৩০ শ্রাবণ  ১৪২৫  বুধবার ১৫ আগস্ট ২০১৮  |  মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও রাশিয়ায় মহারণ ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

এ বছরই রাজনীতিতে পা রেখেছেন। সুপারস্টার থেকে নেতা হয়ে ওঠা কতটা কঠিন? নির্বাচনে জিতলে কী কী পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর? কেনই বা ছবি তৈরি করাকে আজকাল কম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন? নিজের ছবি ‘বিশ্বরূপম ২’ মুক্তির আগে মুম্বইয়ে অকপট কমল হাসান। শুনলেন অহনা ভট্টাচার্য।

[কেন বলিউডে থেকেও আলাদা কাজল? উত্তর দিলেন ঋদ্ধি]

চলতি বছরের গোড়ায় সুপারস্টার কমল হাসানের রাজনীতিতে প্রবেশ। নেতা না অভিনেতা, কোন ভূমিকায় আপনি বেশি স্বচ্ছন্দ?

রাজনীতি করা খুব সহজ কাজ নয়। অনেকেই চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। আর সেই জন্যেই হয়তো আমি এখানে আসতে এতটা সময় নিলাম। মহাত্মা গান্ধীর মাপের একজন নেতার জন্যেও কিন্তু রাস্তাটা সহজ ছিল না। তাঁকেও অনেক চড়াই-উতরাই পেরোতে হয়েছিল।  

রাজনীতিতে কেন এলেন?

আমি মনে করি আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজনীতির একটা বড় ভূমিকা থাকে। সেই কারণেই সমাজসেবা করতে গেলেও রাজনীতি খুব জরুরি। আর আমি আজকে যা করতে চাই সেটা যদি এখনই না করি, তা হলে আমি কোনও দিনও শান্তি পাব না। (জুহুর হোটেলের বাইরে আরবসাগরের দিকে আঙুল দেখিয়ে) ওই সমুদ্রটা দেখছেন? আজ থেকে তিরিশ বছর আগে মানুষ ওখানে চান করত। আজ কী অবস্থা করেছি আমরা ওটার? সবাই মিলে যদি নোংরা করি তা হলে পরিষ্কার করবে কে? যে মানুষেরা আজ সমুদ্রতট পরিষ্কার করার দায়িত্ব নিয়েছেন, রাজনীতিতে আমার ভূমিকাটাও ঠিক তাঁদের মতো। রাজনীতিতে আমাকে স্ক্যাভেঞ্জার বলতে পারেন। আমি জানি পরিবর্তন এক দিনে আসবে না। কিন্তু আমি অন্তত সেটা শুরু করতে চাই যাতে জীবনের শেষে শান্তিতে চোখ বুজতে পারি।   

পরবর্তী নির্বাচনে যদি আপনার দল মাক্কাল নিধি মায়াম জয়ী হয়, তা হলে কী ধরনের সামাজিক পরিবর্তন দেখতে পাব

পরিবর্তন হবে খুব ধীরে। কিন্তু তা হবে অটল, অবিচলিত। দেখুন, আমি মনে করি রাজনীতিতে আমার মতো বয়স্ক মানুষের বদলে তরুণ, তাজা রক্তের বেশি প্রয়োজন। যাদের ভেতরে অনেক আবেগ, অনেক রাগ, পায়ে অনেক জোর এবং মনে অনেক শক্তি, যারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ভাবে কাজ করতে পারবে।   

অভিনেতা, পরিচালক এবং এখন রাজনীতিবিদএতগুলো ভূমিকা একসঙ্গে পালন করেন কীভাবে?

আমি কিন্তু নিজেকে দর্শকের বেশি কিছু ভাবি না। আমি সিনেমার ভক্ত এবং সবার আগে একজন দর্শক। এটা আমি কখনও ভুলি না।

অভিনয় করার ক্ষমতা কি রাজনীতিতে সাহায্য করে?

অভিনয় ক্ষমতা বাঁদরদেরও সাহায্য করে, অন্যান্য জন্তু জানোয়ারকেও সাহায্য করে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিনয় মানুষের কাজে লাগে, তা হলে রাজনীতিতেই বা নয় কেন?

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে আপনি এত সফল। এই সাফল্যের রহস্য কী?

