BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

নয়াদিল্লির উসকানিতেই বন্ধ মার্কিন অনুদান, ভারতকে তীব্র আক্রমণ পাকিস্তানের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: January 5, 2018 10:26 am|    Updated: January 5, 2018 10:26 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যে এবার ভারতকেও টেনে আনল ইসলামাবাদ। ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন পাক বিদেশমন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকা ঠিক যে যে অভিযোগগুলি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তুলেছে, পালটা পাকিস্তানও ঠিক সেই অভিযোগই ভারতের বিরুদ্ধে তুলে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে। মন্ত্রী এও দাবি করেছেন, আমেরিকার সাহায্য ছাড়াই দিব্যি চলতে পারে পাকিস্তান।

[সীমান্তে পাক IED নিষ্ক্রিয় করছে সেনা, ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রস্তুতি?]

আসিফের অভিযোগ, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অসাধু আঁতাঁত রয়েছে। ভারতের উসকানিতেই পাকিস্তানের প্রতি বৈরিতাপূর্ণ আচরণ করছে আমেরিকা। এমনকী, আমেরিকার মুখে ভারতের ভাষা বসেছে বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন পাক বিদেশমন্ত্রী। জিও টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার এই অভিযোগ তোলেন তিনি। কেন ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার পাক মন্ত্রীর? যোগ্য কারণও রয়েছে অবশ্য! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে নতুন বছরে ‘দুর্দান্ত’ উপহার দিয়েছেন যে! সাফ জানিয়ে দিলেন, ইসলামাবাদের মিথ্যাচারে আর ভুলবে না ওয়াশিংটন। সন্ত্রাস দমনের নাম করে তাদের ছেলেভোলানো প্রতিশ্রুতিতে আর গলে যাবে না তারা। ‘সন্ত্রাসের মদতদাতা’ পাকিস্তানকে আর কখনও এক পয়সাও আর্থিক সাহায্য করবে না ওয়াশিংটন। ‘এনাফ ইজ এনাফ’!

[SBI গ্রাহকদের জন্য সুখবর, কমছে ন্যূনতম টাকা রাখার পরিমাণ]

বস্তুত, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামাবাদকে কোটি কোটি মার্কিন ডলার আর্থিক সাহায্য করে এসেছে আমেরিকা। খাতায়-কলমে হিসাব করলে, গত প্রায় ১৫ বছরেরও বেশি সময়ে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের হাতে সময়ে অসময়ে তুলে দিয়েছে ৩৩০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। গোটাটাই সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পরও কাজের কাজ না হওয়ায় ‘হতাশ’ ওয়াশিংটনের উপলব্ধি, এই সাহায্যের সবটুকুই ভেসে চলে গিয়েছে সিন্ধুর জলে। ভারতের পশ্চিম প্রান্তের পড়শি দেশটি সন্ত্রাস রোধ করার জন্য বছরের পর বছর হাত পেতে মার্কিন সহযোগিতা নিলেও কখনওই তা সেই কাজে লাগাচ্ছে না। বদলে বেপরোয়াভাবে হেঁটে চলেছে ঠিক তার উল্টো রুটে। জেহাদিদের নিরাপদ আশ্রয় জুগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের দুর্বিনীত উদ্দেশ্যে চোরা মদত দিয়েই চলেছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ভাষায় বলতে গেলে ‘হিংসা, সংঘর্ষ এবং সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান।’

[নাম পালটে ভারতে হামলার ছক জঙ্গি সংগঠন জইশের]

এতেই মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে পাকিস্তানের। ফলে পাক মন্ত্রীসান্ত্রীদের নখ-দাঁত বেরিয়ে এসেছে। কখনও আমেরিকাকে, কখনও আবার মার্কিন বন্ধু ও ইসলামাবাদের শত্রু ভারতকে মৌখিক আক্রমণ করছে পাকিস্তান। মার্কিন তোপের মুখে খোয়াজা আসিফের প্রতিক্রিয়া, ‘খুব শীঘ্রই আমেরিকার এই পদক্ষেপ নিয়ে বিবৃতি দেব আমরা। দুনিয়ার সামনে প্রকৃত সত্যটা আসবে। বাস্তব আর মনগড়া কথার পার্থক্যটাও সকলে তখনই বুঝতে পারবে।’ গত নভেম্বর মাসে মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদের মুক্তির কড়া বিরোধিতা করে ভারত ও আমেরিকা। সইদকে পুনরায় জেলবন্দি করার দাবিও জানান ট্রাম্প। জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিসও পাকিস্তানকে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন অর্থসাহায্যের প্যাকেজ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে বদল করেন। এই আর্থিক প্যাকেজ পাকিস্তানকে দেওয়ার কথা ছিল আফগানিস্তানে হাক্কানি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর জন্য। কিন্ত ইসলামাদের জঙ্গি-নিধনের প্রতি ‘গয়ংগচ্ছ’ মনোভাবে তিতিবিরক্ত হয়েই তা বাতিল করা হয়। সবমিলিয়ে পাকিস্তান এখন আমেরিকার কাছ থেকে আর এক কানাকড়িও পাবে না ধরে নিয়েই দিকভ্রান্ত আক্রমণে নেমেছে। ভারত অবশ্য এই সমালোচনাকে গুরুত্বই দিচ্ছে না। তাই নয়াদিল্লির তরফে পালটা কোনও বিবৃতিও জারি করা হয়নি।

[Jio-কে টেক্কা দিতে দৈনিক ৩.৫ জিবি ডেটা প্ল্যান আনল Airtel]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement