নিজস্ব সংবাদদাতা, হলদিয়া: মেয়ের প্রেম মেনে নিতে পারেনি তার বাবা-মা৷ বারণ করা সত্বেও সারানো যায়নি ‘প্রেমরোগ’৷ তাই যাবতীয় রাগ গিয়ে পড়ে মেয়ের প্রেমিকের উপর৷ ‘পথের কাঁটা’ সরাতে সেই প্রেমিককে খুন করে তাঁর দেহ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগ উঠল মেয়ের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে৷ আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার উত্তাল হল হলদিয়া৷ ঘটনা জানাজানি হতেই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে৷ পথ অবরোধ করা হয়৷ পুলিশ প্রেমিকার বাবা-মা ও তাঁর নাবালক ভাইকে গ্রেফতার করেছে৷
হলদিয়ার ভবানীপুর থানার চকদীপা গ্রামের সৌমেন মাইতি(২০)র সঙ্গে বড়বাড়ি গ্রামের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেম হয়৷ ছাত্রীটি চকদীপা স্কুলেরই ছাত্রী৷ স্কুলে যাতায়তের পথেই দু’জনের সম্পর্ক তৈরি হয়৷ সৌমেন প্রেমিকার বাড়ি যাতায়াত শুরু করেন৷ মেয়েটির বাবা শংকর দোলুই ও মা সাবিত্রী দোলুই এই সম্পর্ক মানেনি৷ তবু প্রেম চলতে থাকে দু’জনের৷ এরপর চলতি মাসের দু’ তারিখ সৌমেনকে ফোনে নিজের বাড়িতে ডাকে তাঁর প্রেমিকা৷ অভিযোগ, প্রেমিক বাড়িতে এলে প্রথমে তাঁকে মারধর করা হয়৷ পরে হাঁসুয়া দিয়ে সৌমেনের গলার নলি কেটে দেওয়া হয়৷ তারপর সৌমেনের দেহ একটি পুকুর ফেলে দেওয়া হয়৷ পরের দিন আবার সেখান থেকে তুলে ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়৷
এদিকে সৌমেনের খোঁজ না পেয়ে যখন তাঁর বাড়ির লোকেরা খোঁজাখুজি শুরু করেছেন, তখন তাঁর প্রেমিকা সৌমেনের জামাইবাবুকে ফোন করে সৌমেনের খবর জানতে চায়৷ তখনই সন্দেহ শুরু হয়৷ জানা যায়, ২ তারিখ সৌমেন ওই মেয়েটির বাড়ি গিয়েছিল৷ ইতিমধ্যেই সৌমেনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়৷ স্থানীয় জনতার রোষ গিয়ে পড়ে শংকর ও সাবিত্রী দোলুইয়ের উপর৷ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ৷
রবিবার এই খুনের প্রতিবাদে হলদিয়া-কোলাঘাট ৪১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়৷ নিহত সৌমেনের বাবা চন্দন মাইতি খুনের অভিযোগ দায়ের করেন৷ এরপরই শংকর দোলুই সাবিত্রী দোলুই ও তাদের নাবালক ছেলে সত্যব্রতকে গ্রেফতার করা হয়৷ সত্যব্রত নাবালক হওয়ায় তার স্থান হয়েছে নিমতৌড়ি হোমে৷ চলছে জিজ্ঞাসাবাদ৷
সর্বশেষ খবর
-
তাইল্যান্ড-কলকাতা মাদক চালান! পর্যটক সেজে মারাত্মক ‘মলি’ পাচারে এসে গ্রেপ্তার দুই বিদেশিনী
-
দিনেদুপুরে যুবককে গাড়িতে তুলে চম্পট! সল্টলেকে ‘ফিল্মি কায়দা’য় অপহরণের কিনারা পুলিশের
-
‘ছাত্রক্ষোভ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার হাতিয়ার’, রাহুল গান্ধীকে তোপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর
-
স্বাস্থ্য ভবনে পদোন্নতির ঝড়, মুখ্যমন্ত্রীর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের বড় প্রমোশন
-
দায়িত্ব নিয়েছিলেন ১৮ দিন আগে, কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা লকেটের দাদার