সাফল্য অস্থায়ী, তা আজ আছে কাল না-ও থাকতে পারে। আমি কোনও দিন সাফল্যের পেছনে ছুটিনি। শুধু চেষ্টা করে গেছি আমার কাজটাকে আরও নিখুঁত করার, নির্ভুল করার। আমার দীর্ঘ অভিনয়জীবন এটার সাক্ষী। আমি নিজের চোখে নিজেকে সম্মানের জায়গায় বসাতে চেয়েছিলাম। রোজ সকালে উঠে যখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাড়ি কামাই, তখন যেন নিজের চোখে চোখ রাখতে পারি, নিজের কাজ নিয়ে যেন গর্ববোধ করতে পারি। অভিনেতা হিসেবে আমি যতটুকু করেছি তার জন্যে আমি গর্বিত। চেষ্টা করব রাজনীতিবিদ হয়েও যেন নিজেকে সম্মান করতে পারি।

আপনার দুই মেয়েই অভিনেত্রী। মেয়েদের কাজের ক্ষেত্রে পরামর্শ দেন?

মিস্টার কে বালাচন্দরের (‘এক দুজে কে লিয়ে’-র পরিচালক) মতো একজন গুরু যদি শ্রুতি আর অক্ষরা পেত তা হলে খুব ভাল হত। ওঁর অভাবটা আজও খুব বোধ করি। আমি ওঁর মতো হওয়ার চেষ্টা করি কিন্তু পুরোপুরি ও রকম হতে পারব না।

আপনি কি মনে করেন সব মানুষের জীবনে একজন গুরু থাকা প্রয়োজন?

অবশ্যই! গুরু না হলেও অন্ততপক্ষে একজন পরামর্শদাতা থাকা খুবই জরুরি। তাঁকে আপনি গুরুই বলুন বা মেন্টর বলুন বা যে নামেই ডাকুন। ছোটবেলায় বাবা-মা সেই ভূমিকা পালন করে থাকেন। মিস্টার বালাচন্দরকে আমি আমার গুরু মনে করি। আজ আমি যা হয়েছি, যতটুকু হতে পেরেছি সেটা ওঁর জন্যেই। 

আপনার প্রতিটি ছবিতেই একটা বার্তা থাকে। কেন?

দেখুন, ছবির মূল উদ্দেশ্য হল বিনোদন আর আমি তা অস্বীকার করছি না। কিন্তু ছবি তৈরি করাকে শুধুমাত্র একটা ব্যবসা মনে করলে খুব ভুল ভাবা হবে। আমি মনে করি সমাজের প্রতি আমাদের একটা দায়িত্ব আছে, একটা কর্তব্য আছে। বড়ে গুলাম আলি, উদয় শংকর, সত্যজিৎ রায় বা কে আসিফ যা করে গিয়েছেন, আমিও সেটাই করার চেষ্টা করছি। আমি আমার ছবির মাধ্যমে মানুষকে তাঁদের মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করি। 

পরিচালক-প্রযোজক হিসেবে এর পর কোনও মেগা বাজেট ছবি তৈরির ভাবনা আছে?

এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বাজেট আমি ঠিক করে রেখেছি তামিলনাড়ুর জন্যে। রাজ্যটাকে ভাল ভাবে গড়তে চাই। এই মহান কাজের সামনে সিনেমা তৈরি করাটাকে ততটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় না।

শুধুমাত্র তামিলনাড়ুর রাজনীতিই কি আপনার লক্ষ্য? না কি জাতীয় স্তরেও আপনাকে দেখতে পাব?

রাজনীতিতে আঞ্চলিক বা জাতীয় বলে কিছু হয় না। দেশের যে কোনও প্রান্তে, যে কোনও কোনায় ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। সে থুথুকুডিতে গুলি চালানোর ঘটনা হোক বা কাশ্মীরে গোলাগুলি। তামিলনাড়ুও যেমন এই দেশের একটা অংশ, কাশ্মীরও তাই।

দক্ষিনী ছবিতে আমরা প্রায়ই দেখি যে ভিলেন একজন রাজনৈতিক নেতা। তা হলে কি এটা ধরে নেওয়া যায় যে দক্ষিণ ভারতীয় রাজনীতিতে দুর্নীতি সবচেয়ে বেশি?

এটা একদমই সত্যি কথা আর সেই জন্যেই তো আমি রাজনীতিতে এসেছি (হাসি)।

বিশ্বরূপম ৩বা বিশ্বরূপ ৩তৈরির কোনও পরিকল্পনা আছে নাকি?

এখনই নয়, ‘বিশ্বরূপ ৩’ হবে রাজনীতিতে প্রবেশ! (হাসি)

 

(এই সাক্ষাৎকারটি করুণানিধির মৃত্যুর দুদিন আগে নেওয়া)

[‘কলকাতার পার্টিতে ইমরান খান মানেই বিরিয়ানি আর সুন্দরীরা’]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং