বর্ধমানের পর এবার জামালপুর। ফের বেসরকারি নার্সিংহোমে শিশু মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জামালপুর থানা ও স্বাস্থ্য দফতরে অভিযোগ জানিয়েছেন সদ্যোজাত মৃত শিশুর বাবা। পুলিশ ও স্বাস্থ্যদপ্তর যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
কিছুদিন আগে বর্ধমানের নবাবহাট এলাকায় লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমে ফাইমোসিস অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য দপ্তর জানতে পারে অস্ত্রোপচারকারী আদৌও চিকিৎসক নন। ওই নার্সিংহোমের দুই মালিক গ্রেপ্তার হলেও পলাতক সেই ভুয়া চিকিৎসক।
হুগলি জেলার ধনিয়াখালির নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা তাপস রায়। তাঁর স্ত্রী শ্রাবন্তী রায় গর্ভবতী হওয়ার পর চিকিৎসক কামাল হোসেনকে দেখানো হচ্ছিল। তাপস জানান, ওই চিকিৎসকের কথা মতো ১ অক্টোবর স্ত্রীকে ভর্তি করেন জামালপুরের কাড়ালাঘাটের লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমে। ভর্তির পর থেকে সেভাবে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। শুক্রবার রাতে ওটিতে নিয়ে গিয়ে বেড়িয়ে এসে ডাক্তার বলে স্ত্রীর পেটের বাচ্চা নড়ছে না। সিজার করতে হবে। সিজার করার পরে বলে বাচ্চা মারা গিয়েছে। কিন্তু কীভাবে মারা গেলো সেটা জানানো হয়নি। অথচ অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাবার আগে অবধিও ওরা বলেছে সব ঠিক আছে। এই নার্সিংহোমের বেহাল পরিকাঠামো আর ডাক্তারের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তরে নালিশ জানিয়েছেন তাঁরা। শনিবার এই নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় ওই নার্সিংহোম চত্বরে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য আধিকারিক শঙ্খশুভ্র দাস ষকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। জামালপুর থানার ওসি পঙ্কজ নস্করও ঘটনাস্থলে যান। প্রসূতি শ্রাবণী রায় নার্সিংহোমে ভর্তি রয়েছেন। তিনি ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক। এদিকে, সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে চিকিৎসক কামাল হোসেন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ। যদিও পরে কামাল হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, পেটের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল। এখন ময়নাতদন্ত হলেই পরিস্কার হবে কীভাবে মারা গিয়েছে।
জামালপুরের কাড়ালাঘাটের ওই নার্সিংহোমের মালিক মহম্মদ কাজি আজিজ কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। এদিকে, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর এই নার্সিংহোমটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল পূর্ব বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। কিন্তু তা উপেক্ষা করে চালু রেখেছিল। ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও পুলিশের অভিযানের পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে কোনও অদৃশ্য শক্তির হাত ধরে এপ্রিল মাসেই আবার খুলে একইভাবে ব্যবসা চালাতে শুরু করে দেয় বলে অভিযোগ।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম জানান, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়েছেন। ডেলিভারি করার সময়েই পেটেই শিশুটি মারা গিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে পরিস্কার হবে। নার্সিংহোমের পরিকাঠামোর মান উন্নতি না হয়ে থাকলে আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান। কিছুদিন আগে বর্ধমানের নবাবহাট এলাকায় লাইফ কেয়ার নার্সিংহোমে ফাইমোসিস অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য দপ্তর জানতে পারে অস্ত্রোপচারকারী আদৌও চিকিৎসক নন। ওই নার্সিংহোমের দুই মালিক গ্রেপ্তার হলেও পলাতক সেই ভুয়া চিকিৎসক।
সর্বশেষ খবর
-
‘স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষে কেন বিদ্রোহী সাংসদ?’ কাকলিতে আপত্তি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের
-
কেন কালীঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির নামে সিম তুলেছিলেন সুমিত? নেপথ্যে বড় লেনদেন! তদন্তে পুলিশ
-
মেসি-ম্যাচে বঞ্চিত দর্শকদের শুভেন্দুর উপহার, উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার টিকিট মিলবে বিনামূল্যে
-
ভারতের লড়াইকে ‘বাহবা’ দিলেন ব্রাজিল কোচ, হেরে খালিদ দুষলেন মনঃসংযোগের অভাবকে
-
‘লেনিন, মার্কস, হো চি মিন, এরা কারা?’ রাস্তার নাম বদল নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী