সাইকেলের প্যাডেলে ভর করে একের পর এক রাজ্য পেরিয়ে ছুটে চলেছেন তিনি। নেই কোনও বিলাসবহুল গাড়ি, নেই পর্যটনের আরাম-আয়েশ। সঙ্গে শুধু একটি সাইকেল, প্রয়োজনীয় সামান্য সরঞ্জাম আর তীর্থদর্শনের অদম্য ইচ্ছা। সেই ইচ্ছাকে সঙ্গী করেই জলপাইগুড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছেন সুদর্শন বিশ্বাস। ইতিমধ্যে ১৬টি রাজ্য পেরিয়ে ২৩টি সতীপীঠ ও চারটি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন করে এবার তাঁর পা পড়েছে বীরভূমে। নলহাটির নলাটেশ্বরী মন্দির দর্শন সেরে ময়ূরেশ্বরের কোটাসুরে পৌঁছন সুদর্শন। তাঁর গন্তব্য ছিল ঐতিহ্যবাহী মদনেশ্বর শিবমন্দির। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে সাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছতেই স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয় উৎসাহ। গ্রামের সনাতনী যুবকেরাই এগিয়ে এসে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করেন। রাতের খাবারের ব্যবস্থাও করেন। অচেনা পথের এই আতিথেয়তাই সুদর্শনের দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তিতে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
রবিবার সকালেই ফের পথের ডাক। কোটাসুরের মদনেশ্বর শিবকে প্রণাম করে নন্দীকেশ্বরী মন্দিরের উদ্দেশে সাইকেল নিয়ে রওনা দেন তিনি। সেই পথেই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের সঙ্গে। সুদর্শনের দীর্ঘ তীর্থযাত্রার কথা শুনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। তাঁর এই উদ্যোগের জন্য শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি যাত্রাপথে পাশে থাকার বার্তা দিয়ে উপহারস্বরূপ কিছু আর্থিক সহায়তাও সুদর্শনের হাতে তুলে দেন কৃষিমন্ত্রী। মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে নিজের যাত্রার অভিজ্ঞতার কথা জানান সুদর্শন। একের পর এক রাজ্য পেরিয়ে সাইকেলে তীর্থস্থানে পৌঁছনোর অভিজ্ঞতা, পথে মানুষের সহযোগিতা এবং আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। কৃষিমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া এই শুভেচ্ছা ও সহযোগিতা তাঁর দীর্ঘ যাত্রায় নতুন উৎসাহ জোগাবে বলেই মনে করছেন সুদর্শন।
পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার সুদর্শনের এই সফরের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষা। কর্মজীবনের ব্যস্ততাকে আপাতত পাশে সরিয়ে রেখে নিজের মনের ইচ্ছা পূরণেই বেরিয়ে পড়েছেন তিনি। তাঁর কাছে সাইকেল এখন শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, সেটিই হয়ে উঠেছে তীর্থযাত্রার সঙ্গী। লক্ষ্যও ছোট নয়। দেশের ৫১টি সতীপীঠ দর্শনের পাশাপাশি মহাদেবের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গে পৌঁছতে চান তিনি। ইতিমধ্যেই ২৩টি সতীপীঠ ও চারটি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন সম্পূর্ণ হয়েছে। সামনে আরও বহু পথ, আরও বহু তীর্থস্থান।
ভারতের সীমানাতেও থামতে চান না সুদর্শন। আগামী দিনে নেপাল, পাকিস্তান ও চিনের বিভিন্ন পীঠস্থানেও সাইকেল নিয়ে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তাই কোটাসুরে এক রাতের বিরতির পর ফের প্যাডেলে চাপ দিয়েছেন তিনি। সামনে নন্দীকেশ্বরী, তারপর আরও অজানা পথ। একটাই লক্ষ্য—সাইকেলের চাকা ঘুরিয়ে ইচ্ছাপূরণের সেই দীর্ঘ তীর্থযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রাতেও ভাঙড়ে উত্তেজনা, কলেজ-থানার বাইরে বিক্ষোভে এসএফআই-আইএসএফ, নামল পুলিশ-র্যাফ
-
মঙ্গলে একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী, ২ হস্তী শাবকের নামও দেবেন শুভেন্দু
-
৩ বিচারপতির সই জাল করে ভুয়ো প্যানেল, হাই কোর্টে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ!
-
‘সিএনএন’-সহ ৩ সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা! প্রতিবাদে ট্রাম্পের কভারেজ বন্ধ ৪ বড় মার্কিন নেটওয়ার্কের
-
বিহারে কিশোরীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় সিট গঠন, গ্রেপ্তার ৩, নিন্দায় সরব মমতা