রাত পোহালেই উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু। এতদিন ধরে পড়াশোনা, প্রস্তুতি সব হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা দিতে পারবে তো? এখন এই চিন্তাতেই ঘুম উড়েছে মালদহের বানভাসি ভূতনির পরীক্ষার্থীদের। গত ১৫ দিন ধরে জলে ভেসে রয়েছে তিনটি হাইস্কুল। জলে ডুবে পরীক্ষাকেন্দ্রই। পরীক্ষা হবে কোথায়? এই অবস্থায় অবশ্য জেলা প্রশাসন এগিয়ে এসেছে। ভূতনির চর থেকে মানিকচকে স্থানান্তরিত হয়েছে পরীক্ষাকেন্দ্র। শুধু তাই নয়, পরীক্ষার আগে দু’দিন ধরে নৌকায় চড়িয়ে সব ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে আসা হয়েছে পরীক্ষাকেন্দ্রের কাছাকাছি। তবে অনিশ্চয়তার মেঘ কাটছে না কিছুতেই।

আরও পড়ুন:
ভূতনির জলবন্দি এলাকায় ৬৩৬ জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রয়েছে। ভাঙনের পর থেকে ভূতনির উত্তর চণ্ডীপুর বি পি হাইস্কুল, চণ্ডীপুর হাইস্কুল এবং আমটোলা নন্দীটোলা হাইস্কুল – এই তিনটিই এখন জলের নিচে। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। এই অবস্থায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনি ও রবিবার ধাপে ধাপে এখানকার পরীক্ষার্থীদের সকলকে এনে রাখা হয়েছে মানিকচকের তিনটি স্কুলে। বাড়ি ও স্কুলের চারপাশ থেকে জল সরে না যাওয়া পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় মানিকচক সদরে স্কুলে থেকেই পরীক্ষা দেবে ভূতনির ছাত্রছাত্রীরা। তাদের থাকা, খাওয়া সমস্ত ব্যবস্থা প্রশাসনের।

রবিবার ভূতনি সেতুতে অতিরিক্ত জেলাশাসক সপ্তর্ষি নাগ-সহ প্রশাসনের কর্তারা পরীক্ষার্থীদের হাতে খাতা, পেন তুলে দেন। পরীক্ষায় সাফল্যের আগাম শুভেচ্ছাও জানান। কিছুটা ভরসা পেয়েছে তারা। বলছে, প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়া যাবে। শুধু একদিন নয়, প্রতিদিন পরীক্ষা দিতে এতটা জলপথ পেরিয়ে আসতে হতো তাদের। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে সেটা একেবারেই সম্ভব নয়। তাই পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদেরও সরিয়ে আনা হয়েছে জানিয়েছেন মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক।

যদিও ভূতনিতে এখন বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির পথে। তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু এলাকা থেকে জল নেমে যাওয়ায় জলবন্দি পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় দুই ফুট জল কমেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বেশ কিছু রাস্তায় মোটরবাইক নিয়ে যাতায়াতও শুরু করেছেন বাসিন্দারা। রবিবার ভূতনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনে যান মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নেন। বন্যার জলে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেন বিধায়ক। গৌড়চন্দ্র মণ্ডল জানান, ভূতনি পুরোপুরি স্বাভাবিক ছন্দে না ফেরা পর্যন্ত ভূতনি ব্রিজ থেকে বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু থাকবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
উপনির্বাচনের আগেই প্রচার থেকে সরলেন হুমায়ুন! বললেন, ‘জনতার সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেব’
-
কাল হল প্রতিকূল আবহে শৃঙ্গজয়ের জেদ! নেপালে তুষারধসে মৃত্যু বাংলার পর্বতারোহীর
-
বালতি হাতে বাড়িতে ঢুকল কে? তারপরই তীব্র বিস্ফোরণ, কর্নাটকে মৃত একই পরিবারের ৬ জন
-
‘নিজে ড্রাইভ করে গড়িয়াহাটে শপিং করি,’ পুজো নিয়ে আড্ডায় দিতিপ্রিয়া
-
সিনেমা হলের মধ্যেই অবাধ যৌনতা! ‘প্রান্তিকে’ একী কাণ্ড, হুলস্থুল তেহট্টে