উন্নয়ন থেকে মামলা প্রত্যাহার, পুরুলিয়ায় গিয়ে একাধিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কুড়মি সমাজ হৃদয়ে রয়েছেন, সেই বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কুড়মি আন্দোলনের সময় রেল রোকো ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল লালমাটিতে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। সেইসব মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা করলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আমি দুর্গাপুরের বৈঠকে মামলা প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছিলাম। ওই মামলা প্রত্যাহার হবে।”
যে কারণে জঙ্গলমহলে আদিবাসী কুড়মি সমাজের ‘নো ভোট টু টিএমসি’-র আহ্বান! সেই বিষয়েই অর্থাৎ জাতিসত্ত্বার আন্দোলনে আদিবাসী কুড়মি সমাজের রেল অবরোধকে ঘিরে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা দেয় বিগত সরকার। সেই সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলে একেবারে প্রকাশ্যে রবিবার পুরুলিয়ার কুড়মি কর্মসূচি থেকে ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও তিনি গত ২১ দুর্গাপুরে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে আধিকারিকদেরকে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন। এদিন পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের চাকলতোড় গ্রাম পঞ্চায়েতের করম পর্বতিয়া মহাজড়ুয়াহীতে মঞ্চ থেকে মামলা প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই আদিবাসী কুড়মি সমাজে খুশির হাওয়া, স্বস্তি। তবে ওই রেল অবরোধকে কলকাতা হাইকোর্ট ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘বেআইনি’ বলেছিল। তার প্রেক্ষিতেই পুরুলিয়া জেলা পুলিশ পদক্ষেপ করে। দুর্গাপুজোর আগে ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই রেল অবরোধ ছিল। হাইকোর্টের ওই নির্দেশের পরেও কুড়মি নেতা-কর্মী-সমর্থকরা অবরোধের চেষ্টা করলে পদক্ষেপ করে পুলিশ। পালটা পুলিশের উপর হামলাও হয় বলে অভিযোগ। রেল ও রাজ্য পুলিশের তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার হন মোট ৫১ জন। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ গ্রেপ্তার করে ২৯ জনকে। আরপিএফ গ্রেপ্তার করে ২২ জনকে। জেলা পুলিশ এবং আরপিএফ উভয়ই ৫১ জনের নামে মামলা রুজু করে। অতীতেও কুড়মিদের এই রেল অবরোধকে ঘিরে আরপিএফ মামলা করে। স্টেশনে ক্ষয়ক্ষতি হয়। অতীতে ফি বছর ২০ সেপ্টেম্বর আদিবাসী তালিকাভুক্তের দাবিতে রেল অবরোধ করে আদিবাসী কুড়মি সমাজ।

কিন্তু রাজ্যে পালাবদলে বিজেপি সরকার কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণায় ওই আন্দোলন থেকে সরে আসেন কুড়মিরা। এমনকী তাঁদের প্রধান দাবিপূরণেরও আশ্বাস দিয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কুড়মিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকে। ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর পুরুলিয়ার নতুন প্রস্তাবিত বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী জনসভা করে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো ওই সভা থেকে ‘নো ভোট টু টিএমসি’-র ডাক দেন।

মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, “জাতিসত্তার আন্দোলনে হাইকোর্টের অছিলায় আমাদের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ এরকম অত্যাচার চালিয়ে গেলেও তৃণমূল কোনও প্রতিবাদ করেনি। হাইকোর্টের আদেশনামায় একটি পয়েন্টে ছিল কোনওরকম ক্ষতি না করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা যাবে। কিন্তু রেল অবরোধের দু’দিন আগে থেকে গ্রামে গ্রামে কেন অত্যাচার করা হয়েছিল? মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে পদক্ষেপ করেছেন। ঘোষণা করলেন সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। ফলে আমাদের আন্দোলন যে যথার্থ সেটা প্রমাণ হল।” বিগত সরকারের আমলে গত বছর রেল অবরোধকে ঘিরে পুলিশের অত্যাচারের অভিযোগের পর থেকেই পুলিশ ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে একেবারে বেঁকে বসে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কোটশিলার মুরগুমার কেনকেচে পাহাড়ে একটি কর্মসূচি থেকে আদিবাসী কুড়মি সমাজ চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূলকে একটিও ভোট না দেওয়ার।
এদিন কুড়মি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, অধিকার নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্বজিৎ মাহাতো চিঠি লিখেছিলেন। তাঁকে অজিত মাহাতো ফোন করেছিলেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে ইউসিসি কমিটি কাজ করছে। কুড়মি সমাজকে বাদ রেখেছি। আপনারা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, অধিকার-আমার কাছ থেকে বুঝে নেবেন।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
তৃণমূল আমলে ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি, পাঁচ বছরেই ভেঙে পড়ল সেই সেতু!
-
মধ্যরাতে মহিলা সেজে রাস্তায়, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ক্রিয়েটরের! ভিডিও দেখলে ছি ছি করবেন
-
এক ঘরে আটকে পোষ্য কুকুর, অন্য ঘরে উদ্ধার যুবকের রক্তাক্ত দেহ! ভরদুপুরে বাগুইআটিতে হাড়হিম ঘটনা
-
এবার এসআইআর নোটিস পেলেন আডবানী, জয়শংকর! তালিকায় একাধিক হেভিওয়েটের নাম
-
সিজেপি পৌঁছতেই স্কুল ঠিক করার হিড়িক রাজস্থান সরকারের, ৪৭২ স্কুলে বরাদ্দ ৪ হাজার কোটি!