সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ড্রাগনের দেশে ক্রমশ গভীর ছাপ ফেলছে ছাপ ফেলছে মারণ ভাইরাস করোনা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নতুন এই জীবাণুর দাপটে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দু’হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত প্রায় ৭৪ হাজার। গত প্রায় দু’মাস ধরে চিনের ইউহানের হাসপাতালগুলোতে জরুরি পরিষেবা দিয়ে চলেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু তা সত্ত্বেও এড়ানো যাচ্ছেন না মারণ ভাইরাসের কামড়।
গত বছরের শেষদিক থেকে চিনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী ইউহান থেকে ছড়িয়ে পড়েছে নোভেল করোনা ভাইরাস। তারপর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। মঙ্গলবার হুবেইয়ে নতুন করে ১ হাজার ৬৯৩ হাজার করোনা আক্রান্তের খবর মিলেছে। তবে আগের দিনের চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা কম। সোমবার ১ হাজার ৮০৭ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছিল। তবে মৃতের সংখ্যা সোমবারের চেয়ে বেড়েছে। সোমবার যেখানে ৯৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে মঙ্গলবার ১৩২ জন মারা গিয়েছেন বলে খবর।
[ আরও পড়ুন: FATF-এর ধূসর তালিকাভুক্ত ইসলামাবাদ, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের মুখ পুড়ল ইমরান সরকারের ]
ইতিমধ্যেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বলি হয়েছেন ইউহানের এক হাসপাতালের ডিরেক্টর। মারাত্মক শক্তিশালী Covid-19এর সঙ্গে যুদ্ধ করে শেষ পর্যন্ত জীবনে ফেরার মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। করোনাই কেড়ে নেয় ডিরেক্টর লিউ ঝিমিংয়ের প্রাণ। লিউ ঝিমিংই ইউহানের প্রথম হাসপাতাল অধিকর্তা, করোনা ভাইরাস সংক্রমণে যাঁর মৃত্যু হল। এর আগে করোনা নিয়ে প্রথম দেশবাসীকে সতর্ক করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং। করোনা মোকাবিলায় কাজ করতে গিয়ে চিনে ৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তবে লিউয়ের মৃত্যুতে একেবারে ধাক্কা খেয়ে গিয়েছে ইউচাং হাসপাতাল।
অন্যদিকে করোনার থাবা থেকে বাঁচতে চুল কেটে ফেলতে হয়েছে চিনের নার্সদের। সংক্রমণের সমস্ত পথ বন্ধ করতে চুল কেটে ফেললেন মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা। এতে দুটি উপকার হবে বলে মনে করেন তাঁরা। প্রথমত, চুলের মাধ্যমে প্রাণঘাতী জীবাণুর সংক্রমণ এড়ানো যাবে। দ্বিতীয়ত, হাসপাতালে প্রবেশের পর যে সুরক্ষাবর্ম তাদের পরতে হয়, তা বদল করাও অনেক সহজসাধ্য এবং কম সময়ের মধ্যে হবে। সূত্রের খবর, নার্সদের এখন কাজ শুধুই রোগীদের দিকে নজর রাখা, ঠিকমতো চিকিৎসা করা। জরুরিকালীন পরিষেবায় যাঁরা নিযুক্ত, তাঁরা দিনে মাত্র একবার খাবার খাচ্ছেন, শৌচকাজও করছেন না। বদলে ডায়াপার ব্যবহার করছেন।
[ আরও পড়ুন: চোখের জলে কেশ বিসর্জন, মারণ জীবাণুর সঙ্গে লড়াইয়ে চুল কাটছেন চিনের নার্সরা ]
সোমবার চাইনিজ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন(China CDC)-এর পক্ষ থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO)-কে চিনে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়েছে বলে জানান WHO-এর ডিরেক্টর জেনারেল। এই বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নজর রাখছে বলেও মন্তব্য করেন। জানান, চিনের তরফে এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই এখনই এই বিষয়ে কিছু মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
করোনা ভাইরাস নিয়ে গোটা দুনিয়া যখন তোলপাড়, তখন দেশের সরকার সঠিক তথ্য দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। পাশাপাশি একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং নাকি আগে থেকেই জানতেন করোনার মতো ভয়ংকরতম ভাইরাস চিনে ছোবল মারতে চলেছে। কিন্তু, কাউকে ঘুণাক্ষরেও সে কথা জানতে দেননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাই জিনপিংয়ের সময়কালে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং তিনি নিজের ব্যর্থতা মানতে নারাজ।
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার