সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিয়ে করলেই সাতখুন মাফ। যদি নির্যাতিতা মহিলাকে বিয়ে করে নেয় অভিযুক্ত, তাহলে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে ক্ষেত্রেও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না। আরব দুনিয়ার বহু দেশে এমনই আজব আইন বলবৎ আছে। তবে বিভিন্ন মহিলা সংগঠনের লাগাতার আন্দোলনের চাপে অবশেষে এই আইনটি বাতিল করার কথা ভাবতে শুরু করেছে লেবানন, বাহরিনের মতো আরব দুনিয়ার অনেক দেশই।
[আটবছর ধরে প্রাতঃরাশ এড়িয়ে গিয়েছেন, ফলে এই মহিলার যা হল…]
সমাজ এখন অনেক আধুনিক হয়েছে। নারীদের নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পালটেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে কাজ করছেন মহিলারাও। কিন্তু, আরব দুনিয়ার অধিকাংশ দেশেই নারীদের নিয়ে চিন্তাভাবনায় বিশেষ বদল ঘটেনি। আজও নারীর সতীত্ব সেখানে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। তাই ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে নির্যাতিতার পরিবারকে ‘কেলেঙ্কারির লজ্জা’ থেকে বাঁচাতে এক আজব আইনও আছে। সেই আইন অনুসারেই ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে নির্যাতিতাকে বিয়ে করে নিলে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না। কিন্তু, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনে লাগাতার আন্দোলনের চাপে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। আরব দুনিয়ার অনেক দেশেই এখন এই আইনটির বাতিল করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।
[জীবন বিপন্ন করে কুকুরের প্রাণ বাঁচালেন দমকলকর্মী]
বস্তুত, ২০১৪ সালে ধর্ষণ আইনের একটি ধারা বাতিল করেছে মরক্কো সরকার। আগে ধর্ষণে সাজাপ্রাপ্ত কোনও অপরাধী যদি নির্যাতিতাকে বিয়ে করে নিত, তাহলে সাজার হাত থেকে রেহাই মিলত। কিন্তু, এখন আর তা হয় না। ধর্ষণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে এই ধরনের আইন বাতিল করার পক্ষে মত দিয়েছে বাহরিনের সংসদও। জর্ডন, লেবাননেও ধর্ষণে অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত উভয়ের জন্যই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাটি বাতিল করার সুপারিশ করেছে সরকার নিযুক্ত কমিটি। খুব তাড়াতাড়ি এই ধারাটি বাতিল করা নিয়ে জর্ডন ও লেবাননের সংসদে ভোটাভুটিও হবে বলে জানা গিয়েছে। একই ঘটনা ঘটেছে তুরস্কেও। জানা গিয়েছে, গত নভেম্বরে নির্যাতিতাকে বিয়ে করার শর্তে ধর্ষণে অভিযুক্ত ৩ হাজার জনকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তুরস্ক সরকার। কিন্তু, প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
[লাইসেন্স নেই, পুলিশের হাত থেকে পালাতে স্কুটার আরোহী কী করলেন জানেন?]
তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংসগঠনের দাবি মেনে আরব দুনিয়ার বহু দেশেই এখন নির্যাতিতাকে বিয়ে করা সংক্রান্ত আইন বাতিল হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু, বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধের তকমা দেওয়ার মতো বহু দাবিগুলি এখনও মান্যতা দিতে চাইছে না আবর দুনিয়ার দেশগুলি। বরং সেক্ষেত্রে নীরবতাকেই শ্রেয় বলে মনে করছে তারা।
সর্বশেষ খবর
-
টিকিটাকায় ধরাশায়ী অস্ট্রিয়া, দুর্বার গতিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেন
-
মিড ডে মিলের মাংস দিয়ে স্যারের বিবাহ বার্ষিকীর ভোজ! শান্তিপুরের স্কুলে তুমুল শোরগোল
-
অফিসের ২৫ জনকে পুলিশি হেনস্তা! ভয় দেখিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড, দাবি অভিষেকের
-
হোয়াটসঅ্যাপের পরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে নোটিস কেন্দ্রের
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতান্তর! বৈঠকে প্রশ্ন একাধিক সাংসদের