×

৪ ফাল্গুন  ১৪২৫  রবিবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গল্পের গরু গাছে ওঠে সহজেই। কিন্তু বাস্তবের কুমির গাছে উঠল নিতান্তই প্রাণে বাঁচার তাগিদে। ছবিটা অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ডের টাউনসভিলের। অর্ধেক ডুবে থাকা বাড়িঘর, গলা জলে ডোবা রাস্তাঘাট। আর তাতেই যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে কুমির। অস্ট্রেলিয়ার টাউনসভিলে রীতিমতো ঘন জনবসতি এলাকায় আকছার চোখে পড়ছে এমন দৃশ্য।

crocodile

গত সাতদিনের টানা বৃষ্টিতে ভয়ঙ্কর দশা অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বের রাজ্য কুইনসল্যান্ডের উত্তরাংশের। বিশেষ করে টাউন্সভিলের। কোনটা রাস্তা আর কোথা থেকে জলাশয় শুরু, ফারাক করা কঠিন। এক ছটাক শুকনো জমিও নেই। আর তাই জলচর প্রাণীরা উঠে এসেছে রাস্তায়, এমনকি ভয়ঙ্কর কুমিরও।বিপদের ভয়ে ইতিমধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে ১১০০ বাসিন্দাকে। আগামী
কয়েকদিনে বৃষ্টি আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের। সেক্ষেত্রে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে টাউনসভিলকে। বন্যায় আক্রান্ত টাউনসভিল বাসিন্দারা যেমন বিপর্যয়ের মুখে, তেমনই আতঙ্কিত। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কয়েক দশক তো দূরের কথা, গত এক শতাব্দীতেও এমন ভয়ঙ্কর বন্যা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ডে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

 

                                               [বিজয় মালিয়ার প্রত্যর্পণ মঞ্জুর করল ব্রিটেন]

এক সপ্তাহ ধরে স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি হারে বৃষ্টি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়। অতি বৃষ্টির জেরে রস নদীর উপরের একটি বাঁধের জল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। অতিবৃষ্টির জেরে বাঁধের জলধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ জল জমে যাওয়ার জন্যই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মোট ১৯০০ কিউবিক মিটার জল ছাড়া হয় বাঁধ থেকে। আর তারপরেই জলে ভেসে যায় টাউনসভিল। নদী থেকে কুমির ঢুকে পড়ে জনবসতি এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তোলা বেশ কয়েকটি ছবিতে ধরাও পড়েছে তাদের গতিবিধি। একটি ছবিতে যেমন দেখা যাচ্ছে, জলে ভেসে রাস্তা পার হচ্ছে কুমির। অন্য ছবিতে একটি বাড়ির প্রায় ডুবে যাওয়া গ্যারাজের পাশের গাছে আশ্রয় নিয়েছে একটি কুমির। আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি গাছের শক্তপোক্ত কাণ্ড বেয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

aus flood

                                          [রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে খেলায় মাতলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি]
এই পরিস্থিতির মধ্যেও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে টুইটারে ঠাট্টার সুর কুইনসল্যান্ডের পুলিশ। বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেছে, “কুমিরের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও যদি তেমন ভয়াবহ মনে না হয়, তা হলে বন্যার জলে মজা করতে নামার আগে আরেকটি বিষয় মাথায় রাখুন টাউনসভিলবাসীরা। কুমির না আসুক প্রতিবেশীর বিষ্ঠা ভেসে আসতে পারে পায়ের কাছে। তাই সাবধান!”সতর্কবার্তায় পুলিশ আরও জানিয়েছে, জল নামলেই এইসব কুমির আশ্রয় নিতে পারে বাড়ির আশপাশে খোলা এলাকায়। খোলা নর্দমা বেয়ে সাপও ঢুকতে পারে বাড়ির ভিতর। তাই এসব নিয়ে সাবধান হতে হবে। কুইনসল্যান্ডের এই এলাকাটি মূলত গ্রীষ্মপ্রধান জায়গা। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বর্ষাকাল এখানে। তবে উত্তর কুইনসল্যান্ডে বৃষ্টি হলেও অন্যান্য এলাকায় বৃষ্টির এতটা দাপট নেই বলে জানিয়েছে অস্ট্রলিয়া প্রশাসন। বরং বেশ কিছু এলাকা এখনও খরা কবলিত। অন্যদিকে কুইন্সল্যান্ডের উত্তরে আগামী কয়েকদিনের আরও বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে
জানিয়েছে আবহাওয়া বিশারদরা। তেমনটা হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ২০হাজার বসতবাড়ি জলমগ্ন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং