শনিবার ওড়ার পরই নিখোঁজ হয়ে যায় ইন্দোনেশিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান। অবশেষে পাওয়া গেল এই বিমানের ধ্বংসাবশেষ। রবিবার আধিকারিকরা এই খবর জানিয়েছেন। মেঘলা আবহাওয়ার মধ্যে মাকাসার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় টার্বোপ্রপ এটিআর ৪২-৫০০ বিমানটির সঙ্গে এটিসি-র যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর প্রায় একদিন পরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে।
রবিবার সকালে স্থানীয় অনুসন্ধান দল এবং বিমান কর্মীরা মারোস অঞ্চলের মাউন্ট বুলুসারাউং-এর ঢালে বিমানের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেন। জানা গিয়েছে, ধ্বংসাবশেষের মধ্যে বিমানের একটি ছোট জানালা, বিমানের কিছু অংশ এবং বিমানের লেজের অংশ পাওয়া যায়। এই ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হওয়ায় বাকি অংশ উদ্ধার করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন:
এই সাফল্য সত্ত্বেও, উদ্ধারকারীরা কঠিন ভূখণ্ড, ঘন কুয়াশা এবং তীব্র হাওয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। এরফলে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়েছে। এই কারণেই ধ্বংসাবশেষ কিছুটা পাওয়া গেলেও পুরোটা খুজে পেতে বেশি কিছুটা সময়স লাগবে।
WATCH: Wreckage of Indonesian ATR 42-500 located on Mount Bulusaraung in South Sulawesi after crash near Makassar–Sultan Hasanuddin International Airport; 11 feared dead. https://t.co/YQQVP4LiWb pic.twitter.com/lpdmt8Ae56
— Intel Net (@TheIntelNet) January 18, 2026
জানা গিয়েছে, এটিআর ৪২-৫০০ নামে ওই উড়ানটি শনিবার বেলায় ইন্দোনেশিয়ার যোগকার্তা থেকে মাকাসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। বিমানবন্দর থেকে ওড়ার কিছুক্ষণ পর আচমকা সেটির সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। উড়ানটিতে ‘ত্রু’ সমেত মোট ১১ জন যাত্রী ছিলেন। গোটা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সরকারিভাবে এখনও ওই বিমানসংস্থা কিছুই জানায়নি। তবে মুখ খুলেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। সে দেশের পরিবহন মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছে, বিমানটিকে খোঁজার চেষ্টা চলছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে কাজ। সমস্ত তথ্য পাওয়ার পরই বিমানসংস্থা বিবৃতি দেবে বলে সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে একইরকম একটি ঘটনা ঘটে। উড়ানের পর মাঝআকাশে নিখোঁজ হয়ে যায় একটি রুশ বিমান। বিমানটি সাইবেরিয়ার আঙ্গারা এয়ারলাইন্সের মালিকানাধীন ছিল। ৫০ জন যাত্রী নিয়ে রাশিয়ার পূর্ব প্রান্তের আমুর প্রদেশের টিন্ডা শহরের উদ্দেশে রওনা যাচ্ছিল উড়ানটি। মাঝ আকাশেই হঠাৎ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বহু চেষ্টা করেও বিমানটির কোনও খোঁজ মেলেনি। তারপর সেটি খোঁজার জন্য় একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। খানিক পরে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়।