সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী সমাধান আনতে উদ্যোগী হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিগত কয়েক মাস ধরে নানা বিকল্প সমাধান সূত্র নিয়ে আলোচনা চালিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউস, রিপাবলিকান পার্টি এবং মার্কিন কংগ্রেসের একটি বড় অংশের কাছ থেকে সম্মতিও আদায় করেছেন তিনি।
আমেরিকা সফররত ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে মঙ্গলবার সেই রফা সূত্র ঘোষণাও করেছেন ট্রাম্প। তাতে স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া-সহ ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সীমান্ত বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমেরিকার বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন ও ইজরায়েলের একাধিক রাজনৈতিক দলের দাবি, ট্রাম্পের প্রস্তাব মানলে আখেরে ক্ষতি হবে ইজরায়েলের অর্থনীতির। ইজরায়েলের আর্থিক চাপ বাড়বে এবং আগামী বহু বছর ধরে ইজরায়েলকে এর জন্য ভুগতে হবে। তাই ট্রাম্পের এই প্রস্তাব মানা যায় না।
উল্টোদিকে প্যালেস্তিনীয়দের দাবি, ট্রাম্পের ওই প্রস্তাব বৈষম্যমূলক এবং ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার যোগ্য। এই রফা প্রস্তাব মানা হবে না। তাঁদের দাবি, হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে ট্রাম্প য়খন রফা প্রস্তাব ঘোষণা করছেন তখন সেখানে রয়েছেন নেতানয়াহু—সহ আমেরিকায় বসবাস করা শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী ইহুদি নেতারা। কিন্তু কোনও প্যালেস্তিনীয় নেতা সেখানে ছিলেন না। তাহলে এরকম একতরফা রফা সূত্রের দাম কোথায়? প্যালেস্তিনীয়দের সঙ্গে কোথায় কবে আলোচনা করা হয়েছে? এদিকে, ট্রাম্প বলছেন, আসুন এই শান্তি প্রস্তাব কার্যকর করে পশ্চিম এশিয়ায় হিংসার অবসান হোক। নতুন ভোরের সূচনা হোক। প্যালেস্টাইনের সম্মান বজায় রেখেই আমেরিকা ও ইজরায়েল এই প্রস্তাব নিয়েছে।
প্যালেস্তাইন সাফ জানিয়েছে, ইজরায়েল কৌশল করে জেরুজালেমকে তাদের অবিভক্ত রাজধানী হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। জেরুজালেমকে তারা প্যালেস্তাইনের সঙ্গে ভাগ করতে এবং প্যালেস্তিনীয়দের সঙ্গে সহাবস্থান করতে রাজি নয়। ফলে এই রফা মানা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পের সমাধান সূত্র মানলে গাজা ভূখণ্ড ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক নিয়ে ইজরায়েলের সঙ্গে যে বোঝাপড়া হয়েছে তাও নষ্ট হয়ে যাবে। ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের পথে বিক্ষোভ দেখায় প্যালেস্তিনীয়রা।
ট্রাম্পের প্রস্তাবমতো প্যালেস্টাইনের সামরিক বাহিনীর দখলদারি মুক্ত করে বেশ কিছু এলাকা ইজরায়েলের হাতে চুলে দেওয়া হবে। তার বদলে প্যালেস্টাইনকে পাঁচ হাজার কোটি ডলারের আর্থিক প্যাকেজ দেওয়া হবে। এর জবাবে প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই প্রস্তাব আমরা ডাস্টবিনে ফেলে দেব। মজার ঘটনা হল, আরব দুনিয়ার মধ্যে একমাত্র সৌদি আরব আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে তারা প্রায় নিমরাজি হয়ে আমেরিকার এই রফা প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। কিন্তু ইরান, তুরস্ক, জর্ডন, ওমান, আরব আমিরশাহি, আজেরবাইজান, মিশর, তিউনিশিয়া, ইরাক, আলজিরিয়া, সিরিয়া, মালয়েশিয়া-সহ বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্র ট্রাম্পের এই সমাধান সূত্র কারিজ করে দিয়ে প্যালেস্টাইনকেই সমর্থন জানিয়েছে। তাদের মতে, এই প্রস্তাবে জেরুজালেমের একতরফা অধিকার ইজরায়েলকে দেওয়া হয়েছে। এটা মুসলিম দুনিয়া মেনে নেবে না।
[আরও পড়ুন: CAA প্রস্তাবে ভোট পিছল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দিল্লি বলছে ‘কূটনৈতিক জয়’]
সর্বশেষ খবর
-
প্রাক বর্ষার বৃষ্টি উত্তরবঙ্গে, অস্বস্তির মাঝেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কলকাতা-সহ একাধিক জেলায়
-
সকালে টিকিট কেটে দুপুরে কোটিপতি! রাতারাতি ভাগ্যবদল যুবকের
-
পালাবদলে বাড়ছে শক্তি! আরএসএস শিক্ষক সংগঠনে একধাক্কায় ৩০ হাজার সদস্যবৃদ্ধি
-
বড় ধাক্কা টিম ইন্ডিয়ার, আফগানিস্তান সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন বিরাট কোহলি!
-
পুলিশের জালে কলকাতার আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলর, এবার শ্লীলতাহানির অভিযোগ