বাংলা ইন্ডাস্ট্রির তরুণ প্রজন্মের সফল অভিনেত্রীর তালিকার শীর্ষে যাঁর নাম উঠে আসে তিনি আর কেউ নন, দিতিপ্রিয়া রায়। তিনি অবশ্য আজও সকলের কাছে সেই প্রিয় ‘রানিমা।’ ‘ করুণাময়ী রানী রাসমণি’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। এরপর বেশ কিছু সিনেমা-সিরিজে কাজ করে নিজের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছেন। পড়াশোনা আর অভিনয় একসঙ্গে সামলে দুইক্ষেত্রেই সফল দিতিপ্রিয়া। এই মুহূর্তে সাময়িক বিরতি, তবে পুজোর প্ল্যান শেয়ার করতে গিয়ে খুব শীঘ্রই কাজে ফেরার একটা রহস্য জিইয়ে রাখলেন বই কী!
অভিনয় জগতের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক থাকলেও আজও তাঁর নামের সঙ্গে অভিনেত্রীর পাশাপাশি পড়ুয়া তকমাটা জুড়ে যায়। এই মুহূর্তে যেতেহু শুটিংয়ের ব্যস্ততা নেই তাই এবছরের পুজোর পুরো সময়টাই পরিবারের সঙ্গে কাটাবেন? পুরোটা খোলসা না করলেও দিতিপ্রিয়ার ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব, “সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে যাই করি না কেন পরিবারের সঙ্গে তো সময় কাটাবই।”
আরও পড়ুন:

পুজোর কয়েকটা দিনের জন্য কোনও বিশেষ পরিকল্পনা? ‘রানিমা’ বলেন, “পুজোয় আলাদা করে প্ল্যান থাকে না। তবে আজ পর্যন্ত কখনও কলকাতার বাইরে যাইনি, আর যেতে ভালোও লাগে না। বাড়ির সকলের সঙ্গে, বন্ধুবান্ধব নিয়েই আমার পুজো কাটে।” পুজোয় রাতভর ঠাকুর দেখতে ভালোবাসেন? দিতিপ্রিয়ার সাফ জবাব, “না, একদমই নয়। পাড়ার পুজো, পিসির বাড়ির পুজোয় থাকি। রাত জেগে ঠাকুর দেখতে ভালো লাগে না। আসলে ভিড় ঠেলাঠেলি এগুলো আমার পছন্দ নয়। আমি খুব ঘরোয়া। তাই পাড়ায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিই, মা-বাবার সঙ্গে ঠাকুর দেখি। ভোরে উঠে স্নান করে পুজোর কাজে অংশ নেওয়া, অষ্টনীতে অঞ্জলি দেওয়া এগুলো ভালোবাসি। আমার তো থিম পুজোও পছন্দ নয়। তাই থিমের পুজো দেখার যে হিড়িক সেই টান আমি কখনও অনুভব করি না।”

ছোট থেকে বড় হওয়া, পুজোর আনন্দ উদযাপনে কোনও পরিবর্তন? তাঁর কথায়, “না, ছোটবেলার পুজো আর এখনকার পুজো আমার কাছে দুটোই সমান। কারণ তখনও আমি যা যা করতাম আজও ঠিক সেগুলোই করি। বাড়ি, পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পিসির বাড়ির পুজো নিয়েই ছোটবেলার দিনগুলো কেটেছে, এবছরও সেভাবেই কাটবে। আসলে আমার জন্ম যে পাড়ায় সেখানেই পৈতৃকবাড়ি, আর আমাদের নতুন ফ্ল্যাটও ওখানেই। তাই চেনা পরিচিতির পরিসর তো বদলায়নি। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার পাড়ার সকলে আমাকে আজও শুধু দিতিপ্রিয়া হিসেবেই ভালোবাসে। আমার পরম সৌভাগ্য যে সেলিব্রিটি তকমা লাগিয়ে কেউ দূরে ঠেলে দেয়নি।”

পুজোর তো আর বেশিদিন বাকি নেই। কেনাকটা কত দূর? দিতিপ্রিয়া একগাল হেসে বললেন, “সে তো আমার শেষ মুহূর্তের কাজ। প্রতিবারই পুজোর কয়েকদিন বাকি থাকতে শপিং করি। তবে জন্মদিনে কিছু ড্রেস পেয়েছিলাম সেগুলো রেখে দিয়েছি পুজোয় পরব। আমার স্কুল পাঠভবন যেহেতু গড়িয়ায় তাই আজও আমি ওখান থেকে শপিং করি। এখন নিজে ড্রাইভ করতে পারি, তাই গড়িয়াহাটের রাস্তা থেকেও জিনিস কিনি আবার মলে গিয়েও শপিং করি। ওখানে সবাই মোটামুটি আমাকে চেনে, সেই স্কুললাইফ থেকে যাই। একন শুধু শপিংয়ের সঙ্গে সেলফিটা যোগ হয়েছে।”

পুজোয় সিনেমা দেখার প্ল্যান আছে? খানিক হেসে বললেন, “প্ল্যান তো প্রতিবারই থাকে। পুজোর সময় আমি বাংলা সিনেমাই দেখি। কিন্তু, হঠাৎ যখন মনে হয় তখন আর টিকিট পাই না।” আর ডায়েট? দিতিপ্রিয়া পশু-পাথি খুব ভালোবাসেন। তাই পুজোর সময় দশদিন মাছ-মাংস কিছু খান না। ওই কয়েকটা দিন নিজেকে একটু সংযত রাখার চেষ্টা করেন। তবে এবার পুরোপুরি ভেজিটেরিয়ান হওয়ার চেষ্টা করছেন। সবশেষে আসা যাক পুজোর প্রেমের গল্পে। দিতিপ্রিয়ার কথায়, “শুটিং আর পড়াশোনা করেই তো ছোটবেলাটা কেটেছে। তাই প্রেমের সুযোগটা সেভাবে হয়নি।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার ‘ন্যাটো’র দেশগুলিতে হামলা রাশিয়ার? ইউক্রেন ছাড়িয়ে গোটা ইউরোপের আকাশে যুদ্ধের মেঘ!
-
হিমালয়ে হিন্দুকুশ অঞ্চলে বিপদের ঘনঘটা, ২৩০টি হিমবাহ হ্রদই বিপজ্জনক!
-
১৩ বছরেই এশিয়ান গেমসে নজির, অভিষেকেই সোনাজয় ‘জলকন্যা’র
-
যৌন অনিচ্ছা গায়েব হবে নিমেষে, এই টিপসে জেন জি-র বিছানায় উঠবে ঝড়
-
মাদক কারবারির বাড়িতে আচমকা হানা, পুলিশের ভয়ে পুকুরে ঝাঁপ অভিযুক্তের, তারপর?