এই জেলার ১৭টি বিধানসভার বেশিরভাগই রয়েছে তৃণমূলের দখলে। কোনও কোনও কেন্দ্র তৃণমূলের হাতে রয়েছে সেই ২০০১ অর্থাৎ প্রায় পরিবর্তনের প্রায় ১০ বছর আগে থেকে। রয়েছেন মহুয়া মৈত্র, আবু তাহের খানের মতো সাংসদ। ওদিকে আবার রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার এবার কিছুটা বেসুরো। নদিয়ার বিজেপির বিক্ষোভও চোখে পড়েছে ভোটের মুখে। বিক্ষোভ পৌঁছে গিয়েছিল বিজেপির দলীয় কার্যলয় পর্যন্ত। সেই আগুন বিজেপি কতটা সামাল দিতে পারল, সেটাই নজরে থাকবে এবার। কেউ কেউ বলছেন, এই বিক্ষোভের মাঝেই নদিয়ায় আসন বাড়িয়ে নেবে তৃণমূল। অন্যদিকে, তামান্নার মৃত্যুর ঘটনাকে সামনে রেখে এবার ময়দানে নেমেছে সিপিএমও।

কেন্দ্র বিশ্লেষণ

বামেদের ঘাঁটি করিমপুরে প্রথম জোড়াফুল ফোটে মহুয়া মৈত্রের হাত ধরে। বিধায়ক হিসেবে দীর্ঘ সময় এই জেলায় থেকে কাজ করেছেন তিনি। হাতের তালুর মতো চেনেন এলাকাটা। রাজ্যে পরিবর্তন হলেও তেহট্ট, পলাশিপাড়ায় ২০১১ পর্যন্ত ছিল বামেদের মজবুত সংগঠন। তাপস সাহার হাত ধরে পলাশিপাড়া কেন্দ্র যায় তৃণমূলের হাতে। আর সেই কেন্দ্রেই একুশের প্রার্থী ছিলেন রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়ে কারাবাসের পর এবার আর টিকিট পাননি তিনি। কেন্দ্র বদলে রুকবানুর রহমানকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ২০১১ থেকে চাপড়া কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন রুকবানুর রহমান। এবার সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে জাবের শেখকে। অন্যদিকে, দুই বিধায়কের নাম উল্লেখ করতেই হবে, যাঁরা ২০০১ থেকে তৃণমূলের গড় ধরে রেখেছেন নাকাশিপাড়ার কল্লোল খান আর নবদ্বীপের পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা।

কালিগঞ্জের প্রার্থী আলিফা আহমেদ। বাবা নাসিরুদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে জয়ী হন তিনি। বাবার প্রাপ্তি ছিল ৫৩ শতাংশ, মেয়ে পায় প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। জেলায় বিজেপির অস্তিত্ব ২১-এর আগে ছিল না বললেই চলে। শান্তিপুরে বিজেপির জগন্নাথ সরকার জয়ী হলেও ভোটের মার্জিন খুব বেশি ছিল না। পরে জগন্নাথ সাংসদ হয়ে যাওয়ায় আখেরে লাভ হয় তৃণমূলেরই। উপনির্বাচনে বিপুল মার্জিনে জয়ী হন তৃণমূলের ব্রজকিশোর গোস্বামী। এই জেলার কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটেই বিধায়ক হয়েছিলেন মুকুল রায়। এবার সেখানে সোমনাথ দত্তকে প্রার্থী করা হয়েছে। রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বিদায়ী বিধায়ক পার্থ সারথী চট্টোপাধ্যায়। এবারও তিনি বিজেপির প্রার্থী। দীর্ঘদিন তৃণমূল করা পার্থ ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। সহজ জয় পান। কিন্তু বিদায়ী বিধায়ককে নিয়ে জনমানসে রয়েছে ক্ষোভ। এলাকায় বিধায়ক তহবিলে কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। কোটি টাকা ফিরে গিয়েছে। পুরসভা ও কিছু গ্রামীণ এলাকায় জলের সমস্যা রয়েছে। কিন্তু এরপরেই এলাকায় পার্থের একটা প্রভাব রয়েছে। যা ভোট বাক্সে পড়ার সম্ভাবনা।

হরিনঘাটায় লড়াইতে রয়েছেন বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক অসীম সরকার। তবে কল্যাণীর বিদায়ী বিধায়ক অম্বিকা রায় এবার টিকিট পাননি। সেই নিয়ে সল্টলেকে বিজেপির সদর দফতরে বিক্ষোভ হয় প্রবল। সবকটি কেন্দ্রেই তাই নজর থাকবে দুই শিবিরের।

হিসেব উল্টে দেবে এসআইআর?

শতাংশের বিচারে নদিয়ায় সবথেকে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ভোটারের নাম আটকে গিয়েছে এসআইআরে। তথ্য বলছে, ১ লক্ষ ১৪ হাজারের নাম বাদ গিয়েছে শুধু মতুয়া প্রধান এলাকায়। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি নাম ওইসব এলাকা থেকেই বাদ পড়েছে। ফলে পরিস্থিতি আঁচ করা যে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছেই বেশ কঠিন।

West Bengal Assembly Election: ECI publishes voters' list settled in tribunal

রানাঘাট উত্তর-পূর্ব কেন্দ্রে ৪২৫৬৭, রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রে ৪০২১৮ এবং কৃষ্ণগঞ্জ কেন্দ্রে ১৪৯৬৬ নাম বাদ গিয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে বহু মতুয়ার বাস বলে জানা যায়। তিনটি কেন্দ্রে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মতুয়া ভোটারের বাস। তাই এই নাম বাদ পড়ার প্রভাব কার ভোটবাক্সে পড়বে, সেই অঙ্ক কষছে দুই শিবির। বিজেপি যে কেন্দ্রগুলিতে জিতেছিল সেগুলিতেও হাজার হাজার নাম বাদ পড়েছে। রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমে বাদ গিয়েছে ৩৫৯১২ জনের নাম। হরিণঘাটায় বাদ পড়েছেন ২৩৯৯১ জন, চাকদহে বাদ ২৯৮৪২ জন। ‘পশ্চিমবঙ্গ উদ্বাস্তু সেল’-এর রাজ্য আহ্বায়ক তথা মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি অসীমকুমার সরকার এই জেলার হরিণঘাটা থেকে এবারও বিজেপির টিকিট পেয়েছেন। মতুয়াদের একাংশের কাছে জবাব দিতে হচ্ছে তাঁকেও। শুধু তাই নয়, ভোটের আগে বিশেষ কার্ড বিলি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কাজে আসেনি কোনও কার্ড! এসআইআরে নাম বাদ পড়েছে বহু ভোটারের। এই বিষয়ে মতুয়া পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন করা হলে তাঁরা বলছেন, ‘কাকে আর ভোট দেব? সিএএ তে আবেদন করেও সার্টিফিকেট পেলাম না এবার। ভোটটাও দেওয়া হচ্ছে না এবার।’

ভোটে এবার প্রার্থী তামান্নার মা

‘বাড়ির সামনে দিয়েই স্কুলে যেত ফুটফুটে ওই মেয়েটা। কিন্তু কীভাবে যে কী ঘটে গেল, তা এখনও বিশ্বাস করতে পারি না।’ চোখ বন্ধ করে ভাবলে তামান্নার মুখটা মনে পড়ে যায় প্রতিবেশীদের। নদিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তামান্নার মৃত্যু খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনার পরেই আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে রাজ্যকে একহাত নেন বিরোধীরা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনেও নামে বামেরা। যদিও তৃণমূলের পাল্টা দাবি ছিল, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নেয়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এদিকে বিচারের আশায় এবার ভোটের ময়দানে নেমেছেন তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন।

West Bengal Assembly Election: Will Tamanna’s death impact results?
কালীগঞ্জে সিপিএমের প্রার্থী মৃত তামান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিন।

আর প্রচার করছেন তৃণমূলের সেই প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে, যাঁর বিজয় মিছিলে ছোড়া বোমাতেই মৃত্যু হয়েছিল তামান্নার। সেই আলিফা আহমেদের সঙ্গে লড়াই এবার সাবিনার। নদিয়ার কালীগঞ্জে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন তিনি। একেবারে তৃণমূলস্তরে গিয়ে প্রচার সারছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তামান্নার আবেগ কি বামেদের ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলবে সেটাই দেখার।

প্রার্থী সোহম এবং তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল –

করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবার অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। গতবার চন্ডীপুর থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়াই করেছিলেন। এবার অভিনেতার কেন্দ্র বদল। গতবার এই কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। তবে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল একটা বড় ফ্যাক্টর এই বিধানসভায়। বিশেষ করে নিচুতলায় মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে একটা ক্ষোভ রয়েছে। যা আগেভাগেই টের পেয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর তাই একসময় করিমপুর দেখার দায়িত্ব আবু তাহেরের কাঁধে তুলে দিয়েছিলেন তিনি। এহেন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার সেই করিমপুরে নতুন প্রার্থী সোহম। তারকা প্রার্থীকে দিয়ে শাসকদল গড় ধরে রাখতে পারে কি না সেদিকেই নজর রয়েছে সবার।

West Bengal Assembly Election: Candidate Soham Chakraborty and TMC's inner clash

চাঁদবিল সংস্কার

এলাকার মানুষ চান, ভোট প্রচারে এবার থাকুক সীমান্তের চাঁদবিলের কথা। ভোট আসে, ভোট যায়, ভোট ফুরোলেই ভুলে যায় সবাই। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেতাইয়ের ফুসফুস প্রায় ১১৫ একর জলাভূমি বিশিষ্ট চাঁদবিল সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র করার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, মাছ চাষ অক্ষত রেখে অস্তিত্ব হারাতে বসা এলাকার ঐতিহ্যবাহী ওই জলাভূমি সংস্কার করা হোক। রয়েছে ‘চাঁদবিল বাঁচাও কমিটি’ও। কোনও একসময় এই বিলটি সরাসরি জলঙ্গি নদীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। এলাকার মানুষের রুটি রুজির জায়গা ছিল কয়েকশ বিঘার এই চাঁদবিল।

