BREAKING NEWS

২ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

‘নেপোটিজম সব সেক্টরে রয়েছে’, অকপট ‘লালবাজার’ ওয়েব সিরিজের অভিনেত্রী রঞ্জিনী

Published by: Sandipta Bhanja |    Posted: June 19, 2020 5:44 pm|    Updated: June 19, 2020 9:00 pm

An Images

রণবীর সিং আর আয়ুষ্মান খুরানার কো-স্টার রঞ্জিনী চক্রবর্তী এখন বাংলা ওয়েব ফিল্মে। কথা বললেন শুভঙ্কর চক্রবর্তী

শেষমেশ শুরু হল ‘লালবাজার’-এর স্ট্রিমিং! স্বস্তি পেলেন কি?
– ভীষণ! আমরা সবাই খুব খেটে কাজ করেছি। আর লকডাউনের কারণে রিলিজ পিছিয়ে যাওয়ায় মনখারাপ বাড়ছিল। তবে আল্টিমেটলি রিলিজ করছে। ‘লালবাজার’-এর টিজার, ট্রেলার দু’টোই দারুণ হয়েছে তার উপর অজয় স্যর (দেবগণ) প্রমোট করেছেন। সব মিলিয়ে আমি ভীষণ এক্সাইটেড!

আচ্ছা, বাংলায় একটা ছবি করে বাংলা থেকে একেবারে বেপাত্তা?
– ‘অবশেষে’—র পর আরেকটা ছবি করেছিলাম। ‘চোখের পানি’। ফেস্টিভালে রিলিজ হয়েছিল। আসলে বাড়িতে আমার পেশা নিয়ে সমস্যা ছিল। আমি অভিনয় করব, ওরা চায়নি। বলত, অভিনয় হবি হতে পারে, প্রফেশন নয়। বাঙালি কনজার্ভেটিভ পরিবারে যা হয় আর কী!

তারপর কী করলেন?
– ছোটবেলা থেকেই বলিউডের প্রতি একটা ফ্যাসিনেশন ছিল। এফটিআইআই—এর জন্য পড়াশোনা শুরু করলাম। চান্স পেলাম। দিদি মা—কে বোঝাল, এফটিআইআইতে শাবানা আজমির মতো অভিনেত্রী পড়াশোনা করেছেন। তারপর পুণে শিফট করি।

বলিউডে ব্রেক পেতে অসুবিধে হয়নি আপনার? তার মানে বলিউড এখন ট্রেনিং নেওয়া অভিনেতাদের প্রতি আস্থা রাখছে।
– এগজ্যাক্টলি। দশ বছর আগেও হয়তো বলিউডে ব্রেক পেতে কালঘাম ছুটে যেত। সেই স্ট্রাগল আমাকে করতে হয়নি। সুন্দর দেখতে হলেই যে ফিল্মে অভিনয় করা যায়, তা নয়। আল্টিমেটলি দেখা হবে অডিশনের পারফরম্যান্স।

বাংলায় ফিরলেন কীসের টানে?
– কন্টেন্ট। গল্প ভাল হলে আমি দক্ষিণী কিংবা মারাঠি ফিল্মেও কাজ করতে পারি। ‘লালবাজার’—এর গল্প যেমন অন্যরকম। আমার চরিত্রটাও ইন্টারেস্টিং।

‘সিম্বা’য় রণবীর সিং। ‘আর্টিকল ফিফটিন’—এ আয়ুষ্মান খুরানা। এই সময়ের দুই বড় অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছেন। কী শিখলেন ওঁদের থেকে?
– মাটিতে পা রেখে চলা। ‘সিম্বা’র সেটে রণবীর (Ranbir Singh) নিজে সবার সঙ্গে আলাপ করত। বলত, “হাই, আই অ্যাম রণবীর সিং। ইউ?” স্টারসুলভ ইগো নেই ওর। পাশে বডিগার্ড না দেখলে বোঝাই যাবে না ও স্টার। দীপিকা সেটে এলে রণবীর ভীষণ ব্লাশ করত। ওটা দেখার মতো ছিল। সবাই বলে রণবীর সিং লাউড। কিন্তু সেটে ও খুব শান্ত। ফালতু কথা বলে এনার্জি নষ্ট করে না। অলওয়েজ ফোকাসড। একবার আমাকে বলল, “আমি যে অভিনেতা, আমার নিজের বিশ্বাস হয় না, জানো? আমার স্বপ্ন ছিল অভিনেতা হব। এখনও বিশ্বাস করতে পারি না স্বপ্নটা সত্যি হয়েছে।”
একটা ঘটনা বলি। ‘সিম্বা’র একটা সিনে আমি অভিনয় করছিলাম। রণবীর আর রোহিত শেট্টি মনিটরে দেখছিল। সিন শেষ হওয়ার পর রোহিত বলল, “ভেরি গুড।” আর রণবীর আমার চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে দু’হাত তুলে হাততালি দিতে লাগল। দারুণ লেগেছিল। কেউ ভাল অভিনয় করলে ও তাকে জড়িয়ে ধরে এমন করত যে তার মনে হবে, হি ইজ দ্য মোস্ট পাওয়ারফুল পার্সন অন আর্থ!

