ইতিমধ্যে জিআই তকমা পেয়েছে গোবিন্দভোগ চাল। কিন্তু সেই চালেই লুকিয়ে বিপদ! আসল গোবিন্দভোগের সঙ্গে মিশছে নকল গোবিন্দভোগ ‘সনম’। সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাসায়নিক সুগন্ধি। ক্রেতাদের নজর টানতেই মেশানো হচ্ছে এহেন ‘বিষ’। খালি চোখে বা শুঁকে তা ধরাই যাবে না আসল না নকল। এক শ্রেণির অসাধু রাইস মিল মালিক পূর্ব বর্ধমানের বিখ্যাত সুগন্ধি গোবিন্দভোগের সঙ্গে একইরকম দেখতে অসুগন্ধি, কম দামের চাল মিশিয়ে বাজারজাত করছে। কমদামে গোবিন্দভোগ বিক্রি করছেন তাঁরা। ফলে জেলার চাষিরা গোবিন্দভোগের ভালো দাম পাচ্ছেন না। আবার যে সব রাইস মিল প্রকৃত গোবিন্দভোগের কারবার করছেন তাঁরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তবে শুধু বাংলাতেও নয়, ভিনরাজ্যেও পাঠানো হচ্ছে ভেজাল গোবিন্দভোগ। কমদামে ও খারাপ গুণগত মানের জন্য বদনামও হচ্ছে বর্ধমানের গোবিন্দভোগের।
আরও পড়ুন:
চাষি শেখ আবিদ আলি বলেন, “বিহার আর উত্তরবঙ্গ থেকে সনম নামে একটা ধান এসে, যেটা ৯০ শতাংশ দেখতে গোবিন্দভোগ ধানের মতো। সেই ধান মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে গোবিন্দভোগ ধানে। পরে সেখানে সুগন্ধি মিশিয়ে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ফলে আমরা যে ধান ১১০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি সেটার কোনও দাম নেই। রাইস মিলাররা এভাবে অসাধু উপায়ে রোজগার করে নিচ্ছে।”
শস্যগোলা বলা হয় পূর্ব বর্ধমান জেলাকে। এই জেলার দক্ষিণ দামোদর এলাকা বলে পরিচিত রায়না-১ ও ২, খণ্ডঘোষ, জামালপুর ব্লক-সহ কিছু ব্লকে গোবিন্দভোগ ধানের চাষ হয়। সংলগ্ন বাঁকুড়া জেলার একাংশেও এই সুগন্ধী ধানের চাষ হয়ে থাকে। দক্ষিণভারতে এই গোবিন্দভোগ চালের ব্যাপক চাহিদা। কয়েকবছর আগে গোবিন্দভোগ জিআই তকমা পেয়েছে। তারপর চাহিদা আরও বেড়েছে। এদিকে, বেশি মুনাফার আশায় ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করছেন একশ্রেণির কারবারি। বেশি লাভের আশায় বর্ষায় উৎপাদিত গোবিন্দভোগ ধানের সঙ্গে বোরো মরশুমে উৎপাদিত ধান মিশিয়ে দিচ্ছে। বর্ষাকালে বা আমন মরশুমে উৎপাদিত গোবিন্দভোগের সুগন্ধ ও গুণগত মান ভালো। বোরো মরশুমে উৎপাদিত ধান একই রকম দেখতে হলেও থার গুণগত মান প্রকৃত গোবিন্দভোগের ধারেপাশে আসে না। আবার উত্তরবঙ্গে এবং বিহার, ঝাড়খণ্ডে ‘সনম’ নামের একধরনের চাল মেশানো হচ্ছে।
চাষি শেখ আবিদ আলি বলেন, “বিহার আর উত্তরবঙ্গ থেকে সনম নামে একটা ধান এসে, যেটা ৯০ শতাংশ দেখতে গোবিন্দভোগ ধানের মতো। সেই ধান মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে গোবিন্দভোগ ধানে। পরে সেখানে সুগন্ধি মিশিয়ে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ফলে আমরা যে ধান ১১০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি সেটার কোনও দাম নেই। রাইস মিলাররা এভাবে অসাধু উপায়ে রোজগার করে নিচ্ছে।” আর এক চাষি বংশী মালিক বলেন, ‘সনম বলে এই ধানটা থেকে চাল বের করে পালিশ করছে রাইস মিলাররা। সেখানে সুগন্ধি মিশিয়ে দিচ্ছে গোবিন্দভোগের সঙ্গে। সস্তার ওই ধান বেশি কিনছে। ফলে আমরা দাম পাচ্ছি না।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাইস মিল মালিক বলেন, “অসাধু রাইস মিল মালিকদের জন্য আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। ভেজাল মিশিয়ে কম দামে ওরা ভিনরাজ্যে গোবিন্দভোগ চাল পাঠাচ্ছে। ফলে আমরা যারা প্রকৃত গোবিন্দভোগের কারবার করি তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছি। আসল গোবিন্দভোগ কম দামে দেওয়া সম।ভব হচ্ছে না। ব্যবসা মার খাচ্ছে। সরকার নজর না দিলে মিল বন্ধ করে দিতে হবে।
সর্বশেষ খবর
-
বাড়ি ফিরতে চাননি! স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিড়ে নিল স্বামী
-
ফের ডিম খেলেন মহুয়া! তেহট্টে চরম বিক্ষোভের মুখে কৃষ্ণনগরের সাংসদ
-
টি-টোয়েন্টির ক্রমতালিকায় মগডালে দুই ভারতীয়, এশিয়াডের দল থেকে বাদ পড়েও উন্নতি বরুণের
-
কই গো, হ্যান্ডেলের মা প্যান্ডেল! কৌশানীকে নিয়ে আইটেম গানে রোম্যান্স ‘সোনামুখো’ শিবপ্রসাদের
-
উপনির্বাচনের সমীকরণ: ফের বঙ্গে ভোটরঙ্গ