কৃষ্ণনগর করিমপুর রেলপথ

কৃষ্ণনগর থেকে বহরমপুর ভায়া করিমপুর রেল লাইনের দাবি দীর্ঘদিনের। বারবার সেই দাবি সামনে এলেও আজ তা উপেক্ষিত। ভোট আসে ভোট যায় কিন্তু অপূর্ণ রয়ে গিয়েছে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের রেললাইনের দাবি। এই দাবি আদৌও পূরণ হবে কি না, সেই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে তেহট্ট মহকুমার সাধারণ মানুষের মনে। বছর দুয়েক আগে কৃষ্ণনগর থেকে করিমপুর ৮২ কিলোমিটার রাস্তায় রেললাইনের জন্য সার্ভে করা হয়। দু কোটি টাকা খরচ করে কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ফাইল ধামাচাপা পড়ে যায়। সেই বাম জমানায় গনি খান চৌধুরী রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই ইস্যু সামনে আসে। এখনও সেই রেল লাইন অধরা।

জলঙ্গী নদীর সেতু

ভোট এলেই নেতাদের মনে পড়ে যায় জলঙ্গি নদীর উপরে পাকা সেতু তৈরির কথা। ভোট মিটলে সবাই চুপ। দুই বিধানসভার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি থাকা সত্ত্বেও এখনও একটা পাকা সেতু তৈরি হল না এখনও। হতাশ দুই বিধানসভা সহ তেহট্ট মহকুমার লক্ষ লক্ষ মানুষ। মাটি পরীক্ষা হয়েছে বহুদিন আগে। এখনও পর্যন্ত তেহট্ট ১ ও ২ ব্লকের মধ্যে সংযোগকারী তেহট্ট খেয়াঘাটে হল না কংক্রিট পাকা সেতু।

তেহট্ট ও পলাশিপাড়া বিধানসভার মধ্যে তেহট্ট ১ ও ২ ব্লককে আলাদা করেছে জলঙ্গি নদী। যে কারণে যাতায়াত থেকে শুরু করে একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় দুপারের মানুষকে। নদীর উপর পাকা সেতু হোক, এই দাবি সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে বহু বছর ধরেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালিখিও চলেছে অনেক। এই সেতু না থাকার ফলে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় তেহট্ট ২ ব্লকের চকবিহারি সহ হাঁসপুকুরিয়া, বার্নিয়া পঞ্চায়েতের মানুষকে। তেহট্ট মহকুমা হাসপাতাল, আদালত, মহকুমা শাসকের দফতর, এসডিপিও অফিস, মহকুমা ভূমি দফতর সর্বত্র পৌঁছতে গেলে বর্ষার সময় নৌকা পেরিয়ে যেতে হয় আর অন্যান্য সময় বাঁশের পাটাতন পেরিয়েই যাতায়াত করতে হয়। হাঁসপুকুরিয়ার বরুণ সিনহা, বার্নিয়ার মিঠুন মণ্ডলেরা বলেন, বহুদিন ধরে বহুবার মাটি পরীক্ষা হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না। সেতুর প্রয়োজনীয়তা আছে।

খেয়াঘাটের বিভিন্ন এলাকায় চলে মাটি পরীক্ষা। এরপর তার রিপোর্টও জমা পড়ে নির্দিষ্ট জায়গায়। কিন্তু মাসের পর মাস পেরনোর পরও সেতু হওয়ার নির্দেশিকা না আসায় হতাশ এলাকাবাসী। 

ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী সবপক্ষই। সিপিআইএমের তেহট্ট দক্ষিণ এরিয়া কমিটির সম্পাদক তথা তেহট্টের বাম প্রার্থী সুবোধ বিশ্বাস জানান, “এবারের ভোট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রচারে যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে বিজেপি ও তৃণমূলকে হারাতে আমাদের ভোটই যথেষ্ট। ২৬-এ আমরাই জিতব।” অন্যদিকে বিজেপির উত্তর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস বলেন, “রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন নিশ্চিত। তেহট্ট বিধানসভার তিনটি আসনেই বিজেপি বিপুল ভোটে জিতবে। মানুষ আমাদের পাশে আছে।”

তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস, জেলা পরিষদ সদস্য তথা তেহট্টের তৃণমূল প্রার্থী দিলীপ কুমার পোদ্দার জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন ও জনমুখী প্রকল্পই আমাদের হাতিয়ার। গতবারের চেয়েও বেশি ব্যবধানে আমরা তিনটি আসনেই জিতব এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই পুনরায় ক্ষমতায় বসাবে মানুষ।” 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.