সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকা, রাশিয়া ও ব্রিটেনের পর করোনার ভরকেন্দ্র এখন ব্রাজিল। গোটা বিশ্বে আমেরিকা ও রাশিয়ার পর সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন এই দেশেই। ইটালি ও স্পেনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ব্রাজিল। দেশে এখনও পর্যন্ত ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ২২০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৫ লক্ষ, আর রাশিয়ায় ২ লক্ষ ৯০ হাজার। এই দুই দেশের পরই রয়েছে ব্রাজিল। আক্রান্তের সংখ্যায় ইউরোপের সর্বাধিক করোনা আক্রান্ত দেশ ব্রিটেনকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে এই দেশ।
গত মাসের শেষের দিকেই আশঙ্কা করা হয়েছিল করোনা এবার থাবা বসাতে চলেছে দক্ষিণ আমেরিকায়। আর তার প্রথম টার্গেট ব্রাজিল। এই দেশই সম্ভবত হতে চলেছে করোনার পরবর্তী হটস্পট। আশঙ্কা যে অমূলক নয়, বর্তমান পরিস্থিতিও সেই কথাই বলছে। এপ্রিলের একেবারে শেষে ব্রাজিলের প্রায় সাড়ে চার হাজার জনের প্রাণ কেড়েছিল COVID-19। ছোবল বসিয়েছিল ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষের শরীরে। কিন্তু তারপর দুটো সপ্তাহ অতিক্রান্ত হতে না হতেই আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়ে গেল আড়াই লক্ষ। গত ৭২ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ক্রমাগত। স্পেন, ইটালি এমনকী ব্রিটেনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ব্রাজিল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে এই সংখ্যাটি ১৫ গুণ বেশি হতে পারে। কারণ এখনও অনেক রোগীর পরীক্ষার রিপোর্ট এসে পৌঁছয়নি। আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। সাড়ে চার হাজার থেকে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৭৯২-এ। মৃতের সংখ্যায় এই দেশ এখন পৃথিবীতে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
[ আরও পড়ুন: করোনা সংক্রমণের ভয়! দেড় সপ্তাহ ধরে নিয়মিত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিচ্ছেন ট্রাম্প ]
ব্রাজিলে যে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে তার আশঙ্কা অনেক আগেই করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ঠিকমতো পরীক্ষা না হওয়া, হাসপাতালে ঠাঁই না হওয়া-সহ একাধিক ফ্যাক্টরে ফলে সিঁদুরে মেঘ দেখেছিলেন তাঁরা। সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তথা ভাইরোলজিস্ট পাওলো ব্র্যান্ডাও অত্যন্ত হতাশার সুরে বলছিলেন, “আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি আরও জটিল ও ভয়াবহ হওয়ার সবরকম রাস্তা পাকা।” সামনে শীতকাল। আর কম তাপমাত্রায় নোভেল করোনা ভাইরাসের সক্রিয়তা বাড়ে। চিন, ইটালিতে এই তাপমাত্রার কারণেই এতটা দাপট দেখাতে পেরেছে মারণ জীবাণুটি। জানা গিয়েছে, COVID-19 পজিটিভ রোগীদের জন্য দেশের বহু হাসপাতালেই আর জায়গা নেই। তার জেরে বাড়িতে থেকেই প্রাণ খোয়াতে হচ্ছে অনেককে। আমাজন লাগোয়া শহর মানাউসে। সেখানে শুধুমাত্র বাড়িতে থেকেই যে হারে মৃত্যু হয়েছে, তা কপালের ভাঁজ চওড়া করেছে সাধারণ নাগরিকের। সবচেয়ে বড় সমাধিস্থলটিতে নতুন করে গণকবর খোঁড়া হচ্ছে।
[ আরও পড়ুন: ‘অনুদান স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেব’, করোনা আবহে WHO প্রধানকে হুমকি চিঠি ট্রাম্পের ]
সর্বশেষ খবর
-
১৩০ বছরের ইতিহাসে ভয়াল বন্যা জাপানে! এশিয়াডের আগে জল থইথই ক্রীড়াবিদদের অস্থায়ী ঘর
-
মহড়া চলাকালীন বাংলাদেশের চিনা ট্যাঙ্কে বিস্ফোরণ, নিহত ২! প্রশ্ন ‘মেড ইন চায়না’ নিয়ে
-
‘পুরাতন ভৃত্যে’র সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোটিপতি শ্বশুরকে খুন! বউমার কীর্তিতে চাঞ্চল্য
-
বৈবাহিক ধর্ষণ অপরাধ? সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ, সুপ্রিম কোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত নয়, জানিয়ে দিল কেন্দ্র
-
প্রথমবার ‘বিগ বস’ দেখবেন অরিজিৎ, ‘আমাদের রকস্টার’ বলে কার সমর্থনে সুর চড়ালেন?