চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: গত বছর বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১১৭টি দেশের মধ্যে ভারতবর্ষ নেমে যায় ১০০-তে। তিন বছর আগে যার স্থান ছিল ৬৭-তে। গত দু’বছর ধরে প্রতিদিন ক্যান্টিন, ব্যারাকের দুপুরের বেচে যাওয়া ভাল খাবার সংগ্রহ করছেন তিনি। সেই খাবার কলকাতা ও আসানসোলের ১৫০-এরও বেশি দুঃস্থ শিশুর মুখে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছেন। নয়া খাদ্য আন্দোলনের জন্মদাতা আসানসোলের বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষক চন্দ্রশেখর কুণ্ডু আজ দেশজুড়ে সমাদৃত।
[নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে পুলিশের জালে তান্ত্রিক বাবা]
গত বছর বাঁচিয়েছেন এক লক্ষের ও বেশি প্লেট খাবার। কিন্তু অসুবিধা হচ্ছিল রাতের খাবার বাঁচাতে। অনেক রাত হচ্ছিল। তাই এবার বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করলেন প্রতিদিন রাতে রান্না করা খাবার দেবেন ওই শিশুদের মুখে। প্রথম পর্যায়ে শুরু হয় আসানসোলের বিএনআরের কাছে ৫২ জন দুঃস্থ শিশুকে নিয়ে। কিন্তু শুরুটা ভাল মতো হলেও মাত্র এক মাস পরই টান পড়ল রসদে। চন্দ্রশেখরবাবু ও তাঁর বন্ধুরা দ্বারস্থ হলেন সোশ্যাল মিডিয়ার। এর মাধ্যমে শুরু হল প্রচার। সাড়া মিলল সেই প্রচারে। অনেকেই এগিয়ে এলেন রসদ নিয়ে। পাশে দাঁড়ালেন রাজ্যের চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত বেশকিছু মুখ। যাঁর মধ্যে রয়েছেন মীর, দেবলীনা, তথাগত, অপরাজিতা আঢ্য, তিমির বিশ্বাস, সিদ্ধেশ্বরের মতো বিখ্যাতরা। এখন এই রাতের খাবারের প্রকল্প ছড়িযে পড়ছে বিভিন্ন জায়গায়। চন্দ্রশেখরবাবু বলেন, “পৃথিবীর অপুষ্টিতে ভোগা অর্ধেক শিশু বাস করে আমাদের ভারতে। আর আমরা বছরে ৮৮ হাজার কোটি টাকার খাবার নষ্ট করি। এটা আমাদের জাতির এবং জাতীয় লজ্জা”
উল্লেখ্য, দু’সপ্তাহ আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুরু করেছেন ‘জাতীয় পুষ্টি মিশন’। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন বলিউড শাহেনশা অমিতাভ বচ্চন। ইতিমধ্যেই চন্দ্রশেখরবাবুর পাশে দাঁড়িয়ে একদিনে পাঁচ হাজার দুঃস্থ শিশুর মুখে অন্ন তুলে দিতে সাহায্য করেছেন রাজ্যের শ্রম ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী মলয় ঘটক। অথচ যে শহর থেকে চন্দ্রশেখরবাবু ক্ষুধার্থদের মুখে অন্ন তুলে দিতে জাতীয় পুষ্টি আন্দোলন শুরু করেছিলেন সেই আসানসোলেই রয়েছেন আরও একজন সাংসদ তথা কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। মাস্টার মশাইয়ের আশা, এই আন্দোলনে আগামিদিনে আরও অনেক মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। তাঁর আশা যে বিফলে যায়নি তার প্রমাণ দিলেন এই শিল্প শহরের একদল পড়ুয়া। তাঁরাও চন্দ্রশেখর কুণ্ডুর মতোই ব্যতিক্রমী ভাবনা নিয়ে পথে নেমে পড়েছে। ওই ছাত্ররা গভীর রাতে ফুটপাতবাসীকে রুটি খাওয়ানো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। না কোনও সংগঠন নয়, বেশ কয়েকজন বন্ধু মিলে ঠিক করেছিল রাতে শিল্পশহরের ফুটপাতবাসী অনাহারিদের রুটি খাওয়াবে।
[ব্যাগের লিচুতে পড়ছে টান, গো-বাহিনীর তাণ্ডবে ত্রস্ত কাটোয়া রেলস্টেশন]
সেই মতো বৃহস্পতিবার রাতে আসানসোল স্টেশন-সহ বাজার অঞ্চলের ফুটপাতবাসীকে রুটি ও সবজি বিতরণ করেন তাঁরা। আপাতত সপ্তাহে একদিন করে এই কর্মসূচি চলবে। ভবিষ্যতে এই কাজটি প্রতিদিন করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁদের। এজন্য শহরবাসী তথা আসানসোলের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকদের সহায়তা চেয়েছেন ওই পড়ুয়ারা।
সর্বশেষ খবর
-
ডিমভাত নিয়ে ঝগড়াতেই বাবা-মা’কে ‘খুন’ ছেলের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিনারা পুলিশের
-
বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে চিনা সাইবার অপরাধীরা! টার্গেট ভারতীয়রা? কড়া নজর গোয়েন্দাদের
-
ধরনার আগে থানার সামনে ছড়ানো গোবর! একাই শক্তিপুর থানা চত্বরে বসে পড়লেন হুমায়ুন
-
ভূমিধসের আতঙ্ক পেরিয়ে খুলে গেল সিকিমের গুরুদংমার লেক, ঘুরে আসুন পুজোর ছুটিতে
-
টেলিভিশনকে ‘ডাস্টবিন মিডিয়াম’ কটাক্ষ রোহিতের, দেবলীনার খোঁচা, ‘রনিত রায়ের ভাই একমাত্র পরিচয়’