Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
China

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনে ১০০ বিলিয়ান ডলারের ক্ষতি চিনের! কূটনৈতিক যুদ্ধে পিছু হটবে বেজিং?

ট্রাম্প রাজনীতিতে আসার বহু আগে চিনের জন্য দরজা খুলে দিয়েছিল ভেনেজুয়েলা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ২১:০০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ২১:০০

options
link
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনে ১০০ বিলিয়ান ডলারের ক্ষতি চিনের! কূটনৈতিক যুদ্ধে পিছু হটবে বেজিং? zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে মাদকের অভিযোগ অছিলা মাত্র, আদতে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে ভেনেজুয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছে আমেরিকা। শুরুতে খবর ছিল, মাদুরোর রুশ ঘনিষ্টতা অন্যতম কারণ। এখন জানা যাচ্ছে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের ফলে ১০০ বিলিয়ান ডলারের বেশি ক্ষতি হবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আরেক শত্রু চিনেরও। কীভাবে?

ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারের সঙ্গে চিনের (China) একাধিক স্বার্থ জড়িত। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ঋণ এবং আর্থিক সহায়তা মিলিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিকে প্রায় ১০৫.৬ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে চিন। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি সরকার বদলে ফেলেন, সে ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বেজিং। বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, অনেক দিন ধরেই ভেনেজুয়ালার দিকে নজর ছিল চিনের। দক্ষিণ আমেরিকায় ড্রাগনের প্রভাব বাড়াতে মাদুরোকে ব্যবহার করছিল শি জিনপিং সরকার। এখন ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে চিনের আর্থিক স্বার্থে আঘাত লাগবে।

Advertisement

বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মার্কিন সামরিক আগ্রাসনে অপহৃত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে লাতিন আমেরিকা বিষয়ক চিনা দূত কিউ শিয়াওচির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন নিকোলাস মাদুরো। প্রশ্ন উঠছে, আমেরিকার রাতারাতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে বন্দি করার সঙ্গে চিন-ভেনেজুয়েলা বৈঠকের কোন সম্পর্ক রয়েছে কি? উল্লেখ্য, মাদুরোকে ট্রাম্পের সেনা তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তীব্র নিন্দা করেছিল বেজিং। অবিলম্বে সস্ত্রীক মাদুরোর মুক্তির দাবিও জানিয়েছে তারা। এক বিবৃতিতে চিনের বিদেশ মন্ত্রক বলে, আমেরিকার এমন ‘আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন’।

ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনীতিতে আসার বহু আগেই চিনের জন্য দরজা খুলে দিয়েছিল ভেনেজুয়েলা। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের সময়েই ভেনেজুয়েলার পরিকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ করেছিল বেজিং। ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন প্রভাববলয় হিসেবে পরিচিত লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে চিনের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয় ভেনেজুয়েলা। ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি ব্রাজিল, চিলির মতো দেশগুলিও চিনের কাছ থেকে জ্বালানি, পরিকাঠামো এমনকী মহাকাশ প্রযুক্তি খাতে বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই অবস্থায় ভেনেজুয়েবার শাসক বদল ছা়ড়া চিনের প্রভাব কাটাতে আর কিছু করার ছিল না আমেরিকার।

প্রসঙ্গত,  বিশ্বের বৃহত্তম তেলের ভান্ডার রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। কিন্তু সেখানে তেল উত্তোলনের পরিমাণ তুলনায় অনেক কম। এ দিকে, দেশটির অর্থনীতিই দাঁড়িয়ে রয়েছে তেলের ব্যবসার উপর। যা তেল উৎপাদন হয়, তার বেশিরভাগটাই কেনে চিন। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক টানাপড়েনের জেরে সেই ব্যবসা মার খেয়েছে। মার্কিন-অবরোধের জেরে তেল উত্তোলনও প্রায় বন্ধ। যার জেরে একেবারে ধসে যাওয়ার মুখে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি। এই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগাতে চাইছে আমেরিকা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা ভেনেজুয়েলাকে দু’টি শর্ত দিয়েছে। প্রথম শর্ত, ভেনেজুয়েলা রাশিয়া, চিন, ইরান এবং কিউবার সঙ্গে কোনও অর্থনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে পারবে না। দ্বিতীয় শর্ত, শুধুমাত্র আমেরিকার সঙ্গে তেলের ব্যবসা করবে তারা। ভেনেজুয়েলায় যা উৎপাদন হবে, তা তারা বেচবে আমেরিকাকেই। অন্য কোনও দেশকে নয়। এই দুই শর্ত মানলেই অবরোধ তুলে ভেনেজুয়েলায় আবার তেল উত্তোলনের অনুমতি দেবে ট্রাম্প প্রশাসন। তেল উত্তোলনে ভেনেজুয়েলাকে সাহায্যও করবে আমেরিকা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.