সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সম্প্রতি রাশিয়ার রাষ্ট্রনেতা ভ্লাদিমির পুতিনের করোনার টিকা তৈরির কথা ঘোষণা করে ফেলেছেন। স্বভাবিকভাবেই আমেরিকা চুপ করে থাকতে পারে না। কারণ, সামনেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন। তাই মডের্নার টিকায় বাজি ধরল আমেরিকা। ট্রাম্প (Donald Trump) সরকার ১০০ মিলিয়ন টিকার ডোজ বানাতে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করল মডের্নার (Moderna Inc) সঙ্গে। এর আগেও অবশ্য মার্কিন প্রশাসন এই টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থাকে সাহায্য করেছে। তবে, রাশিয়ার টিকা বাজারে আসার পর ট্রাম্প যে তৎপরতা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছেন, সেটা বলাই বাহুল্য।
কিছুদিন আগেই মডের্না তাদের টিকার দাম ধার্য করেছে। মাথা পিছু মডের্নার টিকার খরচ তিরিশ ডলারে আশপাশে থাকবে বলে জানিয়েছে তারা। অক্সফোর্ড এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ডের দাম তুলনায় কিছুটা কম। সূত্রের খবর, করোনার টিকা তৈরির শেষ ধাপে পৌঁছে গিয়েছে মার্কিন সংস্থা মডের্না আইএনসি এবং জার্মানির ফাইজার আইএনসি। মার্কিন সরকারের সমর্থনে গবেষণার তৃতীয় পর্যায়ে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর উপর টিকার চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে জর্জিয়ার সাভানায় এক ব্যক্তির উপর এই টিকা পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হয়। আগামী দিনে আমেরিকার ৮৯ জায়গায় এই পরীক্ষা হবে। জানা যাচ্ছে, এই পর্যায়ে সাফল্য এলে চলতি বছরের শেষ দিকে করোনভাইরাসের টিকা বাজারে এনে ফেলতে পারবে ওই দুই সংস্থা।
[আরও পড়ুন: প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ভয়েই প্রশ্ন তুলছে বহু দেশ, ভ্যাকসিন নিয়ে পালটা রাশিয়ার]
তৃতীয় পর্যায়ে মানব শরীরের উপর টিকার এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগকে ‘ফেজ থ্রি কোভ স্টাডি’ বলা হচ্ছে। এর আগে কখনও কোনও টিকা তৈরির অভিজ্ঞতা নেই মডের্নার। অথচ মার্কিন সরকারের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থসাহায্য পেয়েছে। তাঁরা তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব COVID-19 টিকা বাজারে আনতে নতুন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তারা। তার জন্য গবেষণাগারে তৈরি কৃত্রিম এমআরএনএ দিয়ে টিকা তৈরি করা হচ্ছে।