পর্যটক টানতে মিরিক লেকের সৌন্দর্যায়ন, ঢেলে সাজছে পরিকাঠামো

জানেন, কেমন করে সেজে উঠবে মিরিক?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৭, ১৪:৪১

options
link
পর্যটক টানতে মিরিক লেকের সৌন্দর্যায়ন, ঢেলে সাজছে পরিকাঠামো

সব্যসাচী ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: পাহাড় বলতেই পর্যটকমহল এতকাল চিনে এসেছে শৈলরানি দার্জিলিংকেই। সেই পরিস্থিতি বদলাতে মিরিকের নতুন তৃণমূল পুরবোর্ড থেকে জিটিএ, সবারই পাখির চোখ মিরিকের পর্যটন। একদা বনধের নাগপাশে জড়িয়ে থাকা এই ট্যুরিস্ট স্পটের সুদিন ফেরাতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

Advertisement

MIRIK-TOURISM.jpg-2

Advertisement

[কানের পর্দা ফুটো, সামান্য পরিকাঠামোয় সফল অপারেশন গোপীবল্লভপুরে]

Advertisement

পাহাড়ের ঢালে পাইনের জঙ্গল ঘেরা প্রায় দেড় কিলোমিটার বিস্তৃত সুমেন্দু লেক। মিরিকের পর্যটনের নিউক্লিয়াস বলতে এটাই। তাই লেকের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে জিটিএ-র নয়া প্রশাসনিক বোর্ড ও মিরিক পুরসভা। তবে শুধু লেক সংস্কার নয়, গোটা শহরটাকেই পর্যটকদের স্বার্থে সাজিয়ে তুলতে চান মিরিক পুরসভার চেয়ারম্যান লালবাহাদুর রাই। সেজন্য ঢালাও অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। বিদ্যুদয়নের জন্য ১০ কোটি টাকা মিলেছে। গ্রিন সিটি প্রকল্পে পাওয়া গিয়েছে ৬ কোটি টাকা। লেক সংস্কারে বরাদ্দ ১০ কোটি টাকা। এই সংস্কারের কাজ জিটিএ-র তরফে করা হবে। লেকের চারপাশ ঘিরে প্রোটেকটিভ ওয়াল তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি লেকের পাশে পার্ক তৈরি করবে পুরসভা। অন্যদিকে লেককে ঘিরে রাস্তা তৈরি করবে জিটিএ। লালবাহাদুর রাইয়ের সংযোজন, মাস তিনেকের মধ্যেই মিরিককে কেন্দ্র করে ঢালাও উন্নয়নযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে। শীতের মরশুমে মিরিকের অন্যতম আকর্ষণ কমলালেবু। সেই কমলাকে যাতে পর্যটকদের আাকর্ষণের মাধ্যম করা যায় তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে। চলতি মরশুমে বিভিন্ন কারণে কমলার উৎপাদন বেশ খানিকটা কম। তা সত্ত্বেও পাহাড়ের ঢালে এই কমলা বাগান পর্যটকদের মধ্যে মিরিকের পরিচিতি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন লালবাহাদুর। তিনি জানান, মিরিকে পর্যটন উৎসব হবে। তবে কবে, কীভাবে হবে তা আলোচনা করে ঠিক করা হবে।

[লাদাখে বিশ্বের উচ্চতম রাস্তা বানাল BRO]

পাহাড়ে টানা বন্‌ধে বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল মিরিকের পর্যটন। গত চার মাসে একজনও পর্যটকের দেখা মেলেনি বলে জানালেন মিরিক লেকে বোটিং কাউন্টারের কর্মী ভুবন রাই। তিনি বলেন, “এখন একটু একটু করে পর্যটকরা আসছেন। দিনে ২৫ থেকে ৩০টি বোট বুকিং হয়।” মিরিক লেকের ধারে পর্যটকদের ঘোড়ায় চড়ান দীপক সুব্বা। তাঁর কথায়, কম হলেও পর্যটকরা আবার আসছেন এটাই ভাল দিক। শীতের মরশুমে ভালই ভিড় হবে বলে আশাবাদী দীপক। মিরিক লেকের ধারে হোটেল রয়েছে জনক অধিকারীর। তাঁর আক্ষেপ, মিরিকে এসে রাতে থাকেন এমন পর্যটকের সংখ্যা কম। মিরিককে ঘিরে পশুপতি বাজার, সৌরেণী এলাকাকে নিয়ে যদি পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলা যায় তাহলে পর্যটকরা দু’একদিন দার্জিলিংয়ের মতো মিরিকেও থাকবেন। তবে পরিস্থিতি যে বদলাচ্ছে তা নিয়ে একমত সবাই। আর বদলটা আক্ষরিক অর্থেই ইতিবাচক বলেই মনে করছেন তাঁরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.