সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চিনের উত্তর-পূর্বপ্রান্তে নতুন করে দেখা দিচ্ছে উপসর্গহীন সংক্রমণ। আক্রান্তদের দেহে ভাইরাসের গঠনগত পরিবর্তন লক্ষ করছেন চিনা চিকিৎসকরা! অজানা উপায়ে পরিবর্তিত হচ্ছে এই মারণ ভাইরাসের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। যা ভাবতে বাধ্য করছে বিশেষজ্ঞদের।
করোনা ভাইরাসের আঁতুড়ঘর হিসেবে বিশ্বে চিহ্নিত হয়েছে চিনের ইউহান। কিন্তু ইউহানের (Wuhan) উত্তরপূর্বপ্রান্তে আক্রান্তদের শরীরে ক্রমেই চারিত্রিক ও গঠনগত পরিবর্তন করছে ভাইরাস। ফলে চিকিৎসকদের কাছে এই ভাইরাস এক ধাঁধার রূপ নিচ্ছে। যা ধীরে ধীরে জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। আক্রান্তদের চিকিৎসার পূর্বে তাই তাঁদের আরও বেশি করে পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় এক চিকিৎসক কিউইউ হাইবো জানান, “চিনের উত্তরে জিলিন এবং হিলংজিয়াংয়ের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের রোগীরা দীর্ঘসময় ধরে এই ভাইরাসটি বহন করেছেন। তাঁদের শরীর থেকে ভাইরাসটি নির্মূল করতে সময়ও লাগছে বিস্তর। ইউহানের আক্রান্তদের তুলনায় এই অঞ্চলের সংক্রমিতদের মধ্যে রোগের লক্ষ্ণণ ধরা পড়েছে অনেক পরে। ফলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তা বোঝার উপায় নেই। এভাবে কোনও উপসর্গ ছাড়াই উত্তরাঞ্চলের মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।” গত দু সপ্তাহে চিনের উত্তরাঞ্চলের শুলান (Shulan), জিলিন (Jilin), শ্যেনগ্যাঙ্গ (Shengyang) মিলিয়ে মোট ৪৬ জনের শরীরে সংক্রমণের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে তাদের শরীরে কোনও উপসর্গ নেই বলেই জানা যায়। এর জেরে উত্তর-পূর্ব প্রান্তে নতুন করে লকডাউন জারি করার উপক্রম শুরু হয়েছে। একশো লক্ষেরও বেশি মানুষকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।
[আরও পড়ুন:২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, মৃত্যু ১৩২ জনের]
চিনের হুবেই প্রদেশের ইউহানে ভাইরাসের গঠনও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হলেও উত্তরাঞ্চলের সংক্রমিতদের শরীরে পাওয়া ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য একেবারেই আলাদা। তাই সংক্রমিতদের চিকিৎসার পূর্ব তাদের আরও বেশি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। চিনের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে যে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে তা হুবেই প্রদেশের তুলনায় ছোট কিন্তু চারিত্রক গঠনের পরিবর্তন চিকিৎসকদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভাইরাসের চারিত্রিক পরিবর্তন নিয়ে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেইজি ফুকুডা বলেন, “তত্ত্ব অনুসারে, ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনই তার চারিত্রিক ও গঠনগত পরিবর্তনের মূল কারণ হতে পারে।” এখন এই নয়া সংক্রমণ রোধে চিন নয়া উপায় খুঁজে বের করতে পারে সেটাই দেখার।
[আরও পড়ুন:করোনা প্রতিরোধে এবার প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেই মান্যতা দিল কলকাতা হাই কোর্ট]
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার