Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
European Union

মার্কিন চাপে ‘লোকসানের বাণিজ্য চুক্তি’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের! সতর্ক ভারত

পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে সতর্ক হয়ে উঠেছে ভারতও।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৮, ২০২৫, ১৪:৩০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৮, ২০২৫, ১৪:৩০

options
link
মার্কিন চাপে ‘লোকসানের বাণিজ্য চুক্তি’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের! সতর্ক ভারত zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর স্কটল্যান্ডে সম্পন্ন হয়েছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকায় বাণিজ্য করতে গেলে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (EU)। পাশাপাশি আমেরিকায় বিনিয়োগ ও জ্বালানি কিনতে হবে ইইউকে। আপাতভাবে এই চুক্তি বিরাট সাফল্য হিসেবে দেখানো হলেও, বিশেষজ্ঞদের দাবি, আমেরিকার বেঁধে দেওয়া সময়সীমার চাপে পড়ে লোকসানের চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে সতর্ক হয়ে উঠেছে ভারতও।

জানা যাচ্ছে, এই বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সময়সীমা বেঁধে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। জানিয়ে দেওয়া হয়, ১ আগস্টের মধ্যে যুক্তি সম্পন্ন না করলে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে তাদের উপর। সেকথা মাথায় রেখেই তড়িঘড়ি রবিবার চুক্তিতে সাক্ষর করা হয়। নয়া চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসা বেশিরভাগ পণ্যের পর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে আমেরিকা। ইইউকে আমেরিকা থেকে ৭৫০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি কিনতে হবে। পাশাপাশি চুক্তির শর্ত মেনে ইইউকে আমেরিকায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিময়ে অটোমোবাইল, ওষুধ ও সেমিকন্ডাক্টরে ১৫ শতাংশ শুল্কে বাণিজ্য করতে পারবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। চুক্তি না হলে ইইউ-এর অর্থনীতির মূল উৎস এই ক্ষেত্রগুলিতে অধিক শুল্প চাপানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল আমেরিকা। তাছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসে রাশিয়া নির্ভরতা এড়িয়ে আমেরিকার থেকে জ্বলানি কিনতে পারবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রাশিয়াকে নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পাশাপাশি চুক্তির ফলে ন্যাটোয় সহায়তা জারি রাখবে আমেরিকা।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের দাবি, ব্রিটেনের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানো আমেরিকা, ইইউ-এর উপর ১৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো স্বাভাবিক চেয়ে বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া, ৭৫০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি কেনা এই প্রতিযোগিতার বাজারে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আমেরিকা নির্ভর করে তুলবে। এবং ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি ফলে সদস্য দেশগুলির উপর বিনিয়োগের অঙ্ক কমাতে হতে পারে ইইউকে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই চুক্তি মোটেই লাভজনক চুক্তি হতে পারে না। তবে সময়সীমার চাপে এই চুক্তি না করলে এই শুল্কের পরিমাণ অনেক বেশি বাড়ত ইইউ-এর জন্য। তাই ক্ষতি স্বীকার করেই এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয় তারা। তাছাড়া রাশিয়া যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের উপর কলকাঠি নেড়ে জ্বালানি উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সেক্ষেত্রে বিপাকে পড়বে এই দেশগুলি। পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়েই তড়িঘড়ি চুক্তি সাক্ষর করেন ইইউ প্রধান ভন ডের লেইন।

এদিকে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তিও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে পদে পদে। সেখানে মূল বাধা দাঁড়িয়েছে ভারতের কৃষিক্ষেত্র। আমেরিকার দুধ ভারতে বিক্রি করতে আগ্রহী ট্রাম্প। তবে ভারত চায় না আমেরিকা কোনওভাবে ভারতের কৃষি ও পশুপালন সংক্রান্ত শিল্পে প্রবেশ করুক। এদিকে ভারতের উপর চাপ বাড়তে প্রথমে ১ আগস্টের মধ্যে চুক্তির সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল হোয়াইট হাউস। তবে সে সময়সীমা কিছুটা পিছিয়েছে। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফের ভারতে আসছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। উদ্দেশ্য বাণিজ্য চুক্তি। এবং আটকে থাকা তিনটি জটিলতার সমাধান। যেগুলি হল, অটো পার্টস, ইস্পাত এবং কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক।

তবে আমেরিকার পাতা ফাঁদে ভারত যাতে পা না দেয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়সীমার চাপে পড়ে তাড়াহুড়োর চুক্তিতে কোনওভাবেই যেন জাতীয় স্বার্থ ক্ষুন্ন না হয়। দুই তরফেই লাভজনক অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া। সে বার্তা অবশ্য আগেই দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তবে চুক্তি সম্পন্ন না হলে ভারতের রপ্তানির উপর ২৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ৫০০ শতাংশ শুল্কের খাঁড়া চাপানোর হুঁশিয়ারি আগেই দিয়ে রেখেছে আমেরিকা। সবমিলিয়ে মার্কিন চাপ কাটিয়ে লাভজনক চুক্তির লক্ষ্যে সঠিক পথ খুঁজতে হবে ভারতকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.