১২ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মোদির মার্কিন কংগ্রেস জয়

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 9, 2016 12:20 pm|    Updated: June 9, 2016 12:20 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক:  এলেন, দেখলেন, জয় করলেন৷

দীর্ঘ এগারো বছর পর মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিলেন ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী৷ এবং সেই মুহূর্তটা স্মরণীয় করে তুললেন নরেন্দ্র মোদি৷ প্রায় এক দশক আগে যাঁকে ভিসা দিতে অস্বীকার করেছিল মার্কিন প্রশাসন, বুধবার তাঁকেই সাদরে বরণ করে নিলেন সে দেশের আইনপ্রণেতারা৷ শুধু কি তাই? ভাষণ চলাকালীন আটবার উঠে দাঁড়িয়ে মোদিকে সম্ভাষণ জানালেন মার্কিন কংগ্রেসের শীর্ষকর্তারা৷ আবার বক্তৃতা চলাকালীন ৬৬ বার মাঝপথেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে থামিয়ে দিলেন তাঁরা৷ শুধুমাত্র উদাত্ত করতালির শব্দে৷ নিজেকে আটকালেন না মোদিও৷ ধন্যবাদ ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন আমন্ত্রণকারীদের৷

মার্কিন কংগ্রেসের শীর্ষকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর পর প্রথা মেনে কংগ্রেসের এসকর্ট কমিটির সদস্যরা মোদিকে পথ দেখিয়ে সভায় নিয়ে যান৷ সকলকে চমকে দিয়ে ডায়াস ছেড়ে সভাকক্ষে নেমে আসেন মোদি৷ উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে তাঁর সঙ্গে হাত মেলানোর জন্য রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায়৷ এরপর মোদি ডায়াসে ফিরলেও মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের আবেগ ও উচ্ছ্বসিত করতালির প্রত্যুত্তরে অনেকক্ষণ ধরে হাত নাড়েন প্রধানমন্ত্রী৷ ভাষণ শুরুর আগে ঐতিহ্যশালী মার্কিন কংগ্রেসের ছবিটা ভারতের কোনও নির্বাচনী প্রচারসভার চেয়ে আলাদা ছিল না৷ এমনকী, মোদি ভাষণ শুরু করার মুহূর্তেও ফের উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানান কংগ্রেস সদস্যরা৷

এদিন মোদির ভাষণে যে পাঁচটি মুখ্য বিষয় উঠে এসেছে, তার মধ্যে অন্যতম হল সন্ত্রাস দূরীকরণ৷ পাকিস্তানের নাম না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের পড়শি দেশই সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর৷ সন্ত্রাসবাদের প্রশ্রয়দাতাদের আমাদের কোণঠাসা করতে হবে৷ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিপদ সন্ত্রাসবাদই৷ এর ভাল বা খারাপ বলে কিছু হয় না৷” ভারতের গৌরব প্রচারেও প্রধানমন্ত্রী চেষ্টার কোনও কসুর করেননি৷ মোদি বলেন, “বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যকে আমরা সম্মান করি৷ ভারতের নাগরিক ভয়মুক্ত পরিবেশে বাস করেন৷ ভারতের সংবিধান আমাদের সরকারের ধর্মগ্রন্থ৷

প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে মোদি বলেন, “ভবিষ্যতে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নতি আনতে মার্কিন উদ্ভাবনী শক্তি এবং ভারতের মেধা তথা সৃষ্টিশীলতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে৷” নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মোদির মত, এশিয়ায় সর্বসম্মত নিরাপত্তা পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে৷ প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং আমি, দু’জনেই এ বিষয়ে সম্মত হয়েছি যে, রাষ্ট্রসঙেঘর নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসাবে ভারতকে এই শতকের নতুন বাস্তবের এক অপরিহার্য অংশ হিসাবে পরিগণিত হতে হবে৷” ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পঞ্চম মুখ্য বিষয় ছিল ফের ভারত৷ ভারতীয় তরুণদের দক্ষতা-বৃদ্ধি, একশো স্মার্ট সিটি তৈরি করা, একশো কোটি মানুষের জন্য ব্রডব্যান্ড পরিষেবা ইত্যাদির ব্যবস্থা করা৷ রসিকতা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমেরিকায় প্রায় তিন কোটি মানুষ যোগাভ্যাস করেন বলে শুনেছি৷ কিন্তু আমরা সে জন্য কোনও মেধাস্বত্ব দাবি করিনি৷ আপনাদের দেশের সেরা সিইও, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক এমনকী, স্পেলিং বি চ্যাম্পিয়নদের মধ্যেও অনেক ভারতীয় আছেন৷ তাঁরা ভারতের গর্ব৷”

ভারত-মার্কিন বন্ধুত্বের কথা মোদির ভাষণে যে উঠে আসবে, সেটাই স্বাভাবিক ছিল৷ কিন্তু মোদি যখন বললেন, দু’দেশ পরস্পরের সঙ্গে স্বাধীনতার বন্ধনে আবদ্ধ, ক্যাপিটল হিলে কান পাতা দায়৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের দেশের সংস্কৃতি ভিন্ন৷ কিন্তু গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের বিশ্বাসে কোনও পার্থক্য নেই৷ ভেদ নেই অন্যান্য আদর্শেও৷ গণতন্ত্রের মন্দির দুই দেশকেই উৎসাহ দিয়েছে সেই আদর্শে এগিয়ে যেতে৷ আমেরিকাকে স্বাধীন করতে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন৷ তাঁদের আত্মত্যাগকে সম্মান করে ভারত৷” দু’দেশের গণতন্ত্র, মনীষীদের চিন্তাধারা কীভাবে পরস্পরকে প্রভাবিত করেছে, মোদি তা-ও তুলে ধরেন৷ উল্লেখ করেন আব্রাহাম লিঙ্কনের উদ্ধৃতি৷ মহাত্মা গান্ধীকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন মার্টিন লুথার কিং, মার্কিন সংবিধান থেকে প্রেরণা নিয়েছেন বি আর আম্বেদকর৷ ভারত ও আমেরিকা স্বাভাবিক মিত্র বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী৷ সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন মোদি৷ সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবাদী হামলা থেকে দেশের নানা শহরকে রক্ষা করতে মার্কিন সাহায্যের কথাও স্বীকার করে নেন মোদি৷ প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত খুব দ্রুত আর্থিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতি করছে৷ শক্তিশালী ভারত আমেরিকার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয়৷ এর আগে সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণাণ, রাজীব গান্ধী, পি ভি নরসিমা রাও, অটলবিহারী বাজপেয়ী ও মনমোহন সিং মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন৷ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুও ভাষণ দেন৷ তবে মার্কিন সেনেট ও হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে আলাদাভাবে৷ চলতি বছর বিদেশি রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে একমাত্র মোদিই এই বিরল সম্মানের অধিকারী হলেন৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement