সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ডোকলাম থেকে অবিলম্বে সেনা প্রত্যাহার না করলে ভারতের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপের হুমকি দিল চিনা মিডিয়া। একইসঙ্গে চিনা বিদেশমন্ত্রক জানিয়ে দিল, বেজিংয়ের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে নয়াদিল্লিকে। ভারত যেন অবিলম্বে সিকিম সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। গত ২৮ জুন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক করেন চিনা স্টেট কাউন্সিলর ইয়াং জিয়েচির সঙ্গেও। চিনা বিদেশমন্ত্রক সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছে, চিন এবার ‘কংক্রিট অ্যাকশন মোড’-এ যাবে।
[কাশ্মীরে ছ’জন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গির তালিকা তৈরি করেছে সেনাবাহিনী]
রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ডোকলাম বা ডোকা লা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ভারতের দাবি ও বক্তব্য পেশ করেছেন দোভাল। তেমনি চিন কী চায় তাও ভারতকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন ইয়াং জিয়েচি। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিতভাবে জানায়নি কোনও পক্ষই। কোনও যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনও করেননি দোভাল এবং জিয়েচি। গত দেড় মাস ধরে সিকিম সেক্টরে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ বজায় রয়েছে। তার জেরে ভারত জুড়ে চিনা পণ্য বয়কট করার জোরদার প্রচার চলছে। ডোকালাম নিয়ে চলছে তুমুল চাপানউতোর। দোভালের সফরের আগে চিন সাফ জানিয়েছে, ‘দোভাল চিনে এসে কোনও সুবিধে আদায় করতে পারবেন না। ডোকালাম থেকে ভারতকে আগে সেনা সরাতে হবে। তবেই কোনও আলোচনায় বসবে চিন। সেনা না সরালে ভারতকে যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকতে হবে।’ ভারতের সাফ জবাব, “ডোকালাম মালভূমি ভুটানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভুটানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় ভারত দায়বদ্ধ। কোনও চাপের মুখে ভারত কিছুতেই সেনা সরাবে না।”
বেজিংয়ে ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা বৈঠকে বসেন। সেখানে সন্ত্রাসবাদ দমন, গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান, পারস্পরিক কূটনৈতিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিত নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা হয়। তারপরই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন দোভাল ও জিয়েচি। প্রসঙ্গত, ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা মোকাবিলায় যে বর্ডার মেকানিজম গঠন করা হয়েছে, দোভাল ও জিয়েচি দু’জনেই সেই মেকানিজমে বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে রয়েছেন। ফলে ডোকালাম নিয়ে একটা সমাধানসূত্র মিলতে পারে বলে আশা করেছিল দুই দেশের কূটনেতিক মহল। যদিও ভারতের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সংসদে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সেনাও পালটা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কোনও অবস্থাতেই ডোকলাম থেকে সেনা সরানো হবে না।
[কিষাণগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বাধা নেই, জানিয়ে দিল বিশ্বব্যাঙ্ক]
সর্বশেষ খবর
-
নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর, কী কথা হল?
-
শান্তি বৈঠকেই ইরানি নেতাদের হত্যার ছক ইজরায়েলের! তেহরানকে সতর্ক করে আমেরিকা
-
অশোধিত তেলের দাম কমলেও এখনই সস্তা নয় পেট্রল-ডিজেল, সাফ কথা কেন্দ্রের
-
‘ব্রাজিলের ম্যাচটা চালাবে’, মৃত্যুর আগের মুহূর্তে বাবার কাছে শেষ আবদার রামকৃষ্ণ মিশন ছাত্রের
-
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি কেমন চলছে? ৭২ ঘণ্টা আগে বিয়ের প্ল্যান শেয়ার করলেন আমির