সবে দিন শুরু হয়েছে। ভোর ৬টা। এই সময় আচমকাই ইমেলের ইনবক্সে অফিসের মেসেজ। যাতে পরিষ্কার লেখা ‘আপনার পজিশন নিয়ে একটা খারাপ খবর আছে। আজই আপনার শেষ কর্মদিবস।’ এমনই করুণ অভিজ্ঞতা হল মার্কিন টেক সংস্থা ‘ওরাকল’-এর অসংখ্য কর্মীর। যদিও সংস্থা জানায়নি, ঠিক কতজনকে আজ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই চলতি অর্থবর্ষে ২১ হাজার কর্মীর চাকরি গিয়েছে। যা সংস্থার মোট কর্মীর ১৩ শতাংশ!
কিন্তু কেন এমন পেলেন সংস্থার অসংখ্য কর্মী? ইমেলে এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে ‘সাংগঠনিক ক্ষেত্রে ব্যাপকতর পরিবর্তনে’র কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যে কারণ দেখানো হয়েছে তা সার্বিক। সংশ্লিষ্ট কর্মীকে কেন আর চাকরিতে বহাল রাখা হচ্ছে না, তা অবশ্য জানানো হয়নি। এবং মেলটি পাওয়ার অব্যবহিত সময় পরেই কর্মীরা আবিষ্কার করেন, তাঁর মেল, ভয়েসমেল, ফাই সবই ডিঅ্যাক্টিভেট করে দেওয়া হয়েছে। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে কার্যতই তুমুল হতাশ ছাঁটাই কর্মীরা।
আরও পড়ুন:
এই প্রথম নয়, গত এপ্রিলেও এমনই মেল পেয়েছিলেন আরও অসংখ্য কর্মী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট কেবল অর্থনীতির নয়, বরং এক গভীর সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয়ের চালচিত্র। যে-কর্মীরা বছরের পর বছর নিজেদের ঘাম ও শ্রম দিয়ে কোম্পানিকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাঁদের বিদায় দেওয়া হল কোনও আলোচনা বা ন্যূনতম সৌজন্যবোধ ব্যতীত। একটি ডিজিটাল সিগনেচারের বিনিময়ে মানুষের জীবন ও জীবিকাকে এভাবে পণ্য করে তোলা সম্ভবত আধুনিক পুঁজিবাদের সবচেয়ে কুৎসিত রূপ। কিন্তু কেন ওরাকল এত বেশি কর্মী সংকোচনের পথে হাঁটছে? জানা গিয়েছে, ‘এআই’ অবকাঠামো নির্মাণে সংস্থা আরও বেশি করে মনোযোগী হতে চাইছে। প্রযুক্তির জয়গান গাইতে গিয়ে আমরা কি তবে মানবিকতার শেষ সলতেটুকু নিভিয়ে দিতে বসেছি? এই প্রশ্ন কিন্তু জোরালো হতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাড়ি ভাড়া ৭০ হাজার, সামনে বিশাল বস্তি! মুম্বইয়ের কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি টেলি অভিনেত্রী
-
বহুত্বকে সংকুচিত করে ‘আমিষ বনাম নিরামিষ’-এর লড়াই আসলে বাংলার নিজস্ব ইতিহাসকেই অস্বীকার করা
-
দিনে ২ কোটি টাকা আয়! ‘ব্র্যান্ড’ বৈভবের আড়ালে ক্ষতি হচ্ছে না তো কিশোর প্রতিভার?
-
হুমায়ুনের বাবরির পালটা রামমন্দিরের ঘোষণা! সংখ্যালঘু রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী সেই শাখারভই
-
পোস্টের ভুল ব্যাখ্যায় রেগে আগুন, অবসর জল্পনা উড়িয়ে অমিতাভ বললেন, ‘আজ্ঞে না হুজুর আমি তো..’