২৬  শ্রাবণ  ১৪২৯  শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

মাসুদ আজহারকে ‘জঙ্গি’ ঘোষণায় বিরোধিতা চিনের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: October 2, 2016 12:25 pm|    Updated: October 2, 2016 12:25 pm

China again blocks India on Terror Chief Masood Azhar

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক স্তরে ‘জঙ্গি’ হিসাবে চিহ্নিত করার ভারতের উদ্যোগে ফের বাধা হয়ে দাঁড়াল চিন৷ বেজিংয়ের আপত্তিতেই জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের ‘মাথা’ আজহারকে সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আবার পিছিয়ে গেল রাষ্ট্রসংঘে৷ ভারতের তরফে গৃহীত এই উদ্যোগে বাধা দিয়ে চিনের তরফে আগেই যে ‘টেকনিক্যাল’ স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হত সোমবার৷ সেই মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে এবং চিনের তরফে আর না বাধা দেওয়া না হলে স্বাভাবিকভাবেই আজহারকে জঙ্গিতালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব বিনা আপত্তিতে পাস হয়ে যেত রাষ্ট্রসংঘে৷

কিন্তু সময় থাকতে থাকতেই বেজিং ফের এই ইস্যুতে টেকনিক্যাল স্থগিতাদেশ চাইল৷ চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জেং শুয়াং স্থগিতাদেশ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন৷

২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ পাক জঙ্গি মাসুদ আজহারকে রাষ্ট্রসংঘের জঙ্গি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আগেও ভেটো প্রয়োগ করেছিল চিন৷ চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারত যখন এই মর্মে রাষ্ট্রসংঘে আবেদন জানিয়েছিল, তখনও চিন ‘টেকনিক্যাল’ স্থগিতাদেশ চেয়ে ভেটো দিয়েছিল৷ সেই ভেটোর কার্যকাল শেষ হওয়ার আগেই আরও একবার এ নিয়ে ‘টেকনিক্যাল’ স্থগিতাদেশ চেয়ে বসল বেজিং৷ ফলে আজহারের নাম রাষ্ট্রসংঘের জঙ্গি তালিকায় তোলার বিষয়টি আরও ছয় মাস পিছিয়ে গেল৷

প্রসঙ্গত, ১৫ সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে চিনই একমাত্র দেশ, যারা আজহারকে ‘জঙ্গি’ হিসাবে চিহ্নিত করার বিরোধিতা করছে৷ রাষ্ট্রসংঘের জঙ্গি তালিকাভুক্ত হলে আজহারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও তার চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি হবে৷

এদিকে, উরিতে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে ইসলামাবাদের সঙ্গে সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি বাতিল করার বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করছে নয়াদিল্লি৷ এরই মধ্যে বেজিংয়ের ঘোষণা, তিব্বতে ব্রহ্মপুত্রের একটি উপনদীর প্রবাহ বন্ধ করে দিচ্ছে তারা৷ জিয়াবুকু নামের এই উপনদীটি ব্রহ্মপুত্রের অন্যতম জলের জোগানদার৷ চিনের দাবি, এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অঙ্গ হিসাবে তাদের এই পদক্ষেপ এবং এটিই এখনও পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প৷ জিয়াবুকুর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের উপর তার কতটা প্রভাব পড়বে বা আদৌ পড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়৷

তবে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধুচুক্তি ভারত যে খারিজ করতে পারে, তা জানার পরই পাল্টা জবাব হিসাবে পাকিস্তানের মিত্র দেশ চিনের এই উদ্যোগ৷ কারণ, সিন্ধু চুক্তির অন্তর্গত বেশ কয়েকটি নদীর উৎপত্তি চিনে৷ যদিও চিন জানিয়েছে, ভারতের উদ্বেগের কথা মাথায় রাখছে তারা৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে