সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আর কয়েক মাস পরেই ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে। তার আগে প্রশাসনের ওপর নিজের কর্তৃত্ব আরও দৃঢ় করতে চেয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। তাঁর নেতৃত্বের উপর ব্রিটেনবাসী কতটা ভরসা করেন, তা যাচাই করতে অসময়ে ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু সাধারণ নির্বাচন ফলাফল বুমেরাং হয়ে গেল ব্রিটেনের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রীর কাছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ পার্টি সংখ্যাগরিষ্টতা তো পেলই না, উল্টে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে টেরেসা মে-র পদত্যাগের দাবিও জোরালো হল।
[ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে ফের মিসাইল ছুড়ল উত্তর কোরিয়া]
ব্রিটেনের নির্বাচনের আগে অবশ্য চিত্রটা ছিল একেবারেই উল্টো। দেশের প্রায় সবকটি প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষাতেই এগিয়ে ছিলেন টেরেসা মে। বলা হয়েছিল, এবারের ভোটে ঐতিহাসিক জয় পেতে চলেছে কনজারভেটিভ পার্টি। কিন্তু, ভোটের বাক্সে উল্টো রায় দিলেন ব্রিটেনের সাধারণ মানুষ। এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ৬৫০ আসনের ব্রিটেন পার্লামেন্টে ৩১৫ টি আসনে জিতে সর্ববৃহৎ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে কনজারভেটিভ পার্টি। তবে সরকার গঠন করার ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে পারেনি তারা। লেবার পার্টি দখলে গিয়েছে ২৬১টি আসন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে টেরেসা মে-র নেতৃত্ব। পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে টেরেসা মে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে আর ফিরতে পারবেন কিনা, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
[কাজাখস্তানে শরিফের সঙ্গে কুশল বিনিময় মোদির]
ভোটের ফলাফল সামনে আসতেই টেরেসা মে-র পদত্যাগের দাবিতে সরব বিরোধীরা। লেবার পার্টির নেতা জেরেমি কর্নবিন বলেন, ‘দেশের মানুষের মত যাচাই নির্বাচনে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মানুষের তাঁদের রায় দিয়ে দিয়েছে। আমার মনে হয়, এবার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’ অন্যদিকে টেরেসা মে-র বক্তব্য, ‘দেশে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। তাই যতদিন কনজারভেটিভ পার্টি বৃহত্তম দল থাকবে, ততদিন অন্তত তাদের সরকার চালাতে দেওয়া উচিত।’
[রাহুলের গ্রেপ্তারি অসাংবিধানিক, জানাল কংগ্রেস]
তবে কেন টেরেসার মে-র নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্টতায় পৌঁছতে পারল না কনজারভেটিভ পার্টি? অনেকেই বলছেন নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন তিনটি জঙ্গি হামলায় সাক্ষী থেকেছে ব্রিটেন। যারমধ্যে দুটি আবার ঘটেছে খোদ লন্ডনেই। স্বভাবতই টেরেসার মে-র হাতে দেশ কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে ব্রিটেনবাসীর মনে। পাশাপাশি, তাৎপর্যপূর্ণভাবে , ব্রেক্সিটের সময় লন্ডন আশেপাশে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। এবার কিন্তু সেইসব এলাকাতেও যথেষ্ট ভালো ফল করেছে লেবার পার্টি।
[গো-শালা তৈরিতে কর্মীদের স্বেচ্ছায় অনুদান দিতে বলল হরিয়ানা সরকার]
প্রসঙ্গত, গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেন থাকবে কিনা, তা নিয়ে গণভোট হয রানির দেশে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেন ব্রিটেনের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ। গণভোটে এই রায়ের পর পদত্যাগ করেন ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এরপরই প্রধানমন্ত্রী কুর্সিতে বসেন টেরেসা মে।
সর্বশেষ খবর
-
তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে কত টাকা? জানতে চায় হাই কোর্ট, দৈনিক খরচ নিয়ে স্বস্তি পাবে কালীঘাট?
-
‘ডিম থেরাপি’র শিকার মহুয়া, ‘রাজনৈতিক শত্রু’র পাশে বিকাশরঞ্জন, সমর্থন অখিলেশেরও
-
‘রিয়ালিটি শোয়ের প্যানেলিস্টদের সঙ্গে কী ধরনের চ্যাট হত, জানি’, অদিতিকে নিয়ে বিস্ফোরক তরুণজ্যোতি
-
জীবন-মৃত্যুর সীমান্তে দুই বন্ধু, ‘আমরা হেরে গেলে রোনাল্ডো কাপ জিতুক’, বলছেন মদ্রিচ
-
হারের পরের সাংবাদিক বৈঠকেই এল বাবার মৃত্যুসংবাদ, হতবাক কঙ্গোর কোচ, পাশে দাঁড়াল ফুটবল বিশ্ব