১৯৪৬ সালের কুখ্যাত সেই ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ বা ছেচল্লিশের দাঙ্গার ক্ষত এখনও বিস্মৃত হয়নি। সেই ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে তৈরি বিতর্কিত সিনেমা ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। ছেচল্লিশের সেই ইতিহাস ও গোপাল মুখোপাধ্যায়, যিনি গোপাল পাঁঠা নামে অধিক পরিচিত, তাঁর লড়াই, সংগ্রাম ও সঙ্গীসাথীদের ভূমিকা নিয়ে নানা অজানা কথা এবার ফুটে উঠবে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে। ‘৪৬-এর আর্তনাদ’ থিমে এবছর পুজো হচ্ছে বর্ধমান। মৈত্রী সংঘের পরিচালনায় টিকরহাট সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি ১৯৪৬ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনার ইতিহাস আর গোপাল মুখোপাধ্যায়দের মতো অকুতোভয় মানুষজনের ভূমিকা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপে। প্রতিমা দর্শনের সঙ্গে দাঙ্গার হাত থেকে হিন্দু সমাজকে বাঁচাতে গোপাল পাঁঠাদের অবিস্মরণীয় অবদান আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হবে দর্শনার্থীদের কাছে।

আরও পড়ুন:
শিল্পীর নিপুণ তুলির টানে ৮০ বছর আগের সেই ভয়াবহ ইতিহাস ফিরে আসছে মণ্ডপে। সোহরাবর্দি বাহিনীর হামলায় রক্তাক্ত কলকাতার পথঘাট, সারি সারি নিথর দেহ, কোথাও শকুনে ছিঁড়ে খাচ্ছে শবদেহ – এখন সেই সব চিত্র ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত শিল্পীরা। মৈত্রী সংঘের সম্পাদক স্বপন রায় জানান, ক্লাবের জুনিয়রদের মাথাতেই প্রথম এসেছিল এবারের থিম ভাবনা। সেই ভাবনাকে মান্যতা দিয়ে সিনিয়ররা পুজোর থিম চূড়ান্ত করেন। স্বপনবাবুর কথায়, ‘‘এবার আমাদের থিম ৪৬-এর আর্তনাদ। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় যে দাঙ্গা হয়েছিল তাতে গোপাল মুখোপাধ্যায় যিনি গোপাল পাঁঠা নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন, সেই সময়ে তাঁর ও অন্যান্যদের ভূমিকা ফুটে উঠবে মণ্ডপে। প্রোজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হবে সেই সময়ের দাঙ্গার ভয়াবহ ইতিহাস।”

এবছর টিকরহাট সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির পুজোর বাজেট প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। রাজ্য সরকারের ঘোষিত ১ লক্ষ টাকা পাওয়ার আশায় রয়েছেন উদ্যোক্তারা। মণ্ডপসজ্জায় ব্যস্ত এক শিল্পী জানান, প্রবেশপথ থেকে প্রতিমা দর্শন পর্যন্ত ১৯৪৬ সালের সেই মর্মান্তিক ঘটনার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। দাঙ্গার পর কোথাও কলকাতার রাস্তায় মৃত মানুষ পড়ে রয়েছে। শকুনে ছিঁড়ে খাচ্ছে শব। ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পুরো ইতিহাস থাকবে মণ্ডপসজ্জায়। পুজো কমিটির সম্পাদক স্বপনবাবুর মতে, সেই সময় গোপাল মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা যেভাবে প্রতিরোধ করেছিলেন, তার ইতিহাস অনেকেরই অজানা। এতদিন জানতে দেওয়া হয়নি। সেই অজানা অধ্যায় জানতে হলে দর্শনার্থীদের আসতেই হবে টিকরহাটে। সেই সময়কার বিভিন্ন পেপার কাটিং-সহ তথ্যপ্রমাণও থাকবে মণ্ডপে। উদ্যোক্তাদের আশা, রক্তাক্ত ইতিহাস আর দুর্গার টানে এবার তাঁদের মণ্ডপেই মানুষের ঢল নামবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্বাধীকার’ বনাম প্রশানিক ‘স্বায়ত্তশাসন’
-
জলে ভাসছে স্কুল! রাত পোহালেই উচ্চ মাধ্যমিক, ভূতনিতে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী?
-
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনার মৃত্যুর সংখ্যা লুকোচ্ছে আমেরিকা! হেগসেথ বললেন, ‘বাজে কথা’
-
মানসিক চাপ ফুটে ওঠে ত্বকেও, পুজোর আগে ‘স্ট্রেসড স্কিন’ থেকে মুক্তি পাবেন কীভাবে?
-
ভরা মঞ্চে মোদির মাকে নিয়ে মশকরা! ‘অপমান করেনি তো’, রাহুলের পাশে দাঁড়াল মমতা তৃণমূল