সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এ যেন ভূতের মুখে রাম নাম! যে শক্তিতে বলীয়ান হয়ে মার্কিন মুলুককে চমকাতেন সেই পারমাণবিক অস্ত্র থেকেই এবার মুখ ফিরিয়ে নিতে চলেছেন কিম। মে মাসেই দেশের সমস্ত পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দিতে চান উত্তর কোরিয়ার সর্বাধিনায়ক কিম জং উন। দীর্ঘ ১১ বছরের বৈরিতা ভুলে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে গিয়েছেন কিম। চিরশত্রু রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনের সঙ্গে ঐতিহাসক করমর্দন করার পরই এমন ভোলবদল। রবিবার মুনের মুখ্য প্রেস সচিব ইউন ইয়ং চ্যান জানিয়েছেন, ‘কিম জং উন বৈঠকে জানিয়েছেন, কিছু লোক বলছে যে পরমাণু অস্ত্রগুলি আর কাজ করছে না। আমরা সেই কেন্দ্রগুলি বন্ধ করে দিচ্ছি। কিন্তু সবাই দেখতে পারেন, অস্ত্রগুলি ভাল অবস্থাতেই আছে। কবে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্রগুলি বন্ধ করা হবে সেটা দুই দেশের রাষ্ট্রনায়ক একসঙ্গে বৈঠক করে ঘোষণা করবেন।’
[মুছে যাবে ’38th parallel’! ঐতিহাসিক করমর্দনে মিলল দুই কোরিয়া]
দু’দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা শেষ বার আলোচনার টেবিলে বসেছিলেন ২০০৭ সালে। কিন্তু ২০১১ সালে কিম ক্ষমতায় আসতেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে বাক্যালাপ বন্ধ হয়ে যায়। চড়তে থাকে উত্তেজনার পারদ। কম করে ৮৯টি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে গোটা বিশ্বের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছিলেন কিম জং উন। হুমকি দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়া এমনকী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও। কিন্তু এখন যে সময় বদলেছে, তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শাসক। তাঁর কথায়, “ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে চলতে চাই।” স্বাভাবিকভাবেই দুই প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসেছে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিও। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে যে তিনি রাজি, কিম আগেও তা জানিয়েছেন। ‘নতুন করে শুরু করার’ কথা বলে তিনি তা ফের স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বৈঠকের পরই পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রেস সচিব আরও জানান, প্রকাশ্যেই পরীক্ষাকেন্দ্রগুলি বন্ধ করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন পরমাণু বিশেষজ্ঞদেরও ডাকা হবে। তিন-চার সপ্তাহের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসতে পারেন কিম।
[ডোকলাম তিক্ততা ভুলে বন্ধুত্বের বার্তা ভারত-চিনের]
প্রসঙ্গত, এর আগে শান্তির বার্তা প্রকাশ্যে না দিলেও সেই পথেই হাঁটছিলেন কিম। সম্প্রতি চিন সফরে গিয়ে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে আগ্রহী বলে জানান তিনি। মনে করা হচ্ছে জিনপিংয়ের দেখানো পথেই প্রতিবেশীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বদল এনে আমেরিকা তথা ট্রাম্পের দাদাগিরি ও আক্রমণের সম্ভাবনা কিম ভোঁতা করে দিলেন। দুই কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশ।
সর্বশেষ খবর
-
দলিত সাজল ব্রাহ্মণ, মিলল চাকরিও, দুয়ারে সরকারে এসসি-এসটি সার্টিফিকেট প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম!
-
বৃষ্টির তাণ্ডবে তছনছ মুম্বইয়ে মৃত ১০, উদ্বোধনের ২ মাসেই বন্ধ মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ের টানেল
-
ইস্তফা দিয়েছিলেন তৃণমূলের ৩ সাংসদ, রাজ্যসভার সেই আসনে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা
-
‘কথা বলার শক্তি হারিয়েছি’, আজতেকা মহাকাব্যে মেক্সিকোকে হারিয়ে উল্লাস হ্যারি কেনের
-
লাল কার্ড তুলে নাও, ফিফাকে ফোন করে চাপ ট্রাম্পের! শাস্তি পুরোপুরি প্রত্যাহার মার্কিন তারকার