Bangladesh Violence

নৈরাজ্যের বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মারল ভিড়, বিবৃতি দিয়েই দায় ঝাড়লেন ইউনুস

ইউনুসের দাবি, 'বাংলাদেশে হিংসার কোনও স্থান নেই'।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ১৬:৪৮

options
link
নৈরাজ্যের বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মারল ভিড়, বিবৃতি দিয়েই দায় ঝাড়লেন ইউনুস

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে আওয়ামি লিগের সমর্থক এবং ‘হিন্দু’ এবং ‘কাফের’ হওয়ার ‘অপরাধে’ ময়মনসিংহে পিটিয়ে খুন করা হয় এক হিন্দু যুবককে। বাংলাদশে ইসলামি মৌলবাদীদের হাতে হওয়া এই ঘটনার বিরুদ্ধে অবশেষে মুখ খুলেছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। ময়মনসিংহের এই গণপিটুনির ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইউনুসের দাবি, ‘বাংলাদেশে হিংসার কোনও স্থান নেই’। যদিও, পরিবর্তনের বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে। কাছাকাছি আসছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান। একের পর এক আক্রমণের ঘটনায় আঙুল উঠছে, ইউনুস জমানায় নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া পাকপন্থি জামাতের বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের অন্দরে জামাতকে কাজে লাগিয়ে হিন্দু বিদ্বেষ তৈরি করা আসলে দীর্ঘমেয়াদে ভারতের বিরুদ্ধে আইএসআই-এর ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এবং এই ঘটনায় ইউনুস প্রশাসন যে নিষ্ক্রিয় তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায়।

Advertisement

দীপু দাসের এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস বলেছেন, ‘ময়মনসিংহে একজন হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার আমরা গভীর নিন্দা জানাই। নতুন বাংলাদেশে এই ধরণের হিংসার কোনও স্থান নেই। এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’ যদিও, বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র একেবারেই আলাদা। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে একের পর এক হত্যার ঘটনায় চাপে বাংলাদেশ প্রশাসন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

অন্যদিকে, বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে শহীদ আখ্যা দিয়েছে সরকার। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জনগণকে হিংসা এবং ঘৃণার রাস্তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশের দুই সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ এব‌ং ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর দপ্তরে ভাঙচুরের পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ভিতরে আটকে পড়া সাংবাদিকদের উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

সাংবাদিকদের একাংশের অভিযোগ, পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকায় হামলা চালানোর সুযোগ পায় হিংসাত্মক আন্দোলনকারীরা। দমকল আরও দেরিতে এলে তাঁদের মৃত্যুও হতে পারত। এই ঘটনার পরেই সাংবাদিকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে ইউনুসের প্রশাসন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘আমরা আপনার পাশে আছি। আপনারা যে সন্ত্রাস ও হিংসার শিকার হয়েছেন তার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। সন্ত্রাসের মুখেও, দেশ আপনাদের সাহস দেখেছে। সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ আসলে সত্যের উপর আক্রমণ। আমরা আপনাদেরকে পূর্ণ ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিচ্ছি।’

ইউনুসের দফতরের বিবৃতিতে প্রথম আলো-র সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ডেলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনামের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের উপর হামলাকে নক্কারজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউনূসের কথায়, “এই হামলা আমাকে গভীর ভাবে ব্যথিত করেছে। এই দুঃসময়ে সরকার আপনাদের পাশে আছে।” শুধু তা-ই নয়, বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনাকে ‘স্বাধীন গণমাধ্যমের উপর হামলার শামিল’ বলেও উল্লেখ করেছেন ইউনুস। তাঁর মতে, এর ফলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাপ্রাপ্ত হবে।

যদিও, ইউনুসের বিবৃতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষজ্ঞদের মত, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে একের পর এক ঘটনায় বিবৃতি দিয়েই দায় ঝেড়েছেন তিনি। সেই কারনে ইউনুসের উপরে আস্থা রাখতে ব্যর্থ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।  

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.