Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬

প্রয়াত কবি বেলাল চৌধুরি, শোকের ছায়া দুই বাংলায়

বুধবার বাংলাদেশের ফেনীতে কবরস্থ করা হবে কবির মরদেহ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৮, ১৩:২৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৮, ১৩:২৪

options
link
প্রয়াত কবি বেলাল চৌধুরি, শোকের ছায়া দুই বাংলায় zoom
Advertisement

সুকুমার সরকার, ঢাকা: সবাইকে কাঁদিয়ে পরপারে পাড়ি দিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক, কবি বেলাল চৌধুরি। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিডনি জটিলতা, রক্তশূন্যতা ও থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে গত চার মাস ধরে ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৮০ বছর বয়সি বেলাল চৌধুরি। গত ১৯ এপ্রিল রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। পরদিন তাঁকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। সব আশা নিভে যাওয়ায় মঙ্গলবার বেলা ১২টা ১ মিনিটে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেন চিকিৎসকরা। বেলাল চৌধুরি ২০১৪ সালের ৯ মে কলকাতা সাহিত্য আকাদেমির এক অনু্ষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তাঁর কিডনিতে সমস্যা হয়েছে। মূত্রনালির ইনফেকশন থেকে জীবাণু সংক্রমণ ছড়িয়েছে রক্তেও। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের সমস্যাও ছিল তার। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস জানান, হাসপাতাল থেকে কবির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর পল্টনের বাসভবনে। সেখানে স্নান শেষে মরদেহ রাখা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যালের হিমঘরে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কবির মরদেহ বাংলা একাডেমিতে নিয়ে যাওয়া হবে। বেলা ১১ থেকে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে কফিন রাখা হবে সর্বস্তরের জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে তাঁকে তাঁর গ্রামের বাড়ি ফেনীর শর্শদিতে কবরস্থ করা হবে।

একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও সাংবাদিক বেলাল চৌধুরির জন্ম ১৯৩৮ সালে ১২ নভেম্বর, ফেনীতে। নয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ছাত্র অবস্থায় বেলাল জড়িয়ে পড়েন বাম ধারার রাজনীতিতে, ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাগারেও যান। ষাট ও সত্তরের দশকে কয়েক বছর কলকাতায় বসবাসের সময় সাহিত্য পত্রিকা কৃত্তিবাস সম্পাদনায় যুক্ত হন কবি। পরে পল্লিবার্তা, সচিত্র সন্ধানী ও ভারত বিচিত্রা পত্রিকার সম্পাদনায় যুক্ত হন। কবিতা, গদ্য, অনুবাদ, সম্পাদনা, শিশুসাহিত্য মিলিয়ে বেলাল চৌধুরির গ্রন্থ সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি। ‘বল্লাল সেন’, ‘ময়ূর বাহন’, ‘সবু্ক্তগীন’ ছদ্মনামেও তিনি লিখেছেন। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘নিষাদ প্রদেশে’, ‘আত্মপ্রতিকৃতি’, ‘স্থির জীবন ও নিসর্গ’, ‘জলবিষুবের পূর্ণিমা’, ‘সেলাই করা ছায়া’, ‘কবিতার কমলবনে’, ‘বত্রিশ নম্বর’, ‘যে ধ্বনি চৈত্রে শিমুলে’, ‘বিদায়ী চুমুক’ উল্লখযোগ্য। এছাড়া তার কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ‘স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল’, ‘ডুমুরপাতার আবরণ’, ‘চেতনার রঙ চন্দ্রশিলা’ এবং ‘লাকসাম দাদা ও অন্যান্য গল্প।’কাগজে কলমে’, ‘মিশ্রচিত্রপট’, ‘নিরুদ্দেশ হাওয়ায় হাওয়ায়’, ‘জীবনের আশ্চর্য ফাল্গুন’, ‘নবরাগে নব আনন্দে’, ‘সুন্দরবন, সোঁদরবন ও রবীন্দ্রনাথ’, ‘মুহূর্তভাষ্য’ ইত্যাদি তার গদ্যনির্ভর গ্রন্থ। শিশু-কিশোরদের জন্য বেলাল চৌধুরি লিখে গেছেন, ‘সাড়ে বত্রিশ ভাজা’, ‘সপ্তরত্নের কাণ্ডকারখানা’, ‘সবুজ ভাষার ছড়া’। নিজে লেখার পাশাপাশি হোর্হে লুই বোর্হেস, পাবলো নেরুদা, ডিলান টমাস, অক্তাবিও পাসের মতো কবিদের লেখা তর্জমা করেছেন বেলাল চৌধুরি। সম্পাদনা করেছেন বেশ কিছু স্মারকগ্রন্থ। তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘জলের মধ্যে চাঁদ ও অন্যান্য জাপানি গল্প’, ‘বিশ্বনাগরিক গ্যেটে’, ‘পাবলো নেরুদা-শতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি’, ‘শামসুর রহমান সংবর্ধনাগ্রন্থ’, ‘পদাবলী কবিতা সংকলন’ ও ‘কবিতায় বঙ্গবন্ধু’। বেলাল চৌধুরি কলকাতা থেকে ১৯৭৪ সালে দেশে ফিরে আসেন, যোগ দেন প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনে। সে সময়ে জাতীয় কবিতা পরিষদ ও পদাবলী কবিতা সংগঠন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৪ সালে একুশে পদক পান কবি বেলাল চৌধুরি। পেয়েছেন বাংলা আকাদেমি সাহিত্য পুরস্কার, নীহাররঞ্জন স্বর্ণপদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার-সহ নানা সম্মাননা। এক মেয়ে সাফিয়া আক্তার চৌধুরি মৌরি এবং দুই ছেলে আবদুল্লাহ প্রতীক ইউসুফ চৌধুরি ও আবদুল্লাহ নাসিফ চৌধুরি পাবলোকে রেখে গিয়েছেন বেলাল চৌধুরি।

Advertisement

কবি বেলাল চৌধুরির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং কবির বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শোকবার্তায় একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কবির সাহিত্যে অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁর কবিতা তাঁকে মানুষের হৃদয়ে স্থান দিয়েছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.