সালটা ১৯৮৫-র ২৩ জুন। কানাডার মন্ট্রিল থেকে রওনা দিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান কণিষ্ক। গন্তব্য ছিল লন্ডন হয়ে দিল্লি। তবে মাঝপথে আয়ারল্যান্ড উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর ভয়ংকর বিস্ফোরণ হয় বিমানটিতে। মর্মান্তিক সেই ঘটনায় প্রাণ হারান ৩২৯ জন। এই জঙ্গি হামলায় খলিস্তানিদের হাত রয়েছে বলে শুরু থেকে দাবি করে এসেছিল ভারত। ৪ দশক পর অবশেষে ‘কণিষ্ক’ কলঙ্ক মানল কানাডা।
ভারতীয় বিমানে ভয়ংকর এই জঙ্গি হামলার ঘটনার পর ভারত সরকারের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল, হামলার নেপথ্যে রয়েছে খলিস্তানিরা। তবে এত বছর ভারতের সেই দাবিকে স্বীকৃতি দেয়নি কানাডা। বলা ভালো, তৎকালীন পরিস্থিতিতে খলিস্তানিদের কুকীর্তি আড়াল করছিল সেখানকার সরকার। তবে সময় বদলেছে। বুধবার মর্মান্তিক সেই দিনের কথা স্মরণ করে সোশাল মিডিয়ায় এক বার্তা দেয় কানাডার গোয়েন্দা সংস্থা সিএসআইএস। যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ‘১৯৮৫ সালের ২৩শে জুন কানাডার খলিস্তানি জঙ্গিদের বোমা হামলায় ধ্বংস হয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৮২। এই ঘটনায় ৩২৯ জনের মৃত্যু হয়। যার অধিকাংশই ছিলেন কানাডার নাগরিক। এই ঘটনা ছিল কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা।’
আরও পড়ুন:
কানাডার তরফে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ‘১৯৮৫ সালের ২৩শে জুন কানাডার খলিস্তানি জঙ্গিদের বোমা হামলায় ধ্বংস হয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৮২।’
কিন্তু কেন এত বছর সময় লাগল কানাডার আসল সত্য প্রকাশ করতে? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গত কয়েক দশক ধরে খলিস্তানিদের বিরুদ্ধে ভারত সরকার কঠোর পদক্ষেপ করলেও কানাডা এদের কার্যত দুধে-ভাতে রেখেছিল। এর নেপথ্যে ছিল দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কানাডায় খলিস্তানিদের বাড়বাড়ন্ত রুখতে ভারত তৎপর হলেও তাতে গা করেনি এই দেশ। এসবের মাঝেই কানাডার গোয়েন্দা সংস্থা সিএসআইএস এবং রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেন পুলিশ (RCMP)-র সংঘাত এই মামলার তদন্তকে অচল করে দেয়। নষ্ট হয় বহু প্রমাণ। পরবর্তীকালে ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার স্বীকার করেন যে সেই ঘটনায় মৃতদের পরিবারগুলোর প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা দেখানো হয়েছিল। তবে এসবের মধ্যেও খলিস্তান প্রেম এতটুকু কমেনি কানাডার।
গত বছর জাস্টিন ট্রুডো সরকারের সঙ্গেও এই খলিস্তান ইস্যুতে সংঘাতে জড়িয়েছিল ভারত সরকার। খলিস্তানি জঙ্গি নিজ্জর খুনে ভারতকে দায়ী করে কূটনৈতিক সম্পর্ককে কার্যত তলানিতে নিয়ে যান ট্রুডো। তবে দেশের অন্দরে একের পর এক খলিস্তানি হামলার ঘটনা ঘটেও সে বিষয়ে উদাসিন ছিলেন জাস্টিন ট্রুডো। ঘটনাচক্রে কানাডায় সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতিতে ব্যাপক বদল ঘটে। মার্ক কার্নি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থা সিএসআইএস প্রথমবার কানাডার খলিস্তানি সংগঠনগুলিকে তাঁদের দেশের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। সিএসআইএস স্বীকার করে কানাডা-ভিত্তিক খলিস্তানিরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সক্রিয়ভাবে কানাডার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করছে। এর ঠিক পর এবার ৪০ বছরের পুরনো কণিষ্ক বিমানে জঙ্গি হামলায় খলিস্তানিদের যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করল কানাডা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
১ জুলাই থেকে বাড়ছে পাসপোর্ট তৈরি ও রিনিউর খরচ, হারালেও গুনতে হবে মোটা টাকা!
-
দাম বাড়বে পাউরুটির! ডিজেল সংকটের জেরে সিদ্ধান্ত বেকারি সংস্থাগুলির
-
রাম মন্দিরের ৩,৫০০ কোটি প্রণামীর বেশিটাই গায়েব! সিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে ৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর
-
ভালোবাসা অটুট রাখতে চান? সঙ্গীকে ভুলেও নিজের সম্পর্কে এই ৪ কথা জানাবেন না!
-
লক্ষ্মী ও অন্নপূর্ণার ফারাক কোথায়? বোঝালেন স্বপন, দুর্নীতিতে শ্বেতপত্র প্রকাশ