সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আফগানিস্তানে সাত ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারের অপহরণে ক্রমশ বাড়ছে উৎকণ্ঠা। অপহরণকারী কারা? কেনই বা ইঞ্জিনিয়ারদের অপহরণ করা হল? এবার কী করবে ভারত? সব মিলিয়ে অপাতত পরিস্থিতি অত্যন্ত ঘোরাল। আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। শীঘ্রই তাঁদের ফিরিয়ে আনা হবে এমন আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে। তবে চব্বিশ ঘণ্টা কেটে গেলেও খোঁজ মেলেনি অপহৃতদের।
[বাংলোর সুবিধা পাবেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরা, জানাল সুপ্রিম কোর্ট]
প্রথমদিকে আর পাঁচটা অপহরণের মতো মনে হলেও এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে জটিল সমীকরণ। লক্ষণীয়ভাবে ঘটনার পরই বিবৃতি দেয় তালিবানের জঙ্গিনেতা কারি বখতিয়ার। তাঁর দাবি, ভুল করে ওই প্রযুক্তিবিদদের অপহরণ করেছে তার দল। শীঘ্রই অপহৃতদের ছেড়ে দেওয়া হবে। আশার আলো দেখা গেলেও ঘটনা মোড় নেয়। কোনও এক অজ্ঞাত কারণে চুপ করে যায় ওই তালিবান নেতা। খোঁজ মেলে না অপহৃতদের। কী এমন কারণ থাকতে পারে যার জন্য দাপুটে তালিবান নেতাকেও চুপ থাকতে হচ্ছে? এই বিষয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে ‘রিয়াসাত-ই-অমনিয়াত-ই-মিলি’ বা আফগান গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডিরেক্টরেট অফ সিকিউরিটি’। তাদের দাবি, ভারতীয়দের মুক্তির পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তানের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। এভাবেই ভারতীয় সংস্থাগুলির মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে চায় তারা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি রয়েছে আইএসআইয়ের নিশানায়।
রবিবার পুল-ই-খোমরে শহরের বাঘ-ই-শামল থেকে এই সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তাঁরা প্রত্যেকেই ভারতীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানি কেইসি-র কর্মী। আফগানিস্তানে ক্রমশই লগ্নি বাড়িয়ে চলেছে ভারত। যুদ্ধ জর্জর দেশটির পরিকাঠামো নির্মাণে মদত দিচ্ছে ভারত। ফলে কাবুলে ক্রমশই কমছে পাকিস্তানের প্রভাব। কয়েকটি গোপন রিপোর্টের মতে আফগানিস্তানে ছড়িয়ে রয়েছে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা র-এর এজেন্টরা। ফলে আফগান জমিতে সন্ত্রাসের ফসল ফলাতে বেগ পেতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। এদিকে ক্রমেই তালিবান ও ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ বাড়ছে। ফলে এককালের ইসলামবাদের ‘গৃহপালিত’ মুজাহিদরাই আজ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে ইঠেছে পাক সেনার কাছে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তের পরিস্থিতি দিল্লির পক্ষেই। তাই ভারতকে বেকায়দায় ফেলতেই এই অপহরণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এমন পরিস্থিতিতে কী করতে পারে ভারত? এই প্রশ্নের উত্তরে একাধিক পথ দেখিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানান, আফগানিস্তানে প্রভাব রয়েছে রাশিয়ার। কাবুল ও তালিবানের সঙ্গে মধ্যস্থতা করায় হাত রয়েছে রাশিয়ার। ফলে অপহৃতদের উদ্ধারে বন্ধু দেশের সাহায্য চাইতে পারে ভারত। এছাড়াও রয়েছে তালিবানের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী। বখতিয়ার বিরোধী মিলিশিয়াকেও কাজে লাগাতে পারে ভারত। একই সঙ্গে রয়েছে কুখ্যাত মার্কিন সংস্থা সিআইএ। সব মিলিয়ে আফগানিস্তানে ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্ধার করতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না। তবে সব কিছুই করতে হবে গোপনে। তবে এর জন্য রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠতে হবে দিল্লির নীতিনির্ধারকদের। ফের একটি ইরাকের মতো ঘটনা ঘটলে ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে দুর্বল প্রমাণ করবে ভারত।
[জেগে উঠল আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হাওয়াই]
সর্বশেষ খবর
-
মন্দিরের সেবায় রোবট হাতি! কেরলে প্রাণীর অধিকার বাঁচাতে ঐতিহ্য বনাম প্রযুক্তির লড়াই
-
প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ানো সংক্রমণে ফের বিশ্বজুড়ে অতিমারী? নয়া গবেষণায় উদ্বেগ
-
ইনস্টাগ্রামে কিছুতেই লক্ষ্যপূরণ হচ্ছে না? রিচের আশায় বারবার এই ভুলগুলো করছেন না তো!
-
‘চিট করেছে পৃথ্বী’, কেচ্ছার অভিযোগ আনার পরেই ডিগবাজি! নতুন পোস্টে বাগদত্তা লিখলেন…
-
খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে প্রতিশোধের আগুন! ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান ইরানবাসীর