Violence in Bangladesh

বাংলাদেশ কি ফের ধর্মনিরপেক্ষ হবে? অশান্তির মধ্যেই ইঙ্গিত হাসিনার

সে দেশের তথ্য দপ্তরে মন্ত্রীর মন্তব্যেও বেড়েছে জল্পনা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৮, ২০২১, ২০:৪২

options
link
বাংলাদেশ কি ফের ধর্মনিরপেক্ষ হবে? অশান্তির মধ্যেই ইঙ্গিত হাসিনার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) সাম্প্রদায়িক হিংসার মধ্যেই ধর্মনিরপেক্ষতায় ফেরার ইঙ্গিত। অন্তত সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে এমনটা হতে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সকল ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করবে। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের এটাই ‘মূল মন্ত্র’।”

Advertisement

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতার পথে ফেরার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে  সে দেশের তথ‌্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী মুরাদ হাসানের মন্তব্যে। তিনি বলেছেন, ১৯৭২-এর ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ফেরাতে শীঘ্রই সংসদে একটি বিল পেশ হবে। সেই বিল সর্বসম্মতভাবে পাশ করিয়ে নেওয়ার ব‌্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের শাসক দল আওয়ামি লিগ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর মৌলবাদী হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের হাত!]

১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশকে (Bangladesh) ‘ধর্মনিরপেক্ষ গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র’ ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। কিন্তু, ১৯৭৮ ও ১৯৯০ সালে সংবিধান সংশোধন করে বাংলাদেশের জাতীয় ধর্ম হয় ইসলাম। এখন কি ফের সংবিধান সংশোধনের পথে বাংলাদেশ? জাতীয় চরিত্র পালটে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হতে চায় শেখ হাসিনা সরকার। সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে বিল পাস করাতেও তৎপর হয়েছে শাসক দল।

Advertisement

Bangladesh Violence

 

বাংলাদেশে দুর্গাপুজোর সময় কিছু জায়গায় সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটে। তার পরিপ্রেক্ষিতে সংখ‌্যালঘু সম্প্রদায়ের মনোবল বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ এক অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সকল ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করবে। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে।” তিনি প্রত্যেক বাংলাদেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন, “ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।” এই প্রসঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধুর কথাও তুলে ধরেন। মুজিবর রহমান বলেছিলেন, “বাংলাদেশের মাটিতে সাম্প্রদায়িকতার কোনও স্থান নেই। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান… যাঁরা যাঁরা এ দেশে বসবাস করেন, তাঁরা প্রত্যেকেই এদেশের নাগরিক। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা সম অধিকার ভোগ করবেন।” বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আপনারা সবসময় নিজেদের সংখ্যালঘু মনে করেন কেন? আপনারা প্রত্যেকে এই দেশেরই নাগরিক। এই মাটিতে আপনার জন্ম। এই মাটিতে যাঁদের জন্ম, তাঁরা এই মাটিরই সন্তান। আপনারা সবাই নিজের অধিকারে বসবাস করেন।”

[আরও পড়ুন: বাংলাদেশে থামছে না সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা, পুড়ল হিন্দুদের ৬৫টি ঘর]

এদিকে, বাংলাদেশ একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দেশ উল্লেখ করে তথ‌্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেন, “আমরা শীঘ্রই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাব।” বাংলাদেশের একটি সংবাদ পোর্টালের খবর অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, “সামরিক শাসকরা ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতার মূল আদর্শকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।” তিনি সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হতে পারে না। আমরা ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাব আমরা সেই বিলটি সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পাশ করিয়ে নেব। আমি মনে করি না কেউ এই বিলের বিরোধিতা করতে পারেন।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.