Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Subhasgram Ghosh family's Durga Puja

অর্ধকালী ও অর্ধদুর্গা রূপে দেবী আরাধনা, বাংলার বনেদি বাড়ির এই পুজোর চমক ‘শত্রুবলি’

কেন এমন প্রতিমা, তার নেপথ্যে জড়িয়ে রয়েছে অলৌকিক কাহিনি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১৪:৪৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১৪:৪৯

options
link
অর্ধকালী ও অর্ধদুর্গা রূপে দেবী আরাধনা, বাংলার বনেদি বাড়ির এই পুজোর চমক ‘শত্রুবলি’ zoom
সুভাষগ্রামের ঘোষ পরিবারের অর্ধকালী ও অর্ধদুর্গা। ফাইল ছবি
Advertisement

দেবীদুর্গার আরাধনায় এক এক জায়গায় এক একরকম রীতি। আবার বিগ্রহতেও রয়েছে নানা রকমফের। শাস্ত্রে দেবীর নানা রূপের কথা বর্ণিত রয়েছে। ঠিক যেমন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষগ্রামেও দেবী অর্ধদুর্গা এবং অর্ধকালী রূপে পূজিতা হন। কেন এমন প্রতিমা, তার নেপথ্যে জড়িয়ে রয়েছে অলৌকিক কাহিনি।

সময়টা ১৮৬৪ সালে। পূর্ববঙ্গের ঢাকার বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডলের হরিকিশোর ঘোষ স্বপ্নাদেশ পান। তার পরদিন থেকেই শুরু হয় পুজোর তোড়জোড়। শুভ তিথি দেখে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রতিমা তৈরির কাজের শেষে পটুয়া বিগ্রহে হলুদ রং করেন। তবে সকলকে অবাক করে দিয়ে চোখের নিমেষে বদলে যায় প্রতিমার রং। পটুয়ারা দেখে বিগ্রহের ডানদিক কালো রঙের হয়ে যায়। সেই প্রতিমা দেখে হরিকিশোরের স্বপ্নাদেশ পাওয়া বিগ্রহের ছবি মনে ভেসে ওঠে। তাঁর কথামতো কুলপুরোহিত অর্ধকালী এবং অর্ধদুর্গা রূপে দেবীর আরাধনা করেন। ঐতিহ্যবাহী এই পরিবারের পুজোর প্রতিমাই যেন বিশেষত্ব। একচালার প্রতিমার ডানদিকে অমানিশারূপী দেবী কালী এবং বামদিকে তপ্তকাঞ্চনবর্ণা দুর্গা। দেবীর ডান পা থাকে বাহন সিংহের পিঠে। বাম পা অসুরের কাঁধে। মহিষাসুরকে বধ করছেন দেবী কালিকা। দেবীর ডানদিকে লক্ষ্মী, কার্তিক। বাঁদিকে গণেশ ও সরস্বতী। গা ভর্তি গয়না পরেন দেবী ও তাঁর সন্তানেরা।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
Durga-1
সুভাষগ্রামের ঘোষ পরিবারের অর্ধকালী ও অর্ধদুর্গা। ফাইল ছবি

দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে এই পরিবারটি চলে আসে এপার বাংলায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষগ্রামে বসবাস শুরু করেন। সেই পুজোই আজও সুভাষগ্রামের ঘোষ পরিবারের অহঙ্কার। হাজার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দুর্গাপুজোর ধারাবাহিকতায় কোনও বদল আসেনি। ললিতাসপ্তমী তিথিতে দেবীর কাঠামো পুজো হয়। তারপর থেকে ঠাকুরদালানে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। সপ্তমীর সকালে হয় চক্ষুদান। তারপরই হয় দর্পণ স্নান। তিন সমুদ্রের জল, গঙ্গার জল, দুধ, শিশির, মধু-সহ মোট ১০৮ রকমের জল ব্যবহার করা হয় স্নানে। পুজোর তিনদিন আখ ও চালকুমড়ো বলি হয়। সন্ধিপুজোয় চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। নবমীতে চালের পিটুলি দিয়ে মানুষের আকৃতি গড়া হয়। কচু পাতায় মুড়ে সেটি বলি দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজন এটিকে ‘শত্রুবলি’ বলেন। ষড়রিপুকে দূর করার প্রতীকী অনুষ্ঠান এটি।

শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোয় অন্নভোগ দেওয়ার রীতি নেই। সাড়ে ১২ কেজি চালের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। দশমীর ভোগে বোরো ধানের চাল, কচুর লতি, শালুক শাপলা শাক, আমড়া বাধ্যতামূলক। দশমীর সকালে দর্পণ বিসর্জন হয়। সন্ধ্যায় সিঁদুরখেলার পর বাড়ির পুকুরে হয় প্রতিমা নিরঞ্জন। প্রতিবছর এই পুজোয় স্থানীয়দের ভিড়ে যেন গমগম করে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.