সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: উষ্ণায়নের হাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে অনেকদিন ধরেই সচেষ্ট ভারত। বৃক্ষরোপণ থেকে অরণ্য সংরক্ষণ সবুজায়নের পথে যা যা দরকার সবই করার চেষ্টা চলছে। এবার সেই চেষ্টার স্বীকৃতি দিল নাসা। সম্প্রতি আমেরিকার এই গবেষণা সংস্থা থেকে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট দেখা যাচ্ছে, গত ২০ বছর আগে পৃথিবী যতটা সবুজ ছিল তার থেকে আরও বেড়েছে গাছপালার সংখ্যা। ২০০০ সালে যা পরিস্থিতি ছিল তার থেকে প্রতিবছর পাঁচ শতাংশ করে বাড়ছে সবুজ পৃথিবীর জায়গা। ফলে গত ২০ বছরে এই বসুন্ধরার দুই মিলিয়ন বর্গমাইল জায়গা হয়ে উঠেছে ধনধান্যে পুষ্পে ভরা। যার ভিতরে আরামসে ঢুকে যেতে পারে আরেকটা আমাজন বৃষ্টিচ্ছায় অরণ্য।
নাসা সূত্রে খবর, আগামী প্রজন্মের জন্য এই সবুজ বিশ্ব গড়ে তোলার কাজে গত ২০ বছর ধরে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে এশিয়ারই দুটি দেশ, ভারত ও চিন। একসময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত তিনটি দেশের নাম করতে গিয়ে যাদের নাম উচ্চারিত হত। দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সৌজন্যে আজ তারাই ‘গ্রীন ওয়ার্ল্ড’ বা ‘সবুজ পৃথিবী’ গড়ার মূল কারিগর হিসেবে দৃষ্টান্ত গড়েছে গোটা বিশ্বের সামনে। হয়ে উঠছে জলজ্যান্ত উদাহরণ।

নয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে পৃথিবী কতটা সবুজ হয়ে উঠছে তা নজরে রাখছিল নাসার দুটি উপগ্রহ। তুলছিল সবুজ পৃথিবীর তরতাজা ছবি। কুড়ি বছর ধরে তোলা সেই সব ছবি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গিয়েছে, এই পৃথিবীকে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে যাওয়ার এই লড়াইয়ে সবথেকে বেশি অবদান রয়েছে ভারতের। দু’দশকে গোটা বিশ্বের সবুজায়নে যার পরিমাণ ৬.৮ শতাংশ। ৬.৬ শতাংশ নিয়ে যার ঠিক পিছনেই রয়েছে চিন। গবেষকরা জানিয়েছেন, ভারত ও চিনের গড়ে তোলা এই সবুজ পৃথিবীর মধ্যে ৪৮ শতাংশ রয়েছে বনাঞ্চল আর বাকি ৩২ শতাংশ চাষের জমি। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রচেষ্টার ফলে উষ্ণায়নের হাত থেকে পরিবেশ রক্ষার সম্ভাবনাও বাড়ছে।
[ভিলেন পরিবেশ বদল, ক্ষয়ের মুখে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন প্রাকৃতিক স্থাপত্য]
যদিও তা উষ্ণায়নের বিপদ থেকে পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট নয় বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা। তাঁদের কথায়, একদিকে যেমন সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে অন্যদিকে তেমনি অরণ্য নিধন করে গড়ে উঠেছ নতুন নতুন জনবসতিও। দুটির মধ্যে ভারসাম্য থাকছে না অনেক সময়। এর ফল মারাত্মক হতে পারে আগামী প্রজন্মের জন্য। তাই কোথাও যদি একটা গাছ কাটা হয় তাহলে সেখানে দুটির জায়গায় চারটে গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে দিনদিন। এর জন্য প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রনেতা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হয়ে ওঠার খুবই দরকার আছে। তবে সবুজায়নের সুবিধা বোঝানো গেলে সাধারণ মানুষও যে অনেক অসাধারণ কাজ করতে পারেন নাসার রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে সেকথাও। নাসার এক গবেষকের কথায়, উপগ্রহ থেকে পাঠানো সবুজ পৃথিবীর ছবি দেখে প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম গরম বা বৃষ্টিভেজা পরিবেশ অথবা বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের আধিক্যের জন্য পৃথিবীর উত্তরদিকে বনাঞ্চলে সবুজ পাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ওরকম মনে হচ্ছে। কিন্তু, এখন সব তথ্য দেখার পর বিষয়টি পরিষ্কার হল যে সত্যিই আরও সবুজ হচ্ছে বিশ্ব। ছোট আকারে হলেও যাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন সাধারণ মানুষও। আর রাষ্ট্রসংঘে মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণার ব্যাপারে ভারতের পাশে না থাকলেও পৃথিবীর অক্সিজেন বৃদ্ধির কাজে তাদের পাশেই রয়েছে শি জিনপিং-এর চিন।
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপে নামবেন চার ‘ভারতীয়’, মাঠে দাপানো চারমূর্তির দিকে নজর দেশের ফুটবলপ্রেমীদের
-
প্রস্তুতি ম্যাচে হার এমবাপের ফ্রান্সের, আটকে গেল স্পেন, বিশ্বকাপের আগে চিন্তায় দুই হট ফেভারিট!
-
কর্নাটকের কোন্দল লুকোতে পারল না কংগ্রেস! শিবকুমারের শপথের ৩ দিনের মধ্যে পদত্যাগ মন্ত্রীর
-
‘খাঁড়া হাতে বিপত্তারিণী..’, স্বরূপ গ্রেপ্তার হতেই ফুরফুরে মেজাজে অনির্বাণ! ভাইরাল অভিনেতার মজার মিমও
-
‘ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কত অত্যাচার করেছে…’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে মুখ খুললেন দিলীপ