১ ভাদ্র  ১৪২৫  শনিবার ১৮ আগস্ট ২০১৮ 

BREAKING NEWS

মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও রাশিয়ায় মহারণ ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

১ ভাদ্র  ১৪২৫  শনিবার ১৮ আগস্ট ২০১৮ 

BREAKING NEWS

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ রোগভোগের পর প্রয়াত লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়৷ মৃত্যুকালে তাঁর বসয় হয়েছিল ৮৯ বছর৷ আজ, সোমবার সকাল ৮টা ১৫-য় দক্ষিণ কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি৷ গত দু’মাস ধরেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি৷ চিকিৎসার জন্য তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ারে রাখা হয়৷ দীর্ঘ চেষ্টার পরও তাঁকে মৃত্যুর মুখ থেকে আর ফেরাতে পারেননি চিকিৎসকরা৷ সোমনাথবাবুর প্রয়াণে বাংলার রাজনীতিতে নেমেছে শোকের ছায়া৷

গত দু’মাস ধরে ফুসফুস ও কিডনিতে মারাত্মক সংক্রমণ ও সঙ্গে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন৷ আশঙ্কাজনক অবস্থায় দক্ষিণ কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ারে ভরতি করানো হয়৷ রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে৷ মুহূর্তে মুহূর্তে সংজ্ঞা হারাচ্ছিলেন তিনি৷ সংক্রমণ হওয়ার জেরে রবিবার দুপুর থেকে কিডনি ও ফুসফুসের কাজ মাঝে মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল বলে খবর৷ ছিল মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওর হওয়ার আশঙ্কা৷ গত ৪৮ ঘণ্টায় লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার জেরে তাঁকে প্রতি মুহূর্তেই নজরদারিতে রাখা হয়৷ হাসপাতালের তরফে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি৷  

[গলায় কয়েন আটকে প্রাণসংশয়, দুধের শিশুকে ফেরাল চার-চারটি হাসপাতাল]

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিডনি ঠিকঠাক কাজ না করায় ডায়ালিসিস শুরু করতে হয়েছিল অনেক আগে থেকেই৷ কিন্তু, তা আর কাজে এল না৷ চলতি সপ্তাহে প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে বেলভিউ হাসপাতালে ভরতি করা হয়৷ অক্সিজেন দিয়ে তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও শুক্রবার রাতে থেকে ভয়ংকর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়৷ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা৷ আশঙ্কাজনক অবস্থায় তড়িঘড়ি ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয় ৯০ ছুঁইছুঁই এই প্রাক্তন সিপিএম সাংসদকে৷ শ্বাসকষ্টের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফুসফুস ও কিডনির সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে৷ শুক্রবার রাত থেকে ঠিকঠাক ভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয় ফুসফুস ও কিডনি৷ শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়, শনিবার রাতে৷ রবিবার নতুন করে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি৷ কোনওক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা৷ কিন্তু, সমস্ত চেষ্টায় জল ঢেলে বিদায় নিলেন তিনি৷

জানা গিয়েছে, গত ২৫ জুন স্ট্রোক হয় তাঁর৷ বেলভিউ হাসপাতালে তখনও তাঁকে ভরতি করা হয়৷ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় গত পয়লা আগস্ট সোমনাথকে ছুটি দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে৷ বাড়িতেও চলছিল তাঁর চিকিৎসা৷ কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতে না-ঘুরতেই প্রবীণ এই বাম নেতা এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে ফের তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়৷

[আমার বক্তব্য টিভিতে দেখানো হবে না, অমিতের মন্তব্যের পালটা তৃণমূলের]

১৯২৯ সালের ২৫ জুলাই জন্ম নেওয়া বামপন্থী রাজনীতিবিদ (২০০৪-২০০৯) সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় প্রথম বাঙালি অধ্যক্ষ হিসাবে লোকসভা পরিচালনা করেছিলেন৷ দলের উর্ধ্বে উঠে অধ্যক্ষের পদের গরিমা উজ্জ্বল করে ছিলেন তিনি৷ নিজের পদকে সম্মান জানিয়ে শাসক-বিরোধী সব দলকে লোসকাভায় নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিয়ে সংসদদের মন কেড়ে নিয়েছিলেন বাংলার এই রাজনৈতিক কর্মী৷ এক বাক্যে শান্ত রেখেছিলেন লোকসভাকে৷ সাংসদদের আচার-আচরণেও কড়া বিধিনিষেধ এনেছিলেন৷ সংসদে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গিয়ে ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই সিপিএম দল থেকে বহিষ্কার করা হয় টানা দশবারের (১৯৮৯ থেকে ২০০৯) এই সাংসদকে৷ ১৯৬৮ সালে বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত হন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়৷ তাঁর প্রয়াণে একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং