সংগ্রাম সিংহরায়, শিলিগুড়ি: আশপাশে ঘন জঙ্গল, তাতে অবাধ আনাগোণা রয়েছে হরিণ, ময়ূর, বাঁদর, চিতা, হাতি থেকে বাইসনের। সেই রোমাঞ্চকর পরিবেশে সাইকেলে চড়ে জঙ্গলের আলপথ ভাঙছেন দুরু দুরু বুকে, অ্যাডভেঞ্চারের আনন্দ আর অজানার আশঙ্কা বুকে নিয়ে যাত্রা করছেন আপনি। কোনও কল্পকাহিনি নয়, রাজ্য পর্যটন দপ্তর ও বনদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই দৃশ্য বাস্তব হতে চলেছে অল্প দিনের মধ্যেই। রাজ্যের প্রথম খোলা জঙ্গলে ‘বাইসাইকেল সাফারি’ চালু হতে চলেছে গজলডোবা ট্যুরিজম সার্কিটে।
‘পরিবেশ বাঁচিয়ে পর্যটন’ এই বার্তা দিতে এবং খোলামেলাভাবে ও একটু অন্যরকম স্বাদে এলাকার প্রকৃতি, পরিবেশ ও জঙ্গলকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে এই সাইকেল সাফারির সূচনা হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর সম্রাট চক্রবর্তী। জানা গিয়েছে, যেহেতু বৈকুন্ঠপুর বনবিভাগের মধ্যে এই বিস্তীর্ণ পর্যটন সার্কিটটি রয়েছে, সে কারণেই বনদপ্তরের একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে এই পরিকল্পনায়। পাশাপাশি পর্যটনের বিষয়টিকেও মাথায় রাখা হয়েছে। এই পদ্ধতি চালু হলে তা রাজ্যে তো বটেই, সম্ভবত দেশের মধ্যেও প্রথম হবে বলে জানাচ্ছেন আধিকারিকরা৷
[পুলিশকর্মীকে পচা মাংস বিক্রির অভিযোগ, সিউড়িতে আটক ব্যবসায়ী]
এই বাইসাইকেল সাফারি নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহী বৈকুন্ঠপুরের ভারপ্রাপ্ত ডিএফও অঞ্জন গুহ। কেমন ভাবে এই সাফারিকে পরিকল্পনা করা হয়েছে তা তুলে ধরেন তিনি৷ জানান, গজলডোবায় যাঁরা পর্যটক হিসেবে আসবেন, তাঁরা এই বাইসাইকেল সাফারির সুযোগ নিতে পারবেন। এটি উপভোগ করতে হলে আগে থেকে বুকিং করতে হবে৷ একটি সাইকেলে একজন আরোহী চড়তে পারবেন। গজলডোবার ক্যানালের ধার দিয়ে, পাখি বিতান হয়ে, তিস্তা নদীর পাশ দিয়ে সরস্বতীপুর চা-বাগান এলাকা মধ্যে দিয়ে সাইকেলে ঘুরতে পারবেন পর্যটকরা। নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট দূরত্ব ঘুরে ফের সূচনা স্থলে ফিরে আসবেন অতিথিরা। সাফারির মাঝে, বস্তির কোনও একটি জায়গায় সামান্য বিশ্রাম নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় চা জলখাবারের স্বাদ নিয়ে খানিক তরতাজা হয়ে ফিরে আসার সুযোগও থাকছে বলে জানিয়েছেন তিনি৷
[ট্রেন থেকে পড়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন যুবক, মোবাইলে ছবি তুলতে ব্যস্ত সহযাত্রীরা]
জানা গিয়েছে, আপাতত ১৫টি এমন সাইকেল নামানো হচ্ছে। পরবর্তীতে বাড়ানো হতে পারে। তবে, এর ফলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণের শান্তি যেন বিঘ্নিত না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান আধিকারিকরা। জানান, প্রতিটি সাইকেল আরোহীর সঙ্গে একজন করে গাইড দিয়ে দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেই পর্যটকেরা ঘুরতে পারবেন। জঙ্গল পথ হওয়ায় বিপদের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই গা ছমছমে অ্যাডভেঞ্চার করলেও তা যেন সীমারেখা লঙ্ঘন না করে সেই বিষয়টিও মাথায় রাখছেন কর্তারা। এই কাজের জন্য স্থানীয়দের মধ্যে থেকে ইতিমধ্যে গাইড নির্বাচনও শুরু করেছে পর্যটন দপ্তর৷
সর্বশেষ খবর
-
একের পর এক পদত্যাগ, নৈহাটির পুরপ্রধানের ইস্তফা, ভাঙন বারাকপুরের পঞ্চায়েতেও
-
সুতোয় ঝুলছে যুদ্ধবিরতি! হরমুজ-ইজরায়েল সংকটের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে শান্তি বৈঠকে আমেরিকা
-
পক্ষে দাঁড়াল না কোনও আইনজীবী, পুলিশ হেফাজতে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা
-
মেয়ে নিখোঁজ ৩ মাস! গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাস্তায় রাস্তায় খুঁজছেন ‘অসহায়’ বাবা
-
রবিবার দেশজুড়ে ফের নিট, ‘বারবার পরীক্ষা দিয়ে ক্লান্ত’, পরীক্ষার আগেই আবারও আত্মঘাতী পড়ুয়া!