Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Iran

সেতার ও সন্তুরের সুর অতীত! ইজরায়েলি গোলায় ইরানে ধ্বংসস্তূপ শিশুদের মিউজিক স্কুল

এক সঙ্গীতশিল্পীর সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে গড়ে তোলা ওই স্কুল আজ অতীত!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১৪:০৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১৪:০৯

options
link
সেতার ও সন্তুরের সুর অতীত! ইজরায়েলি গোলায় ইরানে ধ্বংসস্তূপ শিশুদের মিউজিক স্কুল zoom
গত ২৩ মার্চ এখানে আছড়ে পড়েছিল ইজরায়েলের গোলা।

সুরের সঙ্গে অসুরের দ্বন্দ্ব! সেতার ও সন্তুরের সুরেলা আবহে ঘেরা শিশুদের মিউজিক স্কুলকে গ্রাস করল গোলাবর্ষণের শ্রুতিকটু বীভৎস শব্দ। সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ধূলিসাৎ ইরানের ‘হোনিয়াক মিউজিক অ্যাকাডেমি’। আড়াইশো ছাত্রছাত্রী যেখানে সুরের শিক্ষা নিত, সেই আনন্দ নিকেতন আজ অতীত। ধ্বংসস্তূপে পড়ে থাকা বাদ্যযন্ত্রের খণ্ডাংশ উঁকি দিচ্ছে ভেঙে পড়া ইট-কাঠ-পাথরের ফাঁকে।

ইরানি সঙ্গীতশিল্পী হামিদরেজা আফারিদে বছর দুয়েক আগে এই স্কুল খুলেছিলেন স্ত্রী শেইদা এবাদাতদৌস্তের সঙ্গে মিলে। নিজেদের হৃদয় ও অর্থ, সবটাই উজাড় করে তৈরি করিয়েছিলেন এই সঙ্গীত ভবন। স্বপ্ন ছিল ঘরের দেওয়ালে দেওয়ালে সুর খেলা করবে। দেখতে দেখতে শিক্ষার্থী জুটেও গিয়েছিল। বাড়তে বাড়তে প্রায় আড়াইশো। কেবল খুদেরাই নয়, বয়স্করাও আসতেন সুরের শিক্ষা নিতে। আজ যেন তা অলীক স্বপ্নের মতো। হামিদরেজা বলছেন, ”সব মুছে গেল!”

Advertisement

গত ২৩ মার্চ এখানে আছড়ে পড়েছিল ইজরায়েলের গোলা। সেই সময় অবশ্য স্কুলে কেউ ছিল না। তাই প্রাণহানি হয়নি। যুদ্ধ শুরু হতেই তা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন হামিদরেজা। কিন্তু আজ সব শেষ। তিনি বলছেন, ”আমার জীবনসঙ্গী ও আমি দু’জনে মিলে গত ১৫ বছরের কঠোর পরিশ্রমে যে সমস্ত সম্পত্তি ও সম্পদ গড়ে তুলেছিলাম, তা রাতারাতি ধ্বংস হয়ে গেল! পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। কিছুই আর অবশিষ্ট রইল না।” অথচ প্রথমটায় তিনি বুঝতে পারেননি কী ঘটে গিয়েছে। কেননা পুরু ধোঁয়ায় ঢাকা ছিল সবটা। তাঁর কথায়, ”আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম আকাশ ভরে আছে পুরু ধোঁয়ায়। এতই ঘন ধোঁয়া যে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না।” পরে অবশ্য পরিষ্কার হয়ে যায় কী ঘটে গিয়েছে! একটা যুদ্ধ যে কত ক্ষতি করতে পারে, তা নতুন করে বুঝিয়ে দিল এই হামলা।

হামিদরেজা বলছেন, ”কোনও বাদ্যযন্ত্রই অবশিষ্ট নেই। টিভি, অডিও সিস্টেম সব গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।” তবু সেই ধ্বংসের মধ্যে জেগে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। কিন্তু কাজটা যে বড় কঠিন। ক্ষতি প্রায় ৪২ হাজার ডলারের। তবু যেভাবে আগুন থেকে ফিনিক্স জেগে ওঠে, সেভাবেই যুদ্ধের ভয়ংকর তোপ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে তো মানা নেই। আপাতত যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে সেটাই পথ দেখাচ্ছে হামিদরেজাকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.