Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Jeffrey Epstein

কীভাবে ফাঁদে ফেলা হত অল্পবয়সি মেয়েদের? এপস্টেইনের নারকীয় কীর্তির পর্দাফাঁস নির্যাতিতার

রিনা বলেন, "৫-৬ বছর বয়সে এক প্রাপ্তবয়স্কের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলাম। ফলে আমার মধ্যে সেই ট্রমা ছিল, যার জেরে আমি চুপচার থাকতাম ও মানসিকভাবে দুর্বল ছিলাম। সে কথা এপস্টেইন জানত।"

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১৯:১১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১৯:১১

options
link
কীভাবে ফাঁদে ফেলা হত অল্পবয়সি মেয়েদের? এপস্টেইনের নারকীয় কীর্তির পর্দাফাঁস নির্যাতিতার zoom
এপস্টেইনের নারকীয় কীর্তির পর্দাফাঁস নির্যাতিতা রিনা ওহর।

যৌন অপরাধী এপস্টেইনকে নিয়ে ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন তাঁর দ্বারা নির্যাতিত এক মহিলা। ১৯৯০ সালের নারকীয় সেই অতীত স্মরণ করে রিনা ওহ নামের ওই নির্যাতিতা তুলে ধরলেন যৌন অপরাধীর অন্ধকার জীবনের তথ্য। শুধু তাই নয়, তাঁর বয়ানে উঠে এল কীভাবে অল্পবয়সি মেয়েদের ফাঁদে ফেলত এই চক্র।

এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিনা বলেন, তিনি যখন এপস্টেইনের খপ্পরে পড়েন তখন তাঁর বয়স মাত্র ২১। রিনার কথায়, “শুরুতে ও আমার প্রশংসা করত। তারপর শুরু হয় শরীর নিয়ে অপমান ও কটুক্তি। কী করতে হবে, কীভাবে চলতে হবে সব ও আমায় বলে দিত। তখন আমার বয়স ২১, ওঁর ৪৭। অথচ আমায় বলত আমি নাকি বুড়ি। এই কথা একটি মেয়ের উপর কী ভয়াবহ প্রভাব ফেলে বুঝতে পারছেন। তাঁর অপমান ও চাপের জেরে মানসিক অবসাদের শিকার হই আমি।”

Advertisement

রিনার কথায়, “শুরুতে ও আমার প্রশংসা করত। তারপর শুরু হয় শরীর নিয়ে অপমান ও কটুক্তি। কী করতে হবে, কীভাবে চলতে হবে সব ও আমায় বলে দিত। তখন আমার বয়স ২১, ওঁর ৪৭। অথচ আমায় বলত আমি নাকি বুড়ি।”

রিনা আরও বলেন, “আমি ৫-৬ বছর বয়সে এক প্রাপ্তবয়স্কের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলাম। ফলে আমার মধ্যে সেই ট্রমা ছিল, যার জেরে আমি চুপচার থাকতাম ও মানসিকভাবে দুর্বল ছিলাম। সে কথা এপস্টেইন জানত। এবং সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আমার উপর নির্যাতন করত।” এরপর এপস্টেইনের সঙ্গে ফ্লোরিডা সফরের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই সফরে আমার সঙ্গে অন্য একটি মেয়ে ছিল। সে আমায় জানিয়েছিল এপস্টেইনের সবচেয়ে অন্ধকার, গোপন কথা। যা অন্য একটি মেয়েকে জানালে একথা এপস্টেইনের কানে ওঠে এবং সে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।”

কীভাবে তিনি এপস্টেইনের ফাঁদে পড়েছিলেন সে কথাও জানিয়েছেন রিনা। বলেন, এপস্টেইন আমায় কোনও কারণ ছাড়াই স্কলারশিপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এবং বারবার ফোন করে আমায় ডাকে। আমি যেতে না চাওয়ায় স্কলারশিপ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যার জেরে বিদেশে বিপাকে পড়েন তিনি। বাধ্য হয়ে এপস্টেইনের দ্বারস্থ হন। সেখানে তাঁর মতো আরও অনেক মেয়ে ছিল। সকলেই সেখান থেকে পালাতে চাইত কিন্তু উপায় ছিল না।”

আমি বুঝেছিলাম আমার আর কোনও উপায় নেই। এপস্টেইনের হুমকি ছিল, যদি কোনও তথ্য ফাঁস হয় তবে যা খুব খারাপ কিছু ঘটবে। বাধ্য হয়েই আমাদের চুপ থাকতে হত। এপস্টেইনের কিছু প্রোটোকল ছিল। সেখানে মেসেজ রুমে মেয়েদের রাখা হত। বহু প্রভাবশালীর আনাগোনা ছিল সেখানে। সম্প্রতি এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজপরিবারের এক সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর। এই ঘটনায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন রিনা। অন্যান্য নির্যাতিতাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “তোমরা একা নও। ভয় পেয়ো না। আমাদের অবশ্যই লড়তে হবে। পুরো সত্যিটা বের করতেই হবে। যারা এই অপরাধচক্রে জড়িত, সকলকেই একদিন জবাব দিতে হবে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.