আর আয়ুষ্মান?
– ‘আর্টিকল ১৫’ এ আমি আয়ুষ্মানের (Ayushmann Khurrana) সঙ্গে কাজ করেছি। ওর সঙ্গে কাজ করে মনে হয়েছে, আয়ুষ্মান ভীষণ হাম্বল। কোল্যাবোরেটিভ অভিনেতা। হায়াতে একদিন আমাদের শুটের পর ডিনার ছিল। অনুভব (সিনহা) স্যরের কড়া নির্দেশ, অভিনেতারা একসঙ্গে খেতে বসবে। খাওয়াদাওয়ার পর আবার রিহার্সাল করব বলে অনুভব স্যরের ঘরে ঢুকতে যাচ্ছি। এমন সময় আয়ুষ্মান আমাকে বলল, “মাথায় নারকেল তেল মেখে ফেলেছি। কীভাবে নীচে যাব? ওখানে এত ক্যামেরা।” পাশ থেকে আরেকজন অভিনেতা বলল “কয়েক বছর আগে তোমায় এত কিছু ভাবতে হত?” আয়ুষ্মান বলল, “সত্যি ভাবতে হত না। যেখানে খুশি চলে যেতাম, আর এখন…ধুর! ভাল লাগে না।” শুনে মনে হচ্ছিল স্টার নয়, পাড়ার কোনও বন্ধু!

আচ্ছা, একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি, সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার ঘটনার পর গোটা সিনেজগত ভেঙে পড়েছে। এবং সেই এক শব্দ বারবার উঠে আসছে, ‘নেপোটিজম’। আপনার কি মনে হয় সুশান্তর মৃত্যু ঘটনার কারণও নেপোটিজম?
– একটা কথা বলি, সুশান্তের আত্মহত্যার আসল কারণ কিন্তু আমরা কেউ জানি না। দ্বিতীয়ত ডিপ্রেশন এমন এক মানসিক রোগ যা একেবারে ব্যক্তিগত। ডিপ্রেশনের সঙ্গে যুদ্ধ নিজেকেই করতে হয়। ডিপ্রেশনের কারণগুলোও ব্যক্তিগত। সুশান্তের সঙ্গে ওঁর মায়ের ক্লোজ বন্ডিং ছিল। খুব মিস করতেন মাকে। ওঁকে নিয়ে সুশান্তের প্রচুর পোস্টও রয়েছে। সুশান্তের আত্মহত্যার কারণ এখনও কিছু জানা যায়নি। তাই শুধুমাত্র ‘নেপোটিজম’ কারণ দেখিয়ে সুশান্তের মৃত্যুর ঘটনাকে দেগে দেওয়া যায় না।

সোশ্যাল মিডিয়া কিন্তু অন্য কথা বলছে…
– দেখুন, সোশ্যাল মিডিয়ায় করণ জোহর কিংবা ‘খান’দের নিয়ে যা চলছে তা আমার কাছে ভিত্তিহীন। ‘হ্যাশট্যাগ বয়কট করণ জোহর ফিল্মস’-এটা যদি সত্যি শুরু হয়ে যায় তাহলে কতজন কাজ হারাবে সেটা কি কেউ ভাবছে না? নেপোটিজম সব সেক্টরে রয়েছে। কর্পোরেট, মেডিক্যাল, গভর্মেন্টাল, সব জায়গায় স্বজনপোষণ আছে এবং থাকবে। আর একজন আউটসাইডারকে টিকে থাকতে স্ট্রাগল চালিয়ে যেতে হয়। আরও সহনশীল হতে হয়। অপেক্ষা করতে হয়। এবং শুধু কাজকেই প্রাধান্য দিতে হয়। আমি অভিনয় করতে পারি- একজন অভিনেতার কাছে এটাই একমাত্র সত্যি। আপনার অভিনয় করণ জোহর কিংবা অনুরাগ কাশ্যপের ছবির উপর নির্ভর করে না। আরেকটা বিষয়, করণ জোহর একজন বড় প্রযোজক। তিনি সিনেমায় প্রচুর টাকা ঢালেন। একটা কথা বলুন, একজন প্রযোজক কেন এত টাকা দিয়ে ছবি করবেন, যেখানে বড় কোনও স্টার নেই। যাঁকে দেখে দর্শক ছবির টিকিট কিনবেন। ফিল্মমেকিংও তো একটা ব্যবসা। প্রফিটমেকিং তো ব্যবসার আরেক দিক। আর ছবি হিট-ফ্লপ তো দর্শক ঠিক করে। যতই আপনি স্টার কিড হোন না কেন, প্রতিভা না থাকলে কিন্তু বেশিদূর এগতে পারবেন না। এখনকার দর্শক ভীষণ চালাক। বোকা বানানো একেবারে সহজ নয়।

‘লালবাজার’ তো হল। এরপর কী প্ল্যান?
– লকডাউনের আগে একটা ছবি নিয়ে কথা শুরু হয়েছিল। জুনের শেষের দিকে শুটিং শুরু হতে পারে। একটা ওয়েব শোয়ের কথাও চলছে। একটা ভীষণ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি, ঠিকঠাকভাবে কোনও কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।

আচ্ছা, রঞ্জিনীর বয়ফ্রেন্ড আছে?
– ইয়েস।

এত সোজাসাপটা উত্তর খুব একটা পাওয়া যায় না।
– অত রাখঢাকের কিছু নেই। আমার বয়ফ্রেন্ডের নাম আশিস ভার্মা। এফটিআইআইতে আমার ব্যাচমেট ছিল। আশিসও অভিনয় করে। ‘আর্টিকল ফিফটিন’-এ ছিল। ‘ভাবেশ যোশী’তেও অভিনয় করেছে।

অবাঙালি বয়ফ্রেন্ড নিয়ে কনজার্ভেটিভ পরিবারের আপত্তি নেই?
– এগারো বছরের উপর আমাদের সম্পর্ক। ওগুলো অনেক আগে ম্যানেজ হয়ে গেছে। মা-বাবার ওকে খুব পছন্দ। (হাসি)

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement