Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Venezuelan oil

রুশ তেলের বিকল্প! ভারতকে ভেনেজুয়েলার তেল বেচতে চায় আমেরিকা, জানাল হোয়াইট হাউস

ভারত কি ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ২০:৫২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ২০:৫২

options
link
রুশ তেলের বিকল্প! ভারতকে ভেনেজুয়েলার তেল বেচতে চায় আমেরিকা, জানাল হোয়াইট হাউস zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার তেলের ভান্ডারের কার্যত দখল নিয়েই ফেলেছে আমেরিকা। ওয়াশিংটন জানিয়েও দিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেল তারাই বাজারে বিক্রি করবে। ভারতও সেই তেল কিনতে পারে পারবে বলে জানাচ্ছেন মার্কিন আধিকারিকেরা।

ঘটনাচক্রে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সাম্প্রতিক ‘বিবাদ’-এর মূলেই রয়েছে তেল। ভারতের কম দামে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে বার বার আপত্তি জানিয়ে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারত রুশ তেল কিনে মস্কোর পকেট ভরাচ্ছে, যা আদতে ইউক্রেন যুদ্ধে মদত দেওয়ারই শামিল। এই কারণে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ হারে শুল্কও চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার পরেও শুল্ক নিয়ে ভারত-আমেরিকার মধ্যে আলোচনা চলছে। কিন্তু তা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকে। কারণ, রুশ তেল কেনা ভারতের উপর এখনও রুষ্ট ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি জানিয়েও দিয়েছেন, যদি ভারত তা বন্ধ না করে, তা হলে ভারতীয় পণ্যে ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপাতেও পিছপা হবেন না।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি, আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় ভারতের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি রুশ তেল কেনা কমাতে শুরু করেছে। কিন্তু ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে তেলের যা চাহিদা, তা মেটাতে আমেরিকা তাদের ভেনেজুয়েলার তেল কেনার প্রস্তাব দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের আধিকারিকেরাও জানিয়েছেন, তাঁরা ভারতের কাছে তেল বিক্রি করতে আগ্রহী এবং প্রস্তুত। শুধু ভারতই নয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশকেই ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করতে তাঁরা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন আমেরিকার জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট। যদিও ভারত ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে আদৌ আগ্রহী কি না, সে ব্যাপারে এখনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি নয়াদিল্লির তরফে। তবে প্রশ্ন উঠছে, ভারত যদি সত্যিই রুশ তেল কেনা কমিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে রাজি হয়, সে ক্ষেত্রে কি ভারতীয় পণ্যে শুল্কের হার কমাবে আমেরিকা?

প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে বন্দি করার পর ট্রাম্পই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের নজর ভেনেজুয়েলার তেলের উপর। ওয়াশিংটন চায় না, চিন-রাশিয়াকে তেল বিক্রি করুক ভেনেজুয়েলা। ট্রাম্প প্রশাসনের শর্ত, ভেনেজুয়েলাকে শুধু আমেরিকার সঙ্গে তেলের ব্যবসা করতে হবে। আমেরিকার জ্বালানি দপ্তরের সচিব ক্রিস রাইট বলেন, “ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলকে বাজারে নিয়ে গিয়ে বেচতে চাই আমরা। ওদের ভান্ডারে এখন যে তেল মজুত রয়েছে, প্রথমে তা বিক্রি করা হবে। তার পর আরও তেল উত্তোলন করে তা বিক্রি করবে আমেরিকা।”

আমেরিকার সঙ্গে টানাপড়েনের আবহে বেশ কিছু মাস ধরেই ভেনেজুয়েলার চারপাশ ঘিরে রেখেছিল মার্কিন ফৌজ। এই অবরোধের জেরে তেল রপ্তানি করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগও তুলেছিল মাদুরোর প্রশাসন। রপ্তানি করতে না পারার ফলে ভেনেজুয়েলার তেলের ভান্ডারও টইটম্বুর হয়ে রয়েছে। ভান্ডার পরিপূর্ণ হয়ে থাকায় নতুন তেলও উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি কয়েক মাস ধরে। এ সবের ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতেও পড়েছে কারণ, তেলের টাকাতেই সে দেশের অর্থনীতি চলে। আমেরিকা ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলায় মজুত তেল বাজারে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট।

ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ ক্যারোলিন জানান, তেল বিক্রির টাকা আমেরিকার কোষাগারে যাবে আপাতত। এতে আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলা দু’দেশের মানুষেরই উন্নতি হবে। তবে ক্রিসের দাবি, “আমেরিকা মোটেই ভেনেজুয়েলার তেল বা তেল বিক্রির টাকা চুরি করছে না। আমরা চাই আবার আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনেজুয়েলার তেলের বাজার তৈরি হোক। তেলের টাকা ভেনেজুয়েলার নামেই থাকবে। পরে সেই টাকা দিয়ে ভেনেজুয়েলার মানুষের উন্নতি করা হবে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.