৭ মাঘ  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২১ জানুয়ারি ২০২০ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শরণার্থী সমস্যা যে কতটা ভয়ংকর, তা টের পাওয়া গিয়েছিল আগেই৷ দিনে দিনে একেকটা ছবি যেন সেই সমস্যাকেই আরও জ্বলন্ত করে তুলছে৷ সিরিয়ার আয়লান কুর্দি, রিও গ্রান্দেতে বাবা-মেয়ের নিথর দেহ কিংবা মায়ানমারের রোহিঙ্গা মা-শিশুর প্রাণের আর্তি–এসব ছবি দেখে বিশ্ববাসী শিউরে উঠেছেন৷ সেই তালিকাতেই যুক্ত হল আরও এক৷ সন্তান কোলে সুদূর গুয়াতেমালা থেকে মার্কিন সীমান্তে এসে সেদেশে আর প্রবেশ করতে পারছেন না মা৷ সীমান্তের প্রহরীদের কাছে কাতর আরজি জানাচ্ছেন নিরাপদ আশ্রয়ে ঢুকতে দেওয়ার৷

[ আরও পড়ুন: ব্রিটিশ রাজনীতিতে চমক ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রীতি প্যাটেলের, পেলেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক]

লেটি পেরেজ, গুয়াতেমালার সিউদাদ জুয়ারেজ শহর থেকে অন্তত ২৪০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে এসেছেন মার্কিন সীমান্তে৷ সঙ্গে ৬ বছরের সন্তান৷ আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে এসেই বাধা পান তিনি৷ মেক্সিকান ন্যাশনাল গার্ড তাঁকে আটকে দেয়৷ সেখানেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পেরেজ৷ বারংবার কাতরভাবে অনুরোধ করতে থাকেন, এতদূর ছুটে এসেছেন, যেন ছোট সন্তানের মুখ চেয়ে তাঁকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়৷

এসময়ে মেক্সিকো সীমান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের ফটোগ্রাফার হোসে লুই গঞ্জালেস৷ তিনি গোটা দৃশ্যের একমাত্র প্রত্যক্ষ সাক্ষী৷ তাঁর কথায়, ‘ওই মহিলা ন্যাশনাল গার্ডদের কাছে প্রায় ভিক্ষা চাওয়ার মতো করে আরজি জানাচ্ছিলেন, যাতে তাঁকে সীমান্ত পেরিয়ে আমেরিকায় ঢুকতে দেওয়া হয়৷ বারবার বলছিলেন, সন্তানের একটু নিরাপদ ভবিষ্যৎ চান৷ আর কাঁধে অ্যাসল্ট রাইফেল, পরনের ভারী পোশাক পরা গার্ডটি সমানে বলছিলেন, তিনি তাঁর কর্তব্য করছেন৷ কিছুতেই ঢুকতে দিতে পারবেন না৷’

গঞ্জালেসের তোলা সেই করুণ ছবি রয়টার্সে প্রকাশিত হওয়ার পর ফের হইহই শুরু হয়েছে৷ সোশ্যাল মিডিয়া ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়তেই ফের ট্রাম্প প্রশাসনের নিন্দায় সরব সকলে৷ এমনিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট মেক্সিকো সীমান্তে একেবারে পাঁচিল তুলে শরণার্থী স্রোত আটকাতে তৎপর ছিলেন৷ বিরোধীদের চাপে সেই কাজ করা হয়ে ওঠেনি৷ তাই বাধ্য হয়ে ন্যাশনাল গার্ডদের মোতায়েন করে রেখেছেন সীমান্তের কাঁটাতার বরাবর৷ আর গুয়াতেমালা, ভেনেজুয়েলার মতো মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশে নানা অস্থির পরিস্থিতির জেরে দেশ ছাড়ছেন বহু মানুষ৷ আর ঢুকে পড়ছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, নয়ত আমেরিকায়৷ শরণার্থীর চাপে প্রতিটি দেশই কড়া আইন জারি করেছে৷ ফলে লেটি পেরেজের মতো মায়েদের এভাবে ভিক্ষা প্রার্থনা ছাড়া কিছুই করার থাকছে না৷ সমাজবিজ্ঞানীরা অনেকেই বলছেন, একবিংশ শতাব্দীতে এই শরণার্থী সমস্যা শুধুই কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই৷ এটি গোটা মানবজাতির এক বড় সংকটে পরিণত হচ্ছে৷

[ আরও পড়ুন: ড্রাগন বাঁচাতে পর্যটনে রাশ, আর্থিক ক্ষতি হলেও দৈত্যাকার প্রাণীর পাশে প্রশাসন]

